॥দুঃখিনী রাজকন্যা মুঘল শাহজাদী, সুফীবাদী কবি জাহান আরা: জীবন দর্শন ও কাব্য ভাবনাঃ তিনশত ছয়ত্রিশ তম মৃত্যো বার্ষিকীর কামনা॥

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭, ১০:১১ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১৯ বার পঠিত

মুজিবুর রহমান মুজিব॥ তৈমুর বংশীয় বিশ^ বিখ্যাত সমর নায়ক, ওমর শেখ মির্জার সুযোগ্য সন্তান জহির উদ্দীন মোহাম্মদ বাবর পাকভারতের মুঘল স¤্রাজ্যের মহান প্রতিষ্টাতা। ওমর শেখ মির্জা মধ্য এশিয়ার ‘ফারগানা’ রাজ্যের অধিপতি ছিলেন। মুঘলদের ধমনীতে পৃথিবীর দুই মহাবীরের রক্ত প্রবাহিত। এই বীর দ্বয় হলেন মহাবীর তৈমুর এবং মহাবীর চেঙ্গিস খাঁন। মুঘল বাদশাহ শাহানশাহ-শাহজাদাগন পিতৃকুলের দিক দিয়ে মহাবীর তৈমুর এবং মাতৃকুলের দিক দিয়ে মহাবীর চেঙ্গিঁস খাঁর বংশধর। জন্মগতভাবেই মুঘলরা বীরের জাতি, যোদ্ধার জাতি। বুদ্ধিমত্তা, বাহুবল, রণনৈপুন্য ও রণকৌশলে দেশের পর দেশ জয় করেছেন মুঘল স¤্রাট-সেনানায়কগন। বসতি স্থাপন করেছেন, আবাদ করেছেন নতুন জনপদ। সৃষ্টি করেছেন ধর্ম ও জীবনমুখী কবিতা, শিল্প ও সংস্কৃতি। মুঘলরা গজনীর সুলতান মাহমুদ কিংবা হালাকু খাঁ-দের মত লুন্ঠনকারী ছিলেন না। মুঘলরা রাজ্য জয় করে ধন-সম্পদ লুন্ঠন করে স্বদেশে ফিরে যাননি। বরং বসবাস করেছেন সে দেশে। জড়িয়ে গেছেন মাটি ও মানুষের মায়ায়।
১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ফারগানার অধিপতি জহিরুদ্দীন মোহাম্মদ বাবর উপমহাদেশে মুঘল স¤্রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বাবরে আজম উপমহাদেশে মুঘল স¤্রাজ্যের প্রতিষ্টাতা হিসাবে ইতিহাসে নিজের স্থান করে নেন। কালক্রমে একদিন ভারতবর্ষ থেকে মুঘলশাসনের অবসান হলেও ভারত বিজেতা মুঘলরা একদিন চলে গেলেও এ দেশে যে সভ্যতা-সংস্কৃতি-কাব্য চর্চা চালু করেছিলেন তার রেশ ও স্মৃতিচিহ্ন এখনও পরিলক্ষিত হয় আমাদের ব্যাক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে। বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় একটি প্রবাদ বাক্য হর হামেশাই উচ্চারিত হয়-
“পড়েছি মুঘলের হাতে
খানা খেতে হবে একসাথে”।
তাছাড়া মোগলাই পরোটা মোগলাই খানা অভিজাতদের খাদ্য তালিকায় এখনও শীর্ষ স্থানীয়।
বীরের জাতি মুঘলরা যোদ্ধার জাতি এবং বীর যোদ্ধা হলেও তাঁরা হৃদয়হীন ছিলেন না। বরং ছিলেন হৃদয়বান। চিত্তবান। কোমল হৃদয়ের অধিকারী। মুঘলদের একহাতে তরবারি থাকলেও আরেক হাতে থাকত ফুল। গোলাপ ফুল। এ যেন কবির ভাষায়-
“মম একহাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আরেক হাতে রণতুর্ষ”।- এর মত।
