এক মোহনায় মিলিত হতে পারছে না মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র দুই ধারা

ডিসেম্বর ৭, ২০১৭, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৪১৩ বার পঠিত

সাইফুল ইসলাম॥ এক মোহনায় মিলিত হতে পারছে না মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র দুই ধারা। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পুত্র এম নাসের রহমানের নির্বাচনী এলাকায় থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও পৌর কমিটি গঠনের ব্যাপারে অনাধিকার চর্চা না করার জন্য মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজানকে সতর্ক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এ সতর্কতা না মানলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনেরও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে। বৃহস্পতিবার এই চিঠি ইমেইলযোগে এসেছে বলে জেলা বিএনপির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই হুঁশিয়ার উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ‘মিজানুর রহমান মৌলভীবাজার সদর, পৌরসভা ও রাজনগর উপজেলায় বর্তমান বৈধ কমিটির বিপরীতে নতুন কমিটি করেছেন। যার কোন এখতিয়ার মিজানুর রহমান মিজানের নেই। এরূপ কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য মিজানকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত প্রদান করেন রুহুল কবির রিজভী’।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘মৌলভীবাজার পৌরসভা, রাজনগর ও সদর উপজেলা কমিটিসমূহ দলের সকল কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। এই দুই উপজেলা জেলা বিএনপির সভাপতি  সাবেক এমপি এম. নাসের রহমানের নির্বাচনী এলাকা। এসকল এলাকায় মিজানুর রহমানের কার্যকলাপে বিএনপির ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন’।

সূত্র মতে, মৌলভীবাজার সদর ইউনিয়নের সবকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং রাজনগর থানাসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি এম নাসের রহমান সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করছেন। এসব কমিটি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তৎপর রয়েছে। মিজানুর রহমান মিজান সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হওয়ার পর দুটি উপজেলায় ও একটি পৌরসভায় ইউনিয়ন গুলোতে নাসের রহমানের গঠিত কমিটির বিপোরীতে পাল্টা কমিটি গঠন করছেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধও চাঙ্গা হচ্ছে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে মিজানুর রহমান মিজান রাজনগরের একটি সভা করতে গেলে দলীয় প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে সভা না করে চলে আসেন বলে একটি পক্ষ দাবী করেছে। অবস্থা দৃষ্টে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল দাবী করছে জেরা বিএনপির ভেতরগত পূর্ব বিরোধকে এখনও জিইয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র এম নাসের রহমান ও সাবেক মহিলা এমপি খালেদা রব্বানী নেতৃত্বে জেলা বিএনপির দুটি ধারা রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছিল বহুদিন যাবত। এ দুটি ধারাকে সমন্বিত করার লক্ষে এ বছরের মে মাসে কেন্দ্রীয় বিএনপি এম নাসের রহমানকে সভাপতি ও মিজানুর রহমান কে সম্পাদক করে ৪৮ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি চেয়ারপার্সনের নির্দেশে দলের মহাসচিব অনুমোদন দেন। কিন্তু দুই উপজেলার ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপটে দুটি ধারা এক মোহনায় মিলিতি হতে পারছে না। এনিয়ে সমর্থক মহলেও চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, চিঠির ব্যাপারে আমি মাত্র শুনলাম। সত্যতা পাইনি এখনো, তবে  এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

মন্তব্য করুন