কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৩ সন্তানের জননী অবরুদ্ধ

জানুয়ারী ২২, ২০১৯, ৬:০৫ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৩২৮ বার পঠিত

ইমাদ উদ দীন॥ দীর্ঘদিন থেকে প্রতিবেশী ফয়েজ আহমদের কুনজর ছিল তার উপর। একপর্যায়ে নানা দূর্বলতার সুযোগে কুপ্রস্তাব দেন ৩ সন্তানের জননী নাছিমাকে। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে শুরু হয় নানা নির্যাতন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা কেটে বেড়া দেন। প্রায় বছর দিন থেকে অবরুদ্ধ হওয়া নাছিমার পরিবারকে জনপ্রতিনিধিরাও মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাস্তা ঘাটে তাকে ও তার পরিবারে সদস্যদের নানাভাবে হেনেস্তা করার চেষ্ঠা চালান। অব্যাহত প্রাণ নাশের হুমকিতে ভয়ে কলেজ ও মাদ্রাসা পড়–য়া সন্তান বাড়ি থেকে বের হচ্ছেনা। ব্যহত হচ্ছে তাদের প্রতিদিনের পাঠ গ্রহন কার্যক্রম। ফয়েজ আহমদের কারনে নাছিমার পুরো পরিবারই এখন অবরুদ্ধ এমনটি জেলা পুলিশ সুপার, র‌্যাব-৯, ইউএনও রাজনগর,জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগে জানিয়েছেন নাছিমা আক্তার। এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে জেলার রাজনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভুজবল গ্রামে।

জানা যায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ভুজবল গ্রামের ফয়েজ আহমদ তালুকদারের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন একই গ্রামের নাছিমা আক্তার নামের এক গূহবধূ। ফয়েজের অত্যাচারে ইতি মধ্যে তার কলেজ পড়–য়া মেয়ে ফাতেমা বেগম এবং মাদ্রাসা পড়–য়া ছেলে জাবের ও নাবিল ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছেন না। তার কলেজ পড়–য়া মেয়ে কলেজে যাবার পথে বখাটে ছেলেদের দিয়ে উত্যক্ত করানোসহ তুলে নেওয়ার চেষ্ঠা চালায় ফয়েজের লোজন। এই অমানবিক বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান খায়রুল মজিদ (ছালেক) ও ইউপি সদস্য মইন উদ্দিন চৌধুরী ৪ বার সালিশে বসে ব্যর্থ হয়েছেন।

সর্বশেষ ১৪ জানুয়ারী ভোক্তভোগী মহিলা নিরুপায় হয়ে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালালসহ র‌্যাব-৯,ইউএনও রাজনগর,জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া জেলায় কর্মরত অনেক গণমাধ্যম কর্মীদেরও তার নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায় গেল বছরের ১২ এপ্রিল ফয়েজ আহমদ তালুকদার গৃহবধূ নাছিমাকে একাধিকবার কুপ্রস্তাব দেন। নাছিমা ওই কুপ্রাস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিত ভাবে জমি সংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি করেন। এবং বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্ঠা চালান। জমি ও অন্যান্য বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান খায়রুল মজিদ (ছালেক) ও ইউপি সদস্য মইন উদ্দিন চৌধুরী ২ বার বাড়িতে এবং ২ বার ইউনিয়ন কার্যালয়ে সালিশে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করে ফয়েজের অসযোগীতার কারনে ব্যর্থ হন। ঘটনার নিস্পিত্তির লক্ষ্যে একাধিকবার নাছিমা ইউনিয়নে সালিশ বিচারে উপস্থিত হলেও ফয়েজ কৌশলে থাকেন অনুপস্থিত। সালিশ বিচার না মেনে নাছিমাকে হয়রানি করার জন্য ফয়েজ গোপনে মৌলভীবাজার আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন (প্রসেস নং-৬৫(৬)।

সর্বশেষ ১ জানুয়ারী ফয়েজ আহমদ তার সহযোগীদের নিয়ে নাছিমার বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তায় বেড়া দেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত বেড়াটি বৃদ্ধমান রয়েছে। রাস্তায় বেড়া দেয়ার খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে বেড়ার তুলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। এদিকে ১০ জানুয়ারী ফয়েজ মাঠ থেকে নাছিমার একটি গরু তার বাড়িতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে কয়েকজন প্রতিবেশীর সহযোগীতায় নাছিমা গরুটি ফিরে পান।

অভিযোগে তিনি আরোও বলেন তার স্বামী ছাতির আলীর একটি সিএনজি গাড়ি আছে। এটার আয় দিয়েই তাদের পরিবারের ও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চলে। এটাই তাদের একমাত্র সম্বল। কিন্তু ওই গাড়িটি ভাঙচুর করার জন্য ফয়েজ একাধিকবার চেষ্টা করে। এমনকি রাতের বেলা ফয়েজ তার সহযোগীদের নিয়ে নাছিমার ঘরে ডিল মারে এবং দিনের বেলা বাড়ি থেকে গাছ এবং বাঁশ কেটে নিয়ে যায়। ফয়েজ তার দলবলে এমন হামলা ও ভয়ভীতি প্রর্দশনের কারনে নাছিমার পুরো পরিবারই বির্পযস্ত। অসহায় পরিবারটি এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে।ফয়েজের অসযোগীতার কারনে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারছেন না মর্মে উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান খায়রুল মজিদ (ছালেক) ২ বার লিখিত প্রত্যয়ন পত্রও দিয়েছেন।

এবিষয়ে রাজনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান খায়রুল মজিদ (ছালেক) অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পঞ্চায়েতের মুরব্বিদের নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও ফয়েজ আহমদের একগুয়েমির কারনে তা সম্ভব হয়নি। ইউপি সদস্য মইন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, নাছিমা আক্তার আর্থিক ভাবে দুর্বল থাকায় বিভিন্ন সময় ফয়েজ আহমদ এর ধারা হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বসেও বিষয়টি সমাধান করতে পারেননি। ফয়েজ আহমদ কুপ্রস্তাবের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন তার সাথে আমার জায়গা সক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”