চলে গেলেন নিউইয়র্ক প্রবাসী শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মোস্তাকিম ইলিয়াছ !

জুলাই ১২, ২০১৮, ১:৪৪ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১৭১ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নিবেদিতপ্রান সমাজসেবী মোস্তাকিম ইলিয়াছ (৬৫) গত শনিবার ৭ই জুলাই ২০১৮ই  সকাল ১১.০৯ ঘটিকায় নিউইয়র্কের মন্টিফিওর হাসপাতালে দুরারোগ্য রোগে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।

মোস্তাকিম ইলিয়াছে মৃত্যুতে প্রবাসে বসবাসরত শ্রীমঙ্গলী কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শনিবার বাদ মাগরিব  নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামী সেন্টার ও  জামে মসজিদে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন রোববার সকাল ১১ ঘটিকায় টটোয়ার লরেল গ্রোভ সিমেট্রিতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মরহুমের ছোট ভাই, নর্থ ব্রংকস ইসলামিক সেন্টার ও জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা মশহুদ ইকবাল কমিউনিটির সকলের কাছে তার বড় ভাইয়ের জন্য দোয়া কামনা করেছেন।

অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাকিম ইলিয়াছ মৌলভীবাজার জেলাধীন শ্রীমঙ্গল থানার টিকরিয়া চক গ্রামের (সরপঞ্চ বাড়ী) একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।  টিকরিয়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম মরহুম মৌলবী মোহাম্মদ ঈসমাইলের ৩ ছেলের মধ্যে ইলিয়াছ ছিলেন সবার বড়।

শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যামিক সার্টিফিকেট ও স্নাতক কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। পড়ালেখার পাশাপাশি খন্ডকালিন চা বাগানে কাজের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হয় তার। সেবার মহান ব্রত নিয়ে ১৯৭৪ সালে শিক্ষকতা পেশায় আত্বনিয়োগ করেন , প্রথম কর্মস্থল ছিল আশিদ্রোন ইউনিয়নের ফটকি প্রাইমারী বিদ্যালয়।

ইতিমধ্যে ক্যারিয়ার পরিবর্তন করে ১৯৮০ সালে যোগ দেন ব্যাংকে । সিলেট, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার, ভৈরবগঞ্জ