উপজেলা নির্বাচন ২০১৯, যারা ৭ উপজেলা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন

মার্চ ২৪, ২০১৯, ৮:৩২ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১৬৯ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাচনে কামাল, টিপু ও শাহিন নির্বাচিত
চেয়ারম্যন পদে একক প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার চেম্বারের সভাপতি, আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোঃ কামাল হোসেন (নৌকা) বিনা প্রতিদন্ধিতায় বিজয়ী ঘোষনা করা হয়।
ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে আলউর রহমান টিপু চশমা প্রতীক নিয়ে ২৩ হাজার ৭শ ৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদন্ধি আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মতিন বৈদ্যুদিক ভাল্ব নিয়ে মোট ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ২ শত ২৭ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে শাহিন রহমান ১২ হাজার ৯শত ৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদন্ধি মিলি আছিয়া রহমান পেয়েছেন ১০ হাজার ২৭ ভোট, রাশিদা খান পেয়েছেন ৩ হাজার ৪ শত ৩৩ ভোট ও মিতা ভুঁইয়া তানিয়া পেয়েছেন ৪ হাজার ২ শত ২৯ ভোট।
সদর উপজেলায় পৌরসভা সংখ্যা-১ ইউনিয়ন সংখ্যা-১২, ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা মোট-১০৪, ভোট কক্ষের সংখ্যা মোট-৬৫৫, ভোটার সংখ্যা : পুরুষ-১১৮৯৪২, মহিলা : ১১৫৬৫৮, মোট : ২,৩৪,৬০০ জন। মোট ভোটারের ৩১ হাজার ৬ শত ২১ ভোট পড়েছে। ভোটাররা ১৩.৪৮ ভাগ ভোটার।
বড়লেখায় উপজেলা নির্বাচনে সোয়েব, তাজ ও রাহেনা নির্বাচিত
বড়লেখায় আ’লীগের বিদ্রোহী ও বড়লেখা সদর ইউনিয়নের দুইবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী সোয়েব আহমদ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি উপজেলার ৬১টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত বে-সরকারী ফলাফল অনুযায়ী (ঘোড়া) নিয়ে পেয়েছেন ৪২,৭৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদন্ধি আ’লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দরের (নৌকা) নিয়ে পেয়েছেন ১৭,৪৯৪ ভোট, মুক্তিযুদ্ধা মোঃ সিরাজ উদ্দিন (মটর সাইকেল) প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৯৫৬২।
ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন (টিয়া পাখি) নিয়ে ২৪ হাজার ৯শ ৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদন্ধি মোঃ আব্দুল নুর (তালা) নিয়ে মোট ভোট পেয়েছেন ২৪ হাজার ৮ শত ১৬ ভোট ও বিবেকানন্দ দাস (টিউবয়েল) ১৪ হাজার ৪শ ২৬ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে রাহেনা বেগম (পদ্মফুল) ২৩ হাজার ৭শত ৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদন্ধি মুন্না আক্তার মনি (ফুটবল) পেয়েছেন ১৪ হাজার ৩শ ১৮ ভোট।
জুড়ীর উপজেলা নির্বাচনে ফারুক, রিংকু ও রঞ্জিতা নির্বাচিতজুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দেবর ও মুক্তিযোদ্ধা এমএ মোঈদ ফারুক।
তিনি হল্যান্ড আ’লীগের সভাপতি। উপজেলার ৪১টি ভোট কেন্দ্রের বে-সরকারী ফলাফল অনুযায়ী তার প্রাপ্ত ভোট ২৫,০০১। এ উপজেলায় জুড়ীতে আ’লীগ মনোনিত প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ভাবী গোলশান আরা চৌধুরী মিলির ভরাডুবি হয়েছে।
এমএ মোঈদ ফারুক এর নিকটতম প্রতিদন্ধি আ’লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ২০,০৬৬।
জুড়ীতে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন যুবলীগ নেতা রিংকু রঞ্জন দাস। ৪১টি ভোট কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী তার টিউবওয়েল প্রতীকের প্রাপ্ত ভোট ১৫৪২৬।
এদিকে প্রজাপতি প্রতীক নিয়ে প্রতিদন্ধিতা করে ২৩,৩৮৩ ভোট পেয়ে বে-সরকারীভাবে দ্বিতীয় বারের মত নারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রঞ্জিতা শর্ম্মা।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে রফিকুর, রামভজন ও বিলকিস নির্বাচিত

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩য় বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোঃ রফিকুর রহমান।
নৌকা প্রতীক নিয়ে রফিকুর রহমান ৪৯ হাজার ১৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদন্ধি সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ ড. মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি’র ছোট ভাই আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ (বুলবুল) আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫০ ভোট। বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আহাদ মিনার হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৬৫ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী টিবওয়েল প্রতীক নিয়ে ৩১ হাজার ১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দি বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিদ্দেক আলী তালা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৭৭৯ ভোট। এছাড়া শাব্বির এলাহী চশমা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৬৮ ভোট ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আব্দুল মুয়ীন (ফারুক) মাইক প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮ হাজার ১৮২ ভোট।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষিকা বিলকিস বেগম পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে ৩৮ হাজার ৭৩৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম একমাত্র প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বহিষ্কৃত বিএনপি নেত্রী পারভীন আক্তার লিলি ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৩৫৪ ভোট।
