একই বলয়ে সুলতান , নওয়াব, রাজা!

ডিসেম্বর ২, ২০১৮, ১১:৫১ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৪০৮ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ সুলতান, নওয়াব আর রাজার আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় প্রায়ই একই। কাকতালীয়ভাবে কুলাউড়ায় এই তিন মহারথীর সমন্বয় ঘটেছে আসন্ন নির্বাচনে। জাতীয় রাজনীতির আলোচিত মুখ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসন থেকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বুধবার সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল লাইছ এর কাছে অন্যান্য ছয় প্রার্থীর মত তিনিও মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

আওয়ামীলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ এর ধানের শীষের পক্ষে মাঠে সক্রিয় ভাবে কাজ করবেন বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন তিন বারের সাবেক এমপি, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২৩ দলীয় জোটভুক্ত জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য নওয়াব আলী আব্বাছ খাঁন ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী এড. আবেদ রাজা।

সাবেক দুই এমপি ও বিএনপি নেতা এড. আবেদ রাজার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার খবর সর্বমহলে চাউর হলে এই নির্বাচনী এলাকায়ও পড়েছে ব্যাপক প্রভাব। চলছে নানা গুঞ্জন ও সমালোচনা আর জয় পরাজয়ের কঠিন হিসেব-নিকেশ। সুলতান, আব্বাছ ও আবেদ রাজা ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় পাল্টে যাচ্ছে কুলাউড়ার ভোটের রাজনীতির দৃশ্যপট। স্থানীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরাও হয়েছেন উজ্জীবিত। বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ভোটাররাও। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ, নওয়াব আলী আব্বাছ খাঁন ও এড. আবেদ রাজা রাজনীতিতে তিন ধারার হলেও ভোটের মাঠে এখন তিনজনই একজোট। এর মধ্যে দু’জন সাবেক এমপি ও একজন বিএনপি নেতা। নিজ নির্বাচনী আসনে রয়েছে তাদের জনপ্রিয়তা আর নিজস্ব বলয়। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী হয়েছেন। আর অন্য দু’জন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে তাদের তিনজনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী মাঠে এখন সক্রিয় হয়েছেন। উদ্দেশ্য ধানের শীষ প্রতীককে বিপুল ভোটে বিজয়ী করা।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাছ খাঁন এর পক্ষে মাঠে নামেন সাবেক এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় তিনি এক ভোটে দুই এমপি নির্বাচিত করার আহবান জানালে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে সেই আহবানে সাড়া দিয়ে আলী আব্বাছ খানকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিলেন।

সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খাঁন বলেন, ২৭শে নভেম্বর রাত থেকেই আমি কুলাউড়ায় পৌঁছে প্রকাশ্যেই সুলতান ভাইয়ের সঙ্গে নির্বাচনী কাজে তাকে সহযোগিতা করতে মাঠে নেমেছি। পদের লোভ আমার নেই। দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেছি। সুলতান ভাইয়ের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুলতান ভাই অংশ না নিলেও ভোটের মাঠে সক্রিয় থেকে আমাকে আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। তার সহযোগিতায় আমি জনগণের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলাম। সেই নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ থেকে ঋণ শোধ করতেই এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুলতান মনসুরের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে বিজয়ী করবো।

আর এড. আবেদ রাজা ঐক্যফ্রন্টের স্বার্থে তার প্রার্থীতা বাতিল করে দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, আর দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সুলতান মনসুরের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। বিএনপি নেতা এড. আবেদ রাজা বলেন, আমার নেত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও আওয়ামী সরকারের নির্যাতনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাসনে রেখে আমি নিজ স্বার্থের জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবো না। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে আমি সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে পূর্ণ সমর্থন করলাম। অস্ত্র ও বুলেট এর মুখে জীবন বাজি রেখে সুলতান মনসুরকে বিজয়ী করার ঘোষনাও দিয়েছেন বিএনপির এ নেতা।

সুলতান মনসুর ও আবেদ রাজা রাজনৈতিক ভাবে দুই মেরুর দুই নেতা হলেও জন্মগত ভাবে একই এলাকার বাসিন্দা। ডাকসু নির্বাচনে সুলতান মনসুর এর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল আবেদ রাজার। কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুলতান মনসুরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে বিজয়ী ঘোষণা করে সংসদে পাঠানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এড. আবেদ রাজা।

ব্যক্তিগত ভাবে নওয়াব আলী আব্বাছ খাঁন ও এড. আবেদ রাজার সাথে সুলতান মনসুর এর রয়েছে গভীর সম্পর্ক। এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিন নেতার সমন্বয়ে এই আসনে ধানের শীষের বিপুল ভোটে বিজয় হবে বলে আশাবাদী নেতাকর্মীদের। তাদের দাবী সুলতান মনসুর কুলাউড়া উন্নয়নের রূপকার এ কারণেই দল মতের উর্ধ্বে উঠে তাকে ভোট দেবে কুলাউড়াবাসী এমন অভিমত ধানের শীষের ভোটারদের। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন নি সুলতান মনসুর, আলী আব্বাছ খাঁন ও আবেদ রাজা। ফলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ আব্দুল মতিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন।

এদিকে একদিকে তিন সুলতান হলেও সাবেক এমপি ও ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এম শাহীন বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিকল্পধারায় যোগদান করে যুক্তফ্রন্ট থেকে মহাজোট থেকে বুধবার তিনিও মনোনয়ন জমা করেছেন। যদিও এখন পর্যন্ত মহাজোট থেকে তাঁকে প্রার্থী হিসেবে আনুষ্টানিকভাবে ঘোষনা করা হয়নি তবুও মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে এম এম শাহীনকে নিয়ে চলছে সর্বত্র আলোচনা। মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীক পেলে এবং ব্যাক্তি ইমেজকে কাজে লাগিয়ে তিনি ফের চমক দেখাতে পারেন বলে ভোটারদের ধারণা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”