ভারত স¤্রাট শাহজাহান কন্যা মুঘল শাহজাদী জাহান আরা মুঘল স¤্রাজ্যের শত শত বৎসরের ইতহাসে এমনি একটি ব্যাতিক্রমী নাম। এক বহুল আলোচিত কাব্য প্রতিভা। মুঘল হেরেমের প্রভাবশালী সদস্যা শাহজাদী জাহানআরা শাহী সুযোগ সুবিধা কিংবা বাদশাহী বিলাস ব্যসনে গা ভাসিয়া দেন নি। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে উড়ে বেড়ান নি। বরং সুফীবাদী ধ্যান ধারনার অনুসারী হিসেবে ‘চিশতিয়া তরিকায়’ দীক্ষা নিয়েছেন। মরমীবাদ- এর চর্চা করেছেন। সুফীবাদী কবি জাহান আরার সুফি তত্ত্ব সম্পর্কিত দু’খানা গ্রন্থ রয়েছে। গ্রন্থদ্বয় হল হযরত খাজা মঈন উদ্দীন চিশতি (র)- এর জীবনী ভিত্তিক ‘মুনিসুল আরওয়াহ’ এবং পীরে কামেলে মুন্না শাহ কাদরীর অসমাপ্ত জীবনী -‘সাহিরিয়া’। সুফীবাদী কবি শাহজাদী জাহান আরার বর্ননা অনুযায়ী তিনিই তৈমুর বংশীয় প্রথম মরমী কবি, যিনি সুফীবাদী ধ্যান-ধারণায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে মরমীবাদের চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
জাহান আরা, মুঘল গৌরব শাহজাদী জাহান আরা সুফীবাদী কবি জাহান আরা। জাহানআরা-র বঙ্গার্থ জগতের অলংকার। নাম রেখেছিলেন প্রিয় দাদু মুঘল স¤্রাট নুরুদ্দীন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। পিতা-প্রেমের সমাধি ‘তাজমহল’- এর রুপকার স¤্রাট শাহজাহান। মাতা আর্জুমান্দ বানু বেগম। মুঘল স¤্রাজ্যের অমর ইতিহাসে যিনি মমতাজ মহল-মমতাজ-ই-মহল- Chosen on the Palace নামে খ্যাতি ও প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। ১৬১৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ শে মার্চ পবিত্র আজমীর শরীফে মুঘল শাহজাদি জাহান আরার জন্ম। তখন মাতা মমতাজ মহল আজমীরে অবস্থান করছিলেন। পিতা শাহ্জাহান এবং স¤্রাজ্ঞ্যি মমতাজ মহলের প্রেমময় দাম্পত্য জীবন ১৯ বছরের। শাহজাহান-মমতাজের ১৯বছরের সুখময় দাম্পত্য জীবনের ফল ও ফসল ১৪ সন্তান। শাহজাদী জাহান আরা, শাহজাহান-মমতাজ দম্পত্তির দ্বিতীয় সন্তান। প্রথম সন্তান মুঘল ইতিহাসের বহুল আলোচিত ট্রাজেডির নায়ক, মুক্ত চিন্তার অধিকারী দার্শনিক দারাশিকো। কোন কোন লেখক শাহজাদা দারাকে ‘দারাশুকো’ বলেও উল্লেখ করেছেন। শাহজাদী জাহান আরার ভ্রাতা চতুষ্টয় হলেন-দারা, সুজা, আওরঙ্গজেব এবং মুরাদ। মুঘল যুগে সামন্তরীতি অনুযায়ী প্রথম শাহজাদা সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হতেন। স¤্রাট শাহজাহানের পুত্র চতুষ্টয়- এর মধ্যে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী নিয়ে গৃহবিবাদ ও মনোমালিন্য শুরু হয়। শাহজাদী জাহানআরা ভাবী মুঘল স¤্রাট হিসেবে জেষ্ট ভ্রাতা দার্শনিক দারাশিকোকে সমর্থন করেন। এই নিয়ে মুঘল শাহজাদা-শাহজাদীগনদের মধ্যে গ্রহবিবাদ ছিল। মুঘল শাহজাদী জাহান আরা ছিলেন সুন্দরী, গুনবতী, বিদুষী রমনী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যাক্তিগত জীবনে জাহান আরা ছিলেন এক দুঃখিনী রাজকন্যা। ছিলেন চির কুমারি। ব্যার্থ প্রেমের বেদনা তাঁকে আজীবন বয়ে চলতে হয়েছে। শাহজাদী জাহান আরার রূপে-গুনে মুগ্ধ হয়ে তাকে এক তরফাভাবে ভালোবেসে ফেলেন মুঘল আমত্য মির্জা শাহরুখ পুত্র নজবত খাঁন। মুঘল ঐতিহ্যানুসারে হেরেমে শাহজাদীদের প্রেম-ভালোবাসা, হৃদয়ের লেনাদেনা সম্পূর্ণরুপে বেআইনী, নিষিদ্ধ। অথচ মুঘল শাহজাদাদের প্রেম ভালোবাসা, বিয়ে-শাদী ছিল বেসুমার। শত শত নয় হাজার হাজার। কিন্তু শাহজাদীগনের প্রেম-ভালোবাসার সুযোগ না থাকলেও শাহজাদী জাহান আরা জড়িয়ে গেলেন প্রেম-ভালোবাসার বেড়াজালে। অনুমান করা হয়, নজবত খানের ভালোবাসা ছিল এক তরফা। কারণ, শাহজাদী জাহানআরা ভালোবাসতেন, দারুন পছন্দ করতেন পিতা স¤্রাট শাহজাহানের একান্ত অনুগত ও বিশ^স্থ রাজপুত্র বীর বুন্দিরাজ ছত্রশালকে। মুঘল হেরেমেই তাঁদের দৃষ্টি বিনিময় হত। কথা হত দু’নয়নে, নয়নে-নয়নে। জনশ্রুতি আছে শাহজাদীও রাজপুত বীরেরমধ্যে পত্রালাপ এবং উপহার বিনিময়ও হত। দুজনেই জানতেন মুঘল শাহজাদীর সঙ্গে কোন রাজপুত বীরের বিয়ে হতে পারে না। তবুও এই নিষিদ্ধ ভালোবাসায় ছিলেন দু’জনে দু’জনার। অথচ মুঘল স¤্রাট শাহজাদাদের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে একাধিক রাজপুত রমনীর। মানমতি-যোধাবাঈ প্রমুখ রাজপুত রমণীগন মুঘল হেরেমকে আলোকিত করেছেন। রাজ্য শাসন, রাজ্য পরিচালনায়ও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। শাহজাদী জাহান আরা-ছত্রশালের ইহজনমে শুভ মিলন সম্ভব নয় জেনেও তারা স্বপ্নের বাসর রচনায় মশগুল হয়ে রইলেন। শাহজাদা দারাশিকোর সমর্থনে পুনরায় জাহান আরাকে শাদীর পয়গাম পাঠান নজবত খাঁন। শাহজাদা দারা-ভগ্নি শাহজাদী জাহান আরাকে প্রভাবান্বিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু জাহান আরা নির্বিকার। চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেন শুভ বিবাহের প্রস্তাব। পরবর্তীকালে একদিন নজবত খানের তরবারির আঘাতে প্রাণ দেন রাজপুত্র বীর বুন্দিরাজ ছত্রিশাল। মুঘল-রাজপুতদের মধ্যে তখন বেশ সৌহার্দমূলক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকায় এই হত্যাকান্ডকে অনেক ঐতিহাসিক শাহজাদি জাহান আরাকে দায়ী করেন। শাহজাদী জাহান আরার আর বিয়ের বাজনা বাজেনি। বিয়ের পিড়িতে বসা হয়নি।
আরেকটি দুঃখজনক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক ইতিহাসবিদ শাহজাদী জাহান আরাকে, তাঁর অসুস্থতাকে একদরফা ভাবে দায়ী করেন। কিন্তু বিভিন্ন ত্যথমতে দেখা গেছে আণীত এই অভিযোগটি সত্য নয়। অভিযোগ ও কাহিনীটি হল ১৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে ২৬শে মার্চ মুঘল হেরেমে নৃত্য পরিবেশন করছিলেন গুয়ালিয়রের সেই সময়কার নামজাদী নর্তকী গুলরুখ। নর্তকী গুলরুখের গায়ে আগুন লেগে গেলে দয়াবতী জাহান আরা সামান্য নর্তকীর গায়ের আগুন নেভাতে আন্তরিকভাবে এগিয়ে যান। ফলতঃ অগ্নিদগ্ধ হন তিনি নিজেই। পেরেশান পিতা স¤্রাট শাহজাহান ছুটে আসেন কন্যার কাছে। ডাক্তার, কবিরাজ হেকিম দ্বারা অগ্নিদগ্ধ জাহান আরার চিকিৎসা চলে। অবশেষে জনৈক ক্রীতদাসের তৈরি মলম দ্বারা সেরে উঠেন শাহজাদী জাহান আরা। কোন কোন ঐতিহাসিক- এর মতে গেব্রিয়েল বাউটন নামক জনৈক ইংরেজ চিকিৎসকের চিকিৎসায় সুস্থ হন শাহজাদী জাহান আরা। স¤্রাট শাহজাহান ইংরেজ চিকিৎসক ব্রাউটনকে পুরস্কৃত করতে চাইলে দেশপ্রেমিক বাউটন নিজের জন্য কোন পুরস্কার বা