গৃহিনী থেকে জনতার নেত্রী সায়রা মহসীন

ডিসেম্বর ১০, ২০১৮, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ২৫৪ বার পঠিত

মুনজের আহমদ চৌধুরী॥ একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার  ৩৫ বছরের জীবনযুদ্ধের সঙ্গী তিনি। সৈয়দা সায়রা মহসীন। বড় পরিবারের, বড় মনের এক নেতার স্ত্রী। পরিবারটির বড় বৌ , বৃহত্তর সিলেটের একটি সম্ভ্রান্ত পিতার কন্যা, সৈয়দ মহসীন আলীর স্ত্রী আর সর্বোপরী একজন মানুষ হিসেবে হিসেবে, জীবনে ইতিবাচক যতটুকু তিনি শিখেছেন- সবটুকু তার ঢেলে দিয়ে মৌলভীবাজারের সদর-রাজনগরের মানুষের পাশে দাড়িঁয়েছেন। এলাকার এমপি হিসেবে কখনো একজন ভিখিরির সাথেও খারাপ ব্যবহার করেছেন এমন বদনাম নেই। তাঁর বাড়ীর দরোজা, সেলফোন সবসময় খোলাই ছিল সাধারন মানুষের জন্য। রোজ সকালে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সাহায্যপ্রার্থীর আশ্রয়স্থল হিসেবে সৈয়দ মহসীন আলীর স্মৃতিটিকে তিনি টিকিয়ে রেখেছেন, সামর্থের সবটুকু দিয়ে। একজন মা, একজন স্ত্রী হিসেবে শেখা জীবনের সবটুকু আন্তরিকতা, স্পষ্টবাদীতা, নৈতিকতা নিয়ে মৌলভীবাজারবাসীর সুখে দুঃখের সঙ্গী হওয়া মানুষটির জন্য শুভকামনা।

তিনি সম্পর্কে আমার চাচী। জীবনের বেশ কয়েকটি বছর প্রায় দুপুরে তার অমৃতমাখা হাতের রান্না করা খাবার খেয়েছি। ১৬ বছর ধরে কখনো খুব কাছে ,এখনো দুরে তাকে তাঁকে চিনি। একজন সহজ হুদয়ের জননেতার ভালবাসার আশ্রয়স্থল স্ত্রী থেকে বহু মানুষের ভালবাসার জননেত্রী হয়েছেন। কিন্তু, মানুষটা পাল্টাননি। নিজের ব্যবহার, ব্যাক্তিত্ব দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। অন্তত মানুষের জন্য কাজ করবার চেষ্টাটা তার আছে, এটুকু মৌলভীবাজারবাসী দেখেছেন। তার সাথে আমার সম্পর্কটা নিখাদই মাতৃস্নেহের। তিনি সব সময় আমাকে বলেন, তুই আমার ছেলের মতো না, তুই আমার ছেলেই। আমারই মতো আজ জীবনের ফেরে বিলেত প্রবাসী, মৌলভীবাজারের একসময়ের দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা কধনরফ জধযসধহ ভাই কথাটা মনেও করিয়ে দেন প্রায়ই।

খুব ভালবাসার কারো জন্য আমি কিছু লিখতে পারি না। লেখাগুলি সত্যের সামনে দাড়িয়ে হৃদয় থেকে লেখি তো, তাই স্মৃতিমাখা চোখদুটো মমতায় সজল হয়।

ভালো থাকবেন চাচী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার আপনাকে এম পি হবার সুযোগ দিতেও পারেন, নাও দিতে পারেন। কিন্তু,  মৌলভীবাজারের লাখো মানুষের হৃদয়ে আপনি থাকবেন। সাধারন মানুষ আপনার উদার মানসিকতার রাজনীতি, বিনয়, আন্তরিকতা নিয়ে পাশে দাড়াবার সক্ষমতা কিছুকাল মনে রাখবে।

আর, আমি? তোমার মমতার কাছে ঋণ কখনো শোধ করবার চেষ্টাও করি না। মমতার, ভালবাসার ঋণ কী কখনো কেউ শোধ করতে পারে? এই স্বার্থের সমীকরনে মাপা সুবিধার অংকে সম্পর্কের সময়েও কিছু মানুষ আসলেই ভালবাসতে জানে, ভালবাসাজানে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”