আদালতের স্থিতাবস্থা জারিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন : হাকালুকির হাওরখাল বিল থেকে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগ

ডিসেম্বর ৮, ২০১৮, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৪০ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ হাকালুকি হাওরের সর্ববৃহৎ মৎস্যভান্ডার হাওরখাল বিলের ইজারার ব্যাপারে মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের স্থিতাদেশকে অবজ্ঞা করে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মাধবকু- মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি অবৈধভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, হাকালুকি হাওরের গুটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) জলমহালটি ১৪২২ বাংলা থেকে ১৪২৭ বাংলা সন পর্যন্ত বার্ষিক ৭২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা খাজনায় সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ইজারা দিতে ভুমি মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। কিন্তু ভুমি মন্ত্রণালয় জলমহালটি পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির অনুকুলে ইজারার আদেশ জারি করে। নীতিমালা পরিপন্থী এ ইজারা আদেশের বিরুদ্ধে দরখাস্তকারী সমিতি হাইকোর্টে রীট পিটিশন করে। শুনানী শেষে বিজ্ঞ হাইকোর্ট ইজারা আদেশ বাতিল করে রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বড়লেখা ও ফেঞ্চুগঞ্জের প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি গত শুষ্ক মৌসুমে রাতের আধারে লাখ লাখ টাকার মাছ লুট করে। এদিকে নীতিমালা বর্হিভুতভাবে ভুমি মন্ত্রণালয় মাধবকু- মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ১৪২৪ বাংলা থেকে ২৪২৯ বাংলা পর্যন্ত ৫ বছরের জন্য জলমহালটি ইজারা প্রদানের আদেশ জারি করে। নীতিমালা পরিপন্থী এ আদেশের বিরুদ্ধেও সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি সুপ্রীমকোর্টে রীট মামলা দায়ের করেন (রীট নং-১৫৬১/২০১৮)। এদিকে মাধবকু- মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিও সুপ্রীমকোর্টে লিভ টু আপিল মামলা দায়ের করে। বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা জারি করে সুপ্রীমকোর্ট উভয় মামলা একত্রিত করে বিচারের জন্য হাইকোর্টে প্রেরণ করেন। কিন্তু আদালতের এ স্থিতাদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মাধবকু- মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি সালাম উদ্দিন নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ৭-৮টি নৌকায় ৪০-৫০ জন জেলে নিয়ে প্রতিদিন ২-৩ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করেছে।
এ ব্যাপারে সালাম উদ্দিন জানান, তিনি মাছ ধরছেন না বিল পাহারা দিচ্ছেন। সরকারী সম্পদ পাহারা দেয়া দোষের কিছু নয়।
বড়লেখা ইউএনও মো. সুহেল মাহমুদ জানান, সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন এব্যাপারে সম্প্রতি তার কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিনি সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) নির্দেশ দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”