কুলাউড়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্যালকুলেটর কেড়ে নিলেন শিক্ষক!

ফেব্রুয়ারী ১০, ২০১৯, ১১:১৭ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৬৪ বার পঠিত

কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ কুলাউড়ায় নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শনিবার গণিত পরীক্ষার সময় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন কারন ছাড়াই নন-প্রোগ্রামেবুল ক্যালকুলেটর কেড়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন এক পরীক্ষার্থীর পিতা মোঃ হাবিবুর রহমান খাঁন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, শনিবার পরীক্ষার সময় কুলাউড়া কেন্দ্র নং-১ নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার ১২ এবং ১৩নং কক্ষে কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কাছ থেকে কোন কারণ ছাড়াই নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোঃ আমির হোসেন এবং কেন্দ্র সহযোগী বিদ্যালয়ের সহকারী গণিত শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক কক্ষ দুইটির ছাত্রীদের নন-প্রোগ্রামেবুল ক্যালকুলেটর নিয়ে নেন।
যাতে কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ভালো ফলাফল করতে না পারে। এমনকি ঐ দুইটি কক্ষের ছাত্রীদের নৈব্যক্তিক পরীক্ষার ২০ মিনিট পর্যন্ত হলে অবস্থান করে ঘন্টা না বাজার আগে সময় শেষ সময় শেষ বলে চেচাঁমেচি করেন এবং পরীক্ষায় ছাত্রীদের ক্যালকুলেটর হাতে নিয়ে কেন্দ্র সহযোগী আব্দুর রাজ্জাক সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর গ্রহণ যোগ্য নয় বলে ছাত্রীদের সাথে ক্যালকুলেটর নিয়ে টানাটানি করেন যাতে পরীক্ষার সময় নষ্ট হয়। তাতে ছাত্রীরা যথাসময়ের মধ্যে পরীক্ষার উত্তর শেষ করতে পারেনি। প্রায় ৫০ মিনিট পর কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরীক্ষার হল পরিদর্শন করতে গেলে ছাত্রীদের সকল ক্যালকুলেটর ফেরত দেয়া হয়। এতে পরীক্ষায় ছাত্রীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয় এবং ছাত্রীরা বাড়ীতে গিয়ে কান্না-কাটি করে মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৫ মিনিট পর ১৩ নম্বর কক্ষে ২ জন হল পর্যবেক্ষক থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে ছাত্রীদের হুয়রানি করার জন্য কেন্দ্র সচিব অতিরিক্ত ভাবে অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফেরদৌসি কাওছার চৌধুরীকে অন্য কক্ষ থেকে এনে ওই কক্ষে অহেতুক নিযুক্ত করেন। শিক্ষিকা ফেরদৌসি পরীক্ষার্থীদের সাথে কঠোর আচরণ ও বাজে কথা বলেন এমনকি বহিস্কার করে দিবেন বলে হুমকিও দেন।
নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোঃ আমির হোসেন রবিবার রাতে বলেন, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ক্যালকুলেটর নিয়েছেন সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। গণিত শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ও আমি নন-প্রোগ্রামেবুল ক্যালকুলেটর তাদের কাছ থেকে নেইনি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। আর ১৩ নম্বর কক্ষে হল পরিদর্শক না থাকায় আমাদের বিদ্যালয়ের ফেরদৌসি কাওছার চৌধুরীকে দেয়া হয়েছে।
এসএসসি পরীক্ষা কুলাউড়া কেন্দ্র নং-১ এর ভেন্যু কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মতিন রবিবার রাতে বলেন, পরীক্ষা শুরুর পূর্বে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সকল পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করে সবাইকে নন-প্রোগ্রামেবুল ক্যালকুলেটর নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে দেই। আমার বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রীরা নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে এবং আমার বিদ্যালয়ে ওই স্কুলের সকল শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। গণিত পরীক্ষার দিন আমি নিজে ওই স্কুলে গিয়ে কেন্দ্র সচিবকে সাথে নিয়ে পরিদর্শন কালে ১৩ নম্বর কক্ষে তিনজন পরিদর্শককে আমি দেখতে পাই। ৪০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য দুজন পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও ফেরদৌসী কাওছারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে এই কক্ষে দায়িত্ব পালন করান।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আনোয়ার রবিবার রাতে বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। আমার কাছে একটি অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। ইউএনও স্যারের সাথে আলাপ করে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আর নন-প্রোগ্রামেবুল সকল ক্যালকুলেটর পরীক্ষার্থীরা সাথে নিতে পারবে। এতে কোন বিধি নিষেধ নেই।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল লাইছ রবিবার রাতে বলেন, বিষয়টি আমি দেখতেছি। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে ক্যালকুলেটর নেয়া হয়েছে শুনে আমি হল পরিদর্শন করতে গেলে সেগুলো পুনরায় পরীক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”