মোট ১ লক্ষ ৭৯ হাজার ৪০০ ভোটের মধ্যে নির্বাচনে মোট ৭০ হাজার ৯৪৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট প্রদানের হার শতকরা ৪০ ভাগ।
শ্রীমঙ্গলে উপজেলা নির্বাচনে রনধীর, হাজরা ও মিতালীর জয়চেয়ারম্যান পদে নৌকা মার্কা প্রতীক নিয়ে ৩য় বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন রনধীর কুমার দেব। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে মোট ভোট পেয়েছেন ৫১,৪৮২। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী আফজল হক আনারস প্রতীক নিয়ে মোট ভোট পেয়েছেন ১৪,৪৩৮।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে তালা মার্কা প্রতীক নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জয়লাভ করেছেন প্রেমসাগর হাজরা। তালা প্রতীক নিয়ে সাগর হাজরা মোট ভোট পেয়েছেন ৩১,৮২৯। তাঁর নিকটতম প্রতিন্ধী লিটন আহমেদ টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১২,৪৬১ ভোট।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্ম ফুল প্রতীক নিয়ে মিতালী দত্ত নির্বাচিত হয়েছেন। মিতালী পদ্ম ফুল প্রতীক নিয়ে মোট ভোট পেয়েছেন ২৮,৭৬৯। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী হাজেরা খাতুন হাঁস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২০,৮৬৮ ভোট।
উল্লেখ্য, সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৮০টি ভোট কেন্দ্রের ৫৫১টি বুথে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ছিলো ২,১৯,৫৫০।
কুলাউড়ায় উপজেলা নির্বাচনে সলমান, সাহেদ ও পপি নির্বাচিতকুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কাদিপুর ইউনিয়নের সাবেক তিনবারের চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে ৫৪ হাজার ৫২৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদন্ধি আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম পেয়েছেন ২৪ হাজার ১৬৯ ভোট। এছাড়াও আরেক প্রতিদন্ধি স্বতন্ত্র প্রার্থী পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নবাব আলী নকী খান দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ০১২ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে কুলাউড়া উপজেলা আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ’র সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক খান সাহেদ বই প্রতীকে ৩৫ হাজার ৭২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি উপজেলা শ্রমীকলীগের সাধারণ সম্পাদক আহবাব হোসেন রাসেল টিউবওয়েল প্রতীকে পেয়েছেন ২১ হাজার ১৪৮ ভোট। এছাড়াও প্রতিদন্ধি প্রার্থীদের মধ্যে লংলা চা-বাগানের রাজ কুমার কালওয়ার চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ৭৪৫ ভোট, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও কুলাউড়া পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরবিন্দু ঘোষ বিন্দু তালা প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৪৯৩ ভোট, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মান্না মাইক প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৬০ ভোট, কুলাউড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলার মো. মতিউর রহমান মতই উড়োজাহাজ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৪৭ ভোট, শরীফপুর ইউনিয়নের লালারচকের আব্দুল আহাদ টিয়া পাখি প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৩১ ভোট ও শাবিপ্রবি এর ছাত্র হুমায়ুন কবির শাহান পালকি প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২২৬ ভোট।
উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফাতেহা ফেরদৌস চৌধুরী পপি হাঁস প্রতীকে ৪৪ হাজার ৮০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি কুলাউড়া পৌর জাসদ সভাপতি ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নারীনেত্রী নেহার বেগম ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪১ হাজার ৮৩৭ ভোট। এছাড়াও আরেক প্রতিদন্ধি মোছা. শাহানা আক্তার কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৭৪২ ভোট।
উপজেলা নির্বাচনে রাজনগরে শাহজাহান, আলাল ও মুক্তি চক্রবর্তী নির্বাচিত রাজনগরে আওয়ামীলীগের দুই বর্ষিয়ান নেতাকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন রাজনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহজাহান খান (কাপ-পিরিস)। তিনি পেয়েছেন ২৭৩৭৬টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদন্ধি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মিছবাহুদ্দোজা ভেলাই (আনারস)। তিনি পেয়েছেন ২১,৩১২টি ভোট। এদিকে নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান আছকির খান (নৌকা) পেয়েছেন ১০,৬০৩টি ভোট।
এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৮,৮৬৬টি ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ আলাল মিয়া (চশমা)। তার নিকটতম প্রতিদন্ধি সাইফুল আহমদ ছফু (টিউবওয়েল) ১৮৫৭০টি ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৫,৬০১ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মুক্তি চক্রবর্তী (কলস)। তার নিকটতম প্রতিদন্ধিদ্ব সুমাইয়া সুমি পেয়েছেন ২১,৯৫২টি ভোট।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”