কমলগঞ্জে ইউএনও’র নেতৃত্বে পুলিশী অভিযান : জুয়ার আসর তছনছ

নভেম্বর ১২, ২০১৭, ৭:৪১ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের কানিহাটি চা বাগানে চা শ্রমিকদের মনোরঞ্জনের নামে আয়োজিত যাত্রাপালার আড়ালে গত বৃহষ্পতিবার থেকে শুরু হয়েছিল জুয়ার আসর। যাত্রার আড়ালে চলা জুয়ার আসরে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের নেতৃত্বে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান চলে। অভিযান টের পেয়ে জুয়াড়িরা পালিয়ে গেলেও আসরের সামিয়ানাসহ সরঞ্জাম ভেঙ্গে তছনছ করে দেওয়া হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শমশেরনগর ইউনিয়নের কানিহাটি চা বাগানে চা শ্রমিকদের মনোরঞ্জনের নামে আয়োজিত যাত্রাপালার আড়ালে গত বৃহষ্পতিবার শুরু হয়েছিল বড় ধরনের জুয়ার আসর। কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে শুরু হয়েছিল যাত্রার নামে জুয়ার আসর। এসময়ে সারা দেশে চলছে জুনিয়র সমাপনী(জেএসসি) পরীক্ষা। এর মাঝে যাত্রা ও জুয়ার আসর নিয়ে জনমনে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। ঘটনার সংবাদ পেয়ে গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের নেতৃত্বে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয় কানিহাটি চা বাগানে। অভিযান টের পেয়ে আয়োজক ও জুয়াড়িরা পালিয়ে যায়। তবে অভিযানকালে জুয়ার আসনের সামিয়ানা, জুয়ায় ব্যবহৃত সামগ্রী ভেঙ্গে তছনছ করে দেওয়া হয়।
শমশেরনগর চা বাগানের মিথাইল পেরেগু বলেন, এলাকার স্থায়ী মানুষগুলোকে ভ্রান্ত মোহ দেখিয়ে এই সমাজে থাকা কতিপয় কিছু মুখোশ পরিহিত শ্রমিক ও স্থানীয় কিছু নীতিনির্ধারকরা এতে অতপ্রোতভাবে জড়িত। চা শ্রমিকদের অসহায়ত্ব পূজি করে নিজের মুনাফার লালসায় বিতর্কিত করছে চা মানুষের জীবনমানকে। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনার এমন একটি পদক্ষেপ অন্তত এবারের জন্য হলেও কামারছড়া, কানিহাটি চা বাগানকে নগ্নতা মুক্ত করেছে। সামনেও চলমান থাকুক এ ধারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, শনিবার কানিহাটি চা বাগানে যাত্রাগান হয়নি। জুয়ার আসর কোথায় বসেছিল আমি জানি না। শমশেরনগর বাগানের ব্যবস্থাপক দুইবার জেলা প্রশাসক এর বরাবরে আবেদন করে ছিলেন চা শ্রমিকের চাপে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার এক মাসেও অনুমতি পায়নি। এর মধ্যে প্রায় ১৫ দিন দলকে খাবার দিতে হয়েছে। অনুমতি পায়নি তাই যাত্রা হয়নি শুধু রিয়ার্সেল করেছে। তাদের খোরাকি পাওয়ার জন্য। জুয়ার আসর বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক দু:খ প্রকাশ করে বলেন, এখন জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা চলছে। তাতে বিবেকবিবর্জিত অতিমুনাফালোভীদের কি এসে যায়। তাই যাত্রার আড়ালে লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়ার আয়োজন চলতে থাকে। টার্গেট যথারীতি চাবাগান। চা শ্রমিকদের ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে যাত্রাপালার অন্তরালে মূলত জুয়াখেলার আসর বসে। দরিদ্র চা শ্রমিকগণ আর কতকাল অতিচালাক মুনাফালোভীদের দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে জানিনা। তবে সন্তানের ভবিষ্যত ভেবেও কি তাদের জেগে উঠা উচিৎ নয়? তিনি আরো বলেন, গেল সপ্তাহে কামারছড়ার পর শনিবার গভীররাতে পুলিশ নিয়ে শমশেরনগর কানিহাটি চাবাগানের জুয়ার প্যান্ডেল ভেঙ্গে দিয়েছি । জানিনা এরপর স্থুল মুনাফার লালসায় কোন বাগানের শিক্ষার্থীদের জীবন ঝলসানোর ছক কষছে বিবেকবিবর্জিত সুবিধাবাদীর দল। আর জুয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযান চলবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন