কুলাউড়ায় ধান কাটতে আপত্তি দেয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত-১

ডিসেম্বর ৩, ২০১৭, ১১:১৩ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১০০ বার পঠিত

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জোরপূর্বক ধান কেটে নেয়ায় আপত্তি দেয়ার কারনে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন জাহিদ মিয়া (৫১)। তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১০ টায় কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পাবই সোসাইয়া এলাকার ফসলি মাঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজীপুরের আব্দুল ওয়াদুদ কিছু লোকবল নিয়ে সকালে ধান কাটতে আসেন। এ সময়ে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের চক কবিরাজি গ্রামের জাহিদ মিয়া তাদের ধান কাটায় আপত্তি জানালে আব্দুল ওয়াদুদ এর সহযোগিরা দা, লাটিসোটা সহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে হামলা চালালে জাহিদ মিয়ার মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আহত জাহিদ মিয়ার ভাই সামছুদ্দীন আহমদ অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের চক কবিরাজি গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে জাহিদ মিয়া কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুরের আব্দুল ওয়াদুদ এর কাছ থেকে ২৮ শতক জমির জন্য বায়নামাপত্রের বিপরীতে ৮৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরে আব্দুল ওয়াদুদ জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে আপত্তি জানান। এসব বিষয়ে আদালতে মামলা চলামান রয়েছে এবং আব্দুল ওয়াদুদের ১৪৪ ধারা মামলার আদেশ আমাদের পক্ষে আসে। ফলে আমরা জমি চাষাবাদ করি।

শুক্রবার আব্দুল ওয়াদুদ লোকবল নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য তাহির মিয়ার নেতৃত্বে জোরপূর্বক ধান কাটতে আসলে আমার বড় ভাই জাহিদ মিয়া আপত্তি জানালে মোশাহিদ আলী (৩৮), রহমত মিয়া (৩০), সহিদ মিয়া (৪০), আজিদ মিয়া (৩০), ইসমাইল মিয়া (৩৫), সিকন্দর মিয়া (৫৫), জমসেদ মিয়া (৪৫), রহিম মিয়া (২৫) গং ব্যক্তিরা দা দিয়ে মাথায় উপর্যুপোরি কূপিয়ে গুরুতর আহত করে। জাহিদ মিয়ার ডান হাত ভেঙ্গে দিয়েছে এবং বাম হাতের একটি আঙ্গুল কেটে ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মাথায় ৩৮টি সেলাই দিতে হয়েছে। আমার ভায়ের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ দিতে পারিনি। তবে আজ রবিবার অভিযোগ দেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ বিষয়ে আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, জাহিদ মিয়া দল বলে নিয়ে আমার জমিতে ধান কাটতে আসে। এ সময়ে বাঁধা দেয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় আমাদের লোকজনও আহত হয়েছেন। হাজিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য তাহির মিয়া বলেন, থানার ওসি সাহেবের কথায় আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ দেখতে পাই। আমি কারো পক্ষে যাইনি।

কুলাউড়া থানার ওসি মোঃ শামীম মুসা বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদের একজন আহত হয়ে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন এবং তাদের পক্ষে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেটি মামলা হয়েছে। জাহিদ মিয়ার পক্ষে কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ দিলে সেটি নেওয়া হবে এবং তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

                                                                                

 

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন