কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল লাইন পরিদর্শনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আগামী মাসে মুল কাজ উদ্বোধন করতে পারেন

মার্চ ১১, ২০১৮, ১১:১৬ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১৮৫ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল লাইন চালুর লক্ষ্যে ১১ মার্চ  রোববার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পরিত্যক্ত থাকা এ রেল লাইনের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেছেন। মন্ত্রণালয়ের এই উধ্বর্তন কর্মকর্তা বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, বড়লেখা, দক্ষিণভাগ ও জুড়ী স্টেশনসহ রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা কি অবস্থায় আছে তা ঘুরে দেখেন। 

পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন ছাড়াও রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) সৈয়দ ফারুক আহমদ, প্রধান প্রকশৌলী (পূর্ব) মোঃ আরিফুজ্জামান, রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনের পুনর্বাসন প্রকল্প পরিচালক এবং রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পথ) মোঃ তানভিরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (মৌলভীবাজার) মোঃ রোকন উদ্দিন, বড়লেখার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কলকাতা কালিন্দি (রেল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান) রেলওয়ের সার্ভেয়ার রিপন শেখ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।  

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮৫ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অংশ হিসেবে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল লাইন চালু হয়েছিল। বড়লেখা উপজেলার লাতু সীমান্ত দিয়ে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন হয়ে আসাম রেলওয়ের ট্রেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আসা যাওয়া করতো। কুলাউড়া-শাহবাজপুর লাইনে চলাচলকারী ট্রেনটি এলাকাবাসীর কাছে ‘লাতুর ট্রেন’ নামে পরিচিত ছিল। প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইনে রয়েছে বড়লেখা, কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলা। এ তিন উপজেলা ছাড়াও এ ট্রেনের অন্যতম উপকারভোগী ছিলেন পার্শবর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। এই অঞ্চলের মানুষ কম খরচে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতের জন্য লাতুর ট্রেনের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। রেল লাইন ট্রেন চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ায় রেল লাইন সংস্কার না করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ২০০২ সালের ৭ জুলাই পুর্ব ঘোষণা ছাড়াই লাইনটি বন্ধ করে দেয়। ট্রেন বন্ধ থাকায় নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে জুড়ী, দক্ষিণভাগ, কাঁঠালতলি, বড়লেখা, মুড়াউল ও শাহবাজপুরসহ এই ছয়টি রেল স্টেশন। এদিকে ট্রেন চালুর দাবিতে ট্রেন লাইন বন্ধ হওয়ার পর থেকেই কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখার মানুষ সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন ব্যানারে সভা-সমাবেশ,মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, গণসংযোগসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে মহাজোটের প্রার্থী শাহাব উদ্দিন (বর্তমানে জাতীয় সংসদের হুইপ) অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল বিজয়ী হলে কুলাউড়া-শাহবাজপুর ট্রেনলাইন চালু করবেন। পরে নির্বাচনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থী শাহাব উদ্দিন। লাইনটি চালুর বিষয়ে তিনি অনেকবার সংসদে কথা বলেন। এছাড়া ২০১৩ সালের ৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী সফরে এসেও জনসভায় এ রেল লাইনটি চালুর ঘোষণা দেন।  

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল লাইন পুনর্বাসন ও চালুর লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ট্রেন লাইন পুনর্বাসনে খরচ হবে ৬৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এরমধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিবে ১২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং ভারত সরকার দিবে ৫৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ৪৪ দশমিক ৭৭ কিলোমিটারের পুরোটাই দ্বৈত গেজ লাইনে পুনর্বাসন করা হবে। এরমধ্যে সাত দশমিক ৭৭ কিলোমিটার লুপ লাইনের কাজ হবে। ট্রেন লাইন পুনর্বাসনের পাশাপাশি ছয়টি স্টেশনের মধ্যে জুড়ী, দক্ষিণভাগ, বড়লেখা ও শাহবাজপুর ‘বি’ শ্রেণি এবং কাঁঠালতলি ও মুড়াউল স্টেশন ‘ডি’ শ্রেণিতে পুনসংস্কার করা হবে। ভারতীয় রেল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কালিন্দি রেলওয়ে পুনর্বাসনের কাজ করবে। এই রেললাইনটি চালু হলে কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচটি ট্রেন চলাচল করবে। লোকাল ট্রেন ছাড়াও আন্তঃনগর ট্রেন চলবে। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় ট্রেনও চলবে এ পথ দিয়ে। কাজ শুরুর পর ২৪ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। 

পরিদর্শন শেষে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এ রেল লাইনটি কি অবস্থায় আছে, তা দেখতে এসেছেন। রেল লাইনের সার্বিক অবস্থা দেখেছেন। ইতিমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছে। গত মাসে প্রাথমিক কাজ শুরু হলেও মুল কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী মাসে শুরু হতে পারে। ভারতের সাথে আমাদের আরো কিছু প্রকল্প রয়েছে। এমনও হতে পারে এসবগুলো মিলিয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটা শুরু করবেন।’

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”