কমলগঞ্জে এক দলিল লিখকের  প্র্রতারণার শিকার লন্ডন প্রবাসী

জুলাই ১১, ২০১৮, ১১:০০ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৩৮২ বার পঠিত

কমলগঞ্জ সংবাদদাতা॥ কমলগঞ্জে এক লন্ডন প্রবাসীর কাছ থেকে প্রতারনা করে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে  এক দলিল লিখকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দলিল লিখক বিষয়টিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক বলে উল্লেখ করলেও এলাকাবাসী জানিয়েছেন এ ব্যপারে অনুষ্ঠিত সালিশী বিচারে  দলিল লিখক দোষী প্রমানিত হওয়ার পর ৭০ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়েছেন। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

সালিশী বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের উত্তর মোলাইম নিবাসী লন্ডন প্রবাসী শফিকুর রহমান হেবা দলিল সৃষ্টির মাধমে ছেলেকে একটি বাসা দান করার যাবতীয় প্রক্রিয়াটির সম্পন্ন করে দেওয়ার জন্য পূর্ব পরিচিত দলিল লিখক হাজী ইজ্জাদুর রহমান) কে দায়িত্ব দেন। দলিল লেখক হেবা দলিল রেজিষ্ট্রি খরচ বাবত প্রবাসীর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নেন। যা সরকার নির্ধারিত ফি এর কয়েকগুন বেশী।

অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি প্রবাসী শফিকুর রহমানের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তিনি তাঁর ছেলের শ^শুর শমশেরনগরের মকবুল আহমদকে ঘটনাটি জানান।

বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি শমশেরনগরের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মোহিত এর বাড়িতে শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জুয়েল আহমেদ, রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত সহ এলাকার গণ্যমাণ্যদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষেকে নিয়ে এক সালিশী বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয় পক্ষের দেওয়া জবানবন্দি পর্যালোনায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয় এবং ৭০ হাজার টাকা প্রবাসী শফিকুর রহমানের ফেরৎ দেওয়ার জন্য বৈঠকে উপস্থিত সকলে একমত হন।

শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিচারে রায় হয়েছিল ১ লক্ষ টাকা। পরে ৭০ হাজার টাকা শমশেরনগর বনিক কল্যান সমিতির সভাপতির মাধ্যমে দেয়া হয়েছে।

শমশেরনগর বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালিক বাবুল মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সালিশী বৈঠকের রায় অনুযায়ী  ইজ্জাদ মহুরী লন্ডন প্রবাসী শফিকুর রহমানকে আমার মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়েছেন।

এ ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলা দলিল লিখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, ও শমশেরনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দলিল লিখক ইজ্জাদের প্রতারণা মূলক কর্মকান্ডে সকল দলিল লিখক আজ কলংকিত। হেবা দলিল করার কথা বলে ১ লক্ষ ৭০ হাজার অতিরিক্ত টাকা ধোকা দিয়ে নেয়া হয়েছে। আমি এমন কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।

এ ঘটনায় কমলগঞ্জ জুড়ে চাঞ্চল্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাজী ইজ্জাদুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি আমার সাথে দেখা করবেন, ফোনে সব বলা যাবে না।  বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা,বানোয়াট,ভিত্তিহীন, অবাস্তব, কাল্পনিক। আমাকে পরিকল্পিতভাবে হেয় করার জন্য চেষ্ঠাকরা হচ্ছে। আমি কমলগঞ্জের দলিল লিখক। মৌলভীবাজার গিয়ে দলিল করার প্রশ্নই উঠেনা। এ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি যে করছে তার বিরুদ্ধে মামলা করবো। আর যতজনই এ নিয়ে লেখালেখি করবেন তাদেরকেও আইনের আওতায় আনবো।

বিষয়টি সম্পর্কে কমলগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সাব-রেজিষ্ট্রার  এ প্রতিনিধিকে বলেন, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”