আজ মৌলভীবাজারে ৭টি উপজেলা নির্বাচন নিরুত্তাপ ভোটে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে কৌতুহল

মার্চ ১৭, ২০১৯, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৪৮ বার পঠিত

ইমাদ উদ দীন॥ আজ ভোট। কিন্তু প্রচারণার শুরুর দিন থেকে ভোটের আগের দিন রাত পর্যন্ত ভোট নিয়ে ভোটারদের তেমন উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়নি মাঠে। এজেলার ৭টি উপজেলার অধিকাংশতে ছিল এমন দৃশ্য। প্রতীক বরাদ্ধের পর থেকে জেলার সবক’টি উপজেলা জুড়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা থাকলেও ছিলনা নির্বাচনী আমেজ। প্রার্থী আর কর্মীদের দৌড়যাঁপ লক্ষণীয় হলেও ভোটাররা ছিলেন নীরব। প্রচার প্রচরণার শেষ দিন পর্যন্তও চোখে পড়েনী ভোটের  আমেজ। জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ২-১ একটি উপজেলায় প্রার্থীদের ভীড়ে ভোট আর প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হলেও জমেনী ভোটের মাঠ। তাই ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের কৌতুহলের শেষ নেই। ভোটের কাস্টিং পারসেন্টিজ কেমন হবে। ভোট কেন্দ্রে গেল নির্বাচনের মত কোন হামলা মামলা হবে কিনা বরং এমন বিষয় আর শঙ্কা নিয়ে সর্বমহলে নানা কৌতুহল আর আলোচনা সমালোচনা।

প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এবারের ৫ম উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এর প্রভাব পড়ে স্থানীয় পর্যায়ে। মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলায় রাত পোহালেই দ্বিতীয় দাপে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ছিল প্রচারণার শেষ সময়। তাই শেষ সময়ে ভোটারদের মন জয় করতে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন প্রার্থীরা। তারপরও ভোটারদের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি রাত পর্যন্ত। বিএনপি বা অন্যদলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকায় জেলার সব উপজেলায়ই ভোটের আমেজ তেমনটা জমে উঠেনি বলে ধারনা স্থানীয় সচেতন মহলের।

৭টি উপজেলার মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নির্বাচনের হাওয়া যেন একেবারেই নীরব। এই উপজেলায় আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. কামাল হোসেন চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাই ওই উপজেলায় নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আগ্রহ অনেকটা নেই বললেই চলে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ভাইস-চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন হাফিজ আলাউর রহমান টিপু (চশমা) ও সাবেক ভিপি আব্দুল মতিন (বাল্ব)।

মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন শাহীন রহমান (পদ্মফুল), মিতা ভূইয়া (ফুটবল), মিলি আছিয়া রহমান (প্রজাপতি), রাশিদা খান (কলস)। চেয়ারম্যান পদে অন্য ৬টি উপজেলায় ভোটে লড়ছেন যারা। রাজনগর উপজেলায় আ.লীগের আছকির খান,এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন চৌধুরী, আলহাজ্ব মিছবাহুদ্দোজা (ভেলাই), সাতির মিয়া, শাহজান খান।

কুলাউড়া: আ.স.ম কামরুল ইসলাম,একে এম শফি আহমদ সলমান, নবাব আলী নকি খান। কমলগঞ্জ: অধ্যাপক রফিকুর রহমান, ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল ও ওয়ার্কার্স পার্টির আব্দুল আহাদ মিনার। জুড়ী: গুলশান আরা মিলি, এম এ মুহিত ফারুক ও কিশোর রায় চৌধুরী মনি।

বড়লেখা: রফিকুল ইসলাম সুন্দর, মুহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন, সোয়েব আহমদ। শ্রীমঙ্গল:  রনধীর কুমার দেব,আফজল হক  ও আব্দুল কাইয়ুম। এই জেলার ৭টি উপজেলার ৫টি পৌরসভা ও ৬৭টি ইউনিয়নে মোট ১২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৭১ জন ভোটার রয়েছেন। মোট ভোট কেন্দ্র ৫১৯ টি। মৌলভীবাজার ৭টি উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ২০ জন। ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) ৩৫ ও ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) ২৮ জন প্রার্থী সহ ৮৩ জন প্রার্থী। জেলার ৭ উপজেলার মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা, জুড়ী ও বড়লেখার রির্টানিং অফিসারের দ্বায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আশরাফুর রহমান।

অপর দিকে শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়ার রির্টানিং অফিসারের দ্বায়িত্বে রয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুরুল হক। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য হুশিয়ারী দিয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল। তিনি নুন্যতম অন্যায় ও কারচুপিকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”