ফি না চেয়ে বাংলাদেশে ইংরেজদের বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অনুমতি প্রার্থনা করলে স¤্রাট শাহজাহান তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। শেষের ইতিহাস জগৎবাসীর জানা। “ইংরেজ বণিকের মানদন্ড দেখা দিল রাজদন্ডরূপে- পোহালে শর্বরী”। ইস্ট ইন্ডয়া কোম্পানীর মাধ্যমে ভারতবর্ষে বাণিজ্য করতে এসে টানা দুইশত বৎসর চুটিয়ে ভারত শাসন করল ইংরেজ জাতি। দু’শ বছরের গোলামীর নেপথ্য কারন হিসাবে অনেক ঐতিহাসিক শাহজাদী জাহান আরার অসুখ এবং স¤্রাট শাহজাহানের কন্যা¯েœহের দুর্বলতাকেই দায়ী করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের গবেষনা ও তথ্য -তত্ত্ব মতে দেখা গেছে এই কাহিনীটি সত্য নয়। উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, গবেষক, শ্রদ্ধেও যদুনাথ সরকার ১৯১০ সালে আগষ্ট মাসে ‘মডার্ন রিভিউ’ পত্রিকায় শাহজাদী জাহান আরার অগ্নিদগ্ধ হওয়ার করুণ কাহিনী এবং প্রকৃত চিকিৎসকদের নামও প্রকাশ করেন। এতদসংক্রান্ত আরো তথ্য প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত ‘বেঙ্গল এশিয়াটিক সোসাইটির’ জার্নালে। উক্ত জার্নালে মৌ. আব্দুল ওলী ÔSurgeon Boughton and the grant privileges to the English Trader’ – শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রমাণ করেন ডা. বাউটন শাহজাদী জাহান আরার চিকিৎসাই করেন নি বিধায় বঙ্গদেশে বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার সুযোগ প্রাপ্তির তথ্যটি সত্য নয়।
দুঃখিনী রাজকন্যা জাহানআরার ব্যাক্তিগত জীবন, হেরেমের জীবন ছিল শুধুই দুঃখময়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মাতৃহারা হন শাহজাদী জাহান আরা। জাহান আরা যখন সপ্তদশ বর্ষীয়া কিশোরী যুবতী তখন তাঁর মাতা মুঘল স¤্রাজ্ঞ্যি মমতাজ মহল প্রাণ ত্যাগ করেন। প্রিয়তমা পতিœ মমতাজ মহলকে হারিয়ে পিতা মুঘল স¤্রাট শাহজাহান দিশেহারা, ভাষাহারা, নিস্তব্ধ, নির্বাক। ভ্রাত্রাচতুষ্টয় মসনদের লড়াইয়ে মশগুল। ভ্রাতৃঘাতি সংঘর্ষে লিপ্ত। ফলতঃ পিতৃ-মাতৃ-ভ্রাতৃ ¯েœহ থেকে বঞ্চিত দুঃখিনী রাজকন্যা জাহান আরা মনোকষ্টে মুসড়ে পড়েন। মুঘল সিংহাসনের দাবীতে অটল স¤্রাট শাহজাহানের তৃতীয় পুত্র আওরঙ্গজেব ভ্রাতৃঘাতি সংঘর্ষে লিপ্ত হন। যুদ্ধ ঘোষনা করেন জেষ্ট ভ্রাতা দারাশিকোর বিরুদ্ধে। যুদ্ধে শাহজাদা দারা পরাজিত ও নিহত হন। আওরঙ্গজেব বৃদ্ধ পিতা মুঘল স¤্রাট শাহজাহানকে আগ্রার দূর্গে বন্দী করে মুঘল সিংহাসনে আরোহণ করেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্থাপত্য কলার উদার পৃষ্টপোষক স¤্রাট শাহজাহান আগ্রা দুর্গে বন্দী অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। নজরবন্দী শাহজাহান আগ্রা দূর্গে বন্দী অবস্থায় প্রাসাদ থেকে অদূরে অবস্থিত আগ্রার তাজমহলের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ^াস ত্যাগ করতেন। মুঘল স¤্রাট শাহজাহানের বন্দী জীবনের করুন চিত্র ফুটে উঠেছে নাট্য স¤্রাট ডি.