কমলগঞ্জে মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার

নভেম্বর ৬, ২০১৮, ১০:২৮ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৪৩ বার পঠিত

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের মধ্যভাগ গ্রামে মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এক নারী(২৭) ধর্ষণের শিকার হয়ে এখন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় মধ্যভাগ কবরস্থান সংলগ্ন একটি ঝুঁপড়ি ঘরে এ ঘটনাটি ঘটে। মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের খবর শুনে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুজ্জামান মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করে গ্রামবাসীর বক্তব্য গ্রহন করেন। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান ও পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস।

ধর্ষিতা নারী এক অসহায় কৃষকের (ইমাম বক্সের-৭৫) মেয়ে। ধর্ষিতার পরিবার ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণকারী আদমপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য সিদ্দেক আলীর ভাই নওয়াব আলী (৫০)। সে এলাকায় নিয়মিত নানা অসামাজিক কাজ করে থাকে। তার দ্বারা এ এলাকায় অনেক গৃহবধূ সম্ভ্রম হারিয়েছেন।

ধর্ষিতার ভাই হাবিব বক্স জানান, মধ্যভাগ কবরস্থানের পাশে নওয়াব আলীর কিছু ক্ষেতি জমি রয়েছে। সেখানে সে একটি ছোট ঝুঁপড়ি করে থাকে। সোমবার দুপুরে তার প্রতিবন্ধী বোনকে একা পেয়ে এই ঝুঁপড়ি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে নওয়াব আলী। ঘটনার পর ধর্ষণকারী এলাকা ত্যাগ করলে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাবিব বক্স অভিযোগ করে আরও বলেন, ধর্ষণকারী প্রভাবশালী বলে ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ করে না। সে এই এলাকায় এ ধরণের অনেক ঘটনাও ঘটিয়েছে।

এদিকে ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টায় নির্যাতিতা প্রতিবন্ধীর ভাই হাবিব বক্স মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল থেকে মুঠোফোনে বলেন, আজ ২ দিন হলো এখনও তার ডাক্তারী পরীক্ষা শুরু হয়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে আরও বলেন এ হাসপাতালে নির্যাতনকারী এক মেয়ে কর্মরত আছে বলে সে হয়তো ধর্ষণ আলামত নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

তবে অভিযুক্ত নওয়াব আলী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, এক খন্ড জমি ক্রয় নিয়ে গ্রামের একটি পক্ষের সাথে তার বিরোধ চলছে। এ বিরোধে তাকে ধর্ষণকারী বানিয়ে এই নারীকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে হেলাল ও কামাল নামের দুই ব্যক্তি। তিনি প্রয়োজনে পরবর্তীতে তাদের নামে মানহানির মামলা করারও কথা জানান।

আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি একটি জঘন্য কাজ। নারীটি মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী ভাতাভুক্ত। তিনিও এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. পলাশ রায় বলেন. নির্যাতনের শিকার হয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে এক প্রতিবন্ধী নারী সোমবার দুপুরে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীণ থাকার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ সম্পর্কে এলাকাবাসীর বক্তব্য শুনেছেন। নির্যাতিতা ডাক্তারী পরীক্ষা হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলেও তিনি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”