কোমরে রশি বেঁধে জনসম্মুখে প্রদর্শন করায় রাজনগর থানার ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ

আগস্ট ৯, ২০১৮, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১,০০৩ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিক এর বিরুদ্ধে সৈয়দ আব্দুস শহীদকে অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট ও বাজারে সাধারণ মানুষের সামনে অপমান, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি ও মানবাধিকার লঙ্গণের অভিযোগ এনে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের মৃত সৈয়দ কুদ্দুছ আলীর ছেলে সৈয়দ আব্দুস শহীদ এ অভিযোগ দায়ের করেন।

উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সামছুন্নুর আজাদ ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ছানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল বলেছেন, এবিষয়ে তাদের তদন্ত চলছে।  অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২৬ জুন রাত ৩টায় উপজেলার দিক্ষণ পাঁচগাঁও গ্রামের আবরুছ মিয়া’র ছেলে ছবুর মিয়াকে রাজনগর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরের দিন গ্রেফতারকৃত ছবুর মিয়ার মা অভিযোগকারী সৈয়দ আব্দুস শহীদ এর কাছে কান্নাকাটি করে ছেলের খোঁজ নেয়ার কথা বলেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অভিযোগকারী ২৭ জুন সকাল ৯টায় রাজনগর থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসার এএসআই ইমাম হোসেনের কাছে ছবুরের খবর জানতে চাইলে ডিউটি অফিসার অভিযোগকারীকে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে দ্রুত থানা ত্যাগ করার কথা বলেন। এসময় অভিযোগকারী সৈয়দ আব্দুস শহীদ দেশের নাগরিক হিসেবে তথ্য জানার অধিকার আছে বলা মাত্র এএসআই ইমাম হোসেন উত্তেজিত হন এবং তাকে গ্রেফতারের হুমকি দেন। কিছুক্ষণ পর দুতলা থেকে অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিক নেমে এসে সৈয়দ আব্দুস শহীদকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়ার সাথে সাথে ডিউটি অফিসার অভিযোগকারীকে গ্রেফতার করে হাজতে আটকে রাখেন। গ্রেফতারের কিছু সময় পর ওসির নির্দেশে সৈয়দ আব্দুস শহীদ ও ছবুর মিয়ার কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে সরকারি গাড়ি দিয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান ডিগ্রি কলেজ পয়েন্ট, টেংরা বাজার, তারাপাশা বাজার, মুন্সিবাজার, পাঁচগাঁও ইউনিয়ন অফিসের সামনে আজাদের বাজার ও মধুর দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে ওসি শ্যামল বণিক নিজে লোকজন জড়ো করে জনসম্মুকে বলেন অপরাধ করলে এরকম শাস্তি হবে। পরে দুপুর ২টার দিকে থানায় নিয়ে এসে রঞ্জু মালাকারে দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে আদালতে প্রেরণ করেন।

একটি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর ওসি শ্যামল বণিক এটা সমাধান করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসিন সহ বিভিন্ন জনের কাছে ধরনা দিচ্ছেন।

তবে রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বণিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”