এল রায়ের “শাহজাহান” নাটকে। স¤্রাট শাহজাহানের বন্দীদশার নিঃসঙ্গ জীবনে শুধুমাত্র শাহজাদী জাহানআরা পিতার সেবা যতœ, দেখ-ভাল করেছেন। শাহজাদী জাহান আরার অপূর্ব পিতৃভক্তি শুধুমাত্র মুঘল সালতানাত নয়, পাক-ভারত উপমহাদেশের ইতহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। স্মরনীয় অধ্যায়। পিতা স¤্রাট শাহজাহানও অত্যধিক ¯েœহ করতেন প্রিয় কন্যা জাহানআরাকে। এক পুত্র করলেন এক বৃদ্ধ পিতকে বন্দী। আর এক কন্যা আজীবন সেবাযতœ করলেন সেই বন্দী বৃদ্ধ পিতাকে। মুঘল শাহীর ইতিহাসে মুঘল গৌরব, জগতের অলংকার শাহজাদী জাহান আরার পিতৃভক্তি, ত্যাগ-তিতিক্ষা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট ও দৃঢ়তা, মরমীবাদী ধ্যান ধারণা, কাব্যচর্চা ও জীবন দর্শনের তেমন কোন মূল্যায়ন করেননি কোন ঐতিহাসিক-ইতিহাসবিদ গবেষকগন। অথচ জাহান আরার কনিষ্ট ভ্রাতা শাহজাদা আওরঙ্গজেব ক্ষমতার লোভে মত্ত হয়ে আপন জেষ্ট ভ্রাতা শাহজাদা দারাশিকোর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারন করেন। জ্যেষ্ট ভ্রাতার সঙ্গে বে-আদবি করেন। শেষে হত্যাও করেন। সিয়হাসনের জন্য পিতা শাহজাহানকে আজীবনের জন্য গৃহবন্দী করেন শাহজাদা আওরঙ্গজেব। অথচ এমনি বে-আদবও বদ তমিজ শাহজাদা মুঘলদের ইতিহাসে সব চাইতে ধর্মপ্রাণ, ইসলাম প্রিয় শাসক বেং “জিন্দাপীর আলমগীর” হিসাবে খ্যাতি ও স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
জ্যেষ্ট ভ্রাতাকে হত্য এবং পিতাকে গৃহবন্দী করে দিল্লির মুঘল সিংহাসন আরোহন করেন শাহজাদী জাহান আরার কনিষ্ট ভ্রাতা আওরঙ্গজেব। সিংহাসনের লড়াইয়ে শাহজাদা আওরঙ্গজেব – এর সমর্থক ছিলেন না শাহজদাী জাহান আরা। তবুও নতুন মুঘল স¤্রাট আলমগীর আওরঙ্গজেব শাহজাদী জাহান আরার সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরন করেছেন। সম্মানিত করেছেন। অভিষেকের দিনই জাহান আরাকে উঢৌকন দেন চৌদ্দ লক্ষ্য টাকা মূল্যের স্বর্ণপিন্ড। বার্ষিক ভাতা বাড়িয়ে সতেরো লাখ টাকায় উন্নীত করেন। নতুন স¤্রাটের আদেশে দিবসের শুভ সূচনায় প্রত্যহ প্রত্যুষে রাজন্য ও অমাত্যগন শাহজাদী জাহান আরাকে কুর্নিশ করে আসতেন। স¤্রাজ্ঞ্যি না হয়েও জাহান আরা হলেন মুঘল হেরেমের কতৃত্বময় কর্ত্রী ‘বেগম সাহিব’। পরবর্তী পর্যায়ে এই মুঘল শাহজাদী সর্ব্বোচ্চ পদমর্যাদা ‘পাদিশা বেগম’ সম্মানজনক খেতাবে ভূষিত হন। এসব প্রাপ্তি ও পদ মর্যাদা নতুন মুঘল স¤্রাট আওরঙ্গজেব – এর করুনা ও দয়ারদান ছিলনা, বরং সুফিবাদী কবি জগতের অলংকার জাহান আরার ব্যাক্তিত্ব, ধর্ম ও কাব্যকলায় অগাধ পান্ডিত্য এবং মুঘল শাহীর পদস্থ কর্তাও হেরেমে বিপুল জনপ্রিয়তাই ছিল এর মূল কারন। না হয় সিংহাসনের লোভে লালসায় মুঘল শাহজাদা আওরঙ্গজেব সহোদরের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেছেন। বৃদ্ধ পিতার বিরুদ্ধাচারণ করে গৃহবন্দী করেছেন সেখানে এক শাহজাদী জাহান আরার শিরোচ্ছেদ কোন কঠিন কাজ ছিল না।
মুঘল স¤্রাট আওরঙ্গজেব- এর আমলে প্রাপ্ত এতসব শাহী সুযোগ সুবিধা উপভোগ করেননি, দুঃখিনি রাজকন্যা কবি জাহান আরা। আজীবন দুঃখই তাকেঁ তাড়া করেছে। কৈশোরে মাতৃবিয়োগ, যৌবনে ব্যার্থ প্রেম, জীবনে জ্যেষ্ট ভ্রাতা দারাশিকোর পরাজয় ও মৃত্যু, পিতা মুঘল স¤্রাট শাহজাহানের করুণ পরিনতিতে একবারেই বেঙ্গে পড়েন। অগ্নিদগ্ধ শরিরের ক্ষত শুকালেও নিঃসঙ্গ শাহজাদী জাহান আরা আজীবন যে মনের কষ্ট, মর্ম বেদনা পেয়েছেন তা নিরাময়ের কোন উপায় ও ঔষধ ছিলনা। মরমীবাদ ও কাব্য চর্চাতেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন চির শান্তি। প্রবন্ধকে যদি বলা হয় মৌলিক চিন্তার ফল ও ফসল তাহলে নিঃসন্দেহেই কবিতাকে যথার্থভাবেই বলা হয়েছে- হৃদয়ের রক্তক্ষরণ ÒBlood shed ” মুঘল স¤্রাট শাহজাদা-শাহজাদীগনও যুগে যুগে কালে কালে কালোত্তীর্ণ কাব্যচর্চা করেছেন-হৃদয়ের রক্তক্ষরন ঘটিয়েচন। শাহজাদী জাহান আরার উত্তর পুরুষ শেষ মুঘল স¤্রাট বাহাদুর শাহ জাফর কাব্য চর্চা করে শুধু মুঘল বংশ নয়, সর্বকালের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন। ১৮৫৭ সালের সিপাহী ‘বিদ্রোহ’ হিসাবে খ্যাত ভারতের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের ব্যার্থ নায়ক আশিতপর বৃদ্ধ মুঘল শাসক বাহাদুর শাহ জাফর রাজ্য-সিহাসন সব হারিয়ে যখন দিল্লির লাল কেল্লায় ইংরেজদের হাতে বন্দী তখনও কাব্য চর্চা ছাড়েনি মহাকবি বাহাদুর শাহ জাফর। রাজধানী রেঙ্গুনে সমাহিত হন তৈমুর বশীয় শেষ মুঘল স¤্রাট বাহাদুর শাহজাফর। নিষ্ঠুর ও বর্বর ইয়রেজরা ভারত স¤্রাটকে ভারতের মাটিতে, তাঁর জন্মভূমি, পিতৃভূমিতে দাফনকাফনের জন্য দু’গজ জমিন দেয়নি। মৃত্যোর পূর্বেই হতভাগ্য মুঘলস¤্রাট কবি বাহাদুর শাহজাফর লিখলেন কালোত্তীর্ণ কবিতা -ট্রাজেডির মহাকাব্য-
“কিতনা বদ নসীব হ্যায় তু জাফর দাফন কি লিয়ে
দো’গজ জমিন মিলনাসাকে কুওয়ে ইয়ার মে।”
মরমীবাদী কবি জাহান আরাও তাঁর জীবদ্দশায়ই লিখলেন কালোত্তীর্ণ ট্রাজিক কবিতা
“বাগায়ের সব্জ না পোশদ কাসেমজারে মরা
কে কবর-পোষে গরিবী হামিন গিয়া বস্ অস্ত।”
ফার্সি ও পুস্ত ভাষায় পারদর্শী ছিলেন শাহজাদী জাহান আরা। ফার্সি এককালে প্রসিদ্ধ ভাষা ছিল। ইরান ও ভারতের রাজ ভাষা ছিল ফার্সি। ফার্সি সাহিত্যও ছিল খুবই সমৃদ্ধশালী। মহাকবি ফেরদৌসির ক্লাসিক মহাকাব্য ‘শাহনামা’- ও ছিল ফার্সি ভাষায় রচিত। কবি জাহান আরার উল্লেখিত কবিতার চরণ দুটির বঙ্গানুবাদ -“তৃনগুচ্ছ ছাড়া আমার সমাধির উপর কোন আস্তরন কর না। এই তৃন গুচ্ছই হোক অবমানিতার সমাধির আস্তরন।” একাকিত্ব, মর্মবেদনা তাকে মৃত্যুর পথে ধাবিত করে। জগতের অলংকার শাহজাদী জাহান আরা বড় অসময়ে মৃত্যুর সঙ্গে আলিঙ্গন করেন। জাহান আরার জীবন প্রদীপ নিভে যায় ১৬৮১ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর। শোকাহত শোকস্থব্ধ হলেন মুঘল হেরেম, মুঘল শাহীর সকল শ্রেনীর মানুষ। জাহান আরার শোখ ও সম্মানে তিন দিন দিল্লিতে শাহী নহবত বাজানো বন্ধ রাখা হল। মুঘল স¤্রাট আওরঙ্গজেব শাহজাদী জাহান আরাকে মরনোত্তর উপাধি দিলেন-‘সহিবত-ইজ-জামানী’ মুঘল স¤্রাজ্ঞ্যি হিসাবে। দিল্লির বিখ্যাত আউলিয়া হযরত শেখ নিজাম উদ্দিনের মাজার শরীফ প্রাঙ্গঁনে তাঁকে কবরস্থ করা হয়। জন্ম ও মৃত্যুতে বড়ই সৌভাগ্যবতী দুঃখিনী রাজকন্যা শাহজাদী জাহান আরা। তার জন্ম হয় আজমিরে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত পীরে কামেল খাজা গরীবে নেওয়াজ মঈনউদ্দীন চিশতির পূন্য ভূমি আজমীরে। খাজা বাবার আজমীরে। আর সমাহিত হলেন আরেক আউলিয়ার মাজার প্রাঙ্গঁনে। শাহজাদী জাহান আরার যাপিত মানবজীবন মর্মপীড়া ও মর্মবেদনার হলেও তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর স্থান দুটি গর্ব ও গৌরবের।
দুঃখিনী রাজকন্যা জাহান আরার পিতা-মাতা চির শয়ানে আছেন আগ্রায়। পিতা-মাতার সমাধি সৌধ স¤্রাট শাহজাহানের স্বপ্ন শতদল-প্রেমের সমাধি ‘তাজমহল। ‘তাজমহল’ এখনও বিশে^র বিস্ময়। পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের এক আশ্চর্য হয়ে বিশ^ পর্যটকদের ঐতিহ্য সন্ধানী অনুসন্ধানী ইতিহাসবিদদের কেন্দ্রবিন্দু। কেন্দ্রভূমি। শাহজাদী জাহান আরা এক্ষেত্রেও পিতা-মাতার সান্যিধ্য থেকে অনেক দূরে। কিন্তু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে শাহজাদী জাহান আরার নিরাভরণ গোরস্থানের গুরুত্ব কম নয়। পৃথিবীর ধর্মপ্রাণ মুসলমান গন খাজা বাবার মাজার জিয়ারতে দিল্লি থেকে আজমীর যাবার প্রাক্কালে হযরত নিজাম উদ্দীন আউলিয়া এবং হযরত কুতুব উদ্দীন বখতিয়ার কাকির মাজার জিয়ারত করেন। রওজা শরীফ, মাজার, কবর জিয়ারত সওয়াবের কাজ। জিয়ারতে গেলে মানুষের মৃত্যুভীতি আসে। অনাদি অনন্ত-মহাকাল-পরকালের কথা মনে হয়। মনে শান্তি, স্বস্তি ও তৃপ্তি পাওয়া যায়। মহান আল্লাহর অপার মেহেরবানীতে, আল্লাহর বাড়ি বায়তুল্লা শরীফে লাব্বায়েক-লাব্বায়েক- আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক বলে হাজিরা দিয়েছি। মানব জনম ধন্য করেছ্ িধন্য হয়েছি। পবিত্র মদীনা মনোওয়ারাতে মহানবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (দ) এর রওজা শরীফে দাড়িয়ে- “ ইয়া নবী সালাম আলাইকা, ইয়া রসুল সালাম আলাইকা-” বলে মনের আশা পূর্ণ করেছি। মানব জীবন ধন্য করেছি।
বাংলাদেশে বিদ্যমান মাজার সমূহরে মধ্যে আমাদের সিলেট শাহ মোস্তফা, শাহজালাল, ঢাকায় হাই কোর্টের মাজার, মীরপুরে শাহ আলী বোগদাদী সাহেবের মাজার, চট্টগ্রামে শাহ আমানত, মাইজভান্ডার শরীফের মাজার জিয়ারত এবং হযরত বায়জীদ বোস্তামীর এবাদতের স্থান ‘হোজরা খানায়’ সালাম জানিয়েছি, সম্মান প্রদর্শনকরেছি। মানসিক প্রশান্তি পেয়েছি। মহান আল্লাহর মেহেরবানীতে ভারতবর্ষ, আজমীর যাবার সুযোগ হয়েছে। নিয়ত ছিল গরীবে নেওয়াজ খাজা বাবার মাজার জিয়ারত। বিগত দশকে অনুজ প্রতীম ইঞ্জিনিয়ার মনসুরুজ্জামান সহ একদল পর্যটক আমরা ভারতবর্ষ ভ্রমণ করি। দিল্লি থেকে আজমীর যাবার প্রাক্কালে হযরত শেখ নিজাম উদ্দীন আউলিয়ার মাজার জিয়ারত করি। দিল্লীর অদূরেই মাজারের অবস্থান। মাজার পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত মোতাওয়াল্লি কর্মচারীগন আমাদের সঙ্গে টাকা পয়সার জন্য টানাপার্টির মত অসৌজন্যমূলক আচরন করেন। তাদের চাহিদা মত টাকা-পয়সা না দেয়ায় আমাদেরকে “বাঙ্গালকা ফকির”- বলে ভৎসনা করেন। ফলতঃ ভালোভাবে মাজার জিয়ারত, দোয়া-দরুদ পাঠ, এবাদত-বন্দেগী এবং পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে সবকিছু দেখা, শেখা ও জানা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। সম্ভব হয়নি কবি জাহান আরার কবর গাহে ফুল দেয়া কিংবা কোন দোয়া দরুদ পাঠ। দুঃখিনী মুঘল শাহজাদী সুফিবাদী কবি জাহান আরা মৃত্যুর পূর্বে মুঘলদের রেওয়াজ অনুযায়ী কোন সমাধি সৌধ কিংবা ‘মকবারা’ নির্মান করেন নি। বরং ইচ্ছা প্রকাশ করে গেছেন, হৃদয়ের রক্তক্ষরন করিয়ে লিখে গেছেন তার সমাধির উপর যেন কোন স্মৃতিসৌধ নির্মান করা না হয়। বরং কবি জাহান আরা ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তৃণগুচ্ছই যেন হয় তার সমাধির আস্তরণ। দিল্লীর আবহাওয়া, জলবায়ু এবং ভূ-প্রকৃতি সম্বন্ধে আমার ব্যাপক ধারনা নেই। আমি ভূ-তত্ববিদ কিংবা মৃত্তিকা বিজ্ঞানীও নই। তবে স্বল্পকালীন সফরে যা দেখেছি, অল্প লেখাপড়ায় যা জেনেছি তাতে বুঝেছি ধূূসর দিল্লীর আবহাওয়া, জলবায়ু শুষ্ক। আমাদের বাংলাদেশের মত কোমল মাটি ও সবুজের শ্যামলিমা নেই। সবুজ ছায়া নেই। থাকলেও হলে সবুজ ঘাসের মসৃণ গালিচা শাহজাদী জাহান আরার কবর গাহকে জড়িয়ে রাখতো। জানিনা শাহজাদী জাহান আরার কবর গাহে সবুজের সমারোহ আছে কিনা। ঘাসের গালিচা জড়িয়ে ধরেছে কি না। অপরপ কোন ঘাসফুল ফুটেছে কিনা। তবে প্রশান্তি এই, দুঃখিনী এই রাজকন্যার পাশেই চির শয়ানে শায়িত আছেন উপমহাদেশের এক মশহুর পীরে কামেল। সর্বকালের এক সর্ব শ্রেষ্ঠ আউলিয়া। শেখ নিজাম উদ্দীন আউলিয়া (র)। মুঘল স¤্রাজ্যের পতন হলেও পীর-আউলিয়াগণ দো’জাহানের স¤্রাট। তাদের উত্থান হলে, স্বীকৃতি পেলে আর পতন নেই রোজ কিয়াম পযন্ত।
রোজ কিয়ামত পর্যন্ত ধর্মপ্রান মুসলমানগন ‘আসসালামু আলাইকুম ইয়াহুলাল কুবরি, ইয়া অলি আল্লাহ’ বলে অলির মাজার জিয়ারত করবেন, অমুসলমানগন পুষ্প স্তবক দিয়ে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাবেন আর সেখানেও সওয়াবের ভাগ থেকে বঞ্চিত হবেন না শাহজাদী জাহান আরা, কবি জাহান আরা।
জগতের অলংকার মুঘল গৌরব, দুঃখিনী রাজকন্যা, সুফীবাদী কবি জাহান আরার উজ্জল স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। এবার সেপ্টেম্বর মাসে তার মৃত্যুর তিনশত ছয়তিশ বৎসর পূর্ন হল। তাঁর মৃত্যো বাষিকীতে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
[ষাটের দশকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র। সত্তোর দশকে ইতিহাসের কলেজ শিক্ষক। সিনিওর এডভোকেট হাই কোর্ট। সাবেক সভাপতি মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব। মুক্তিযোদ্ধা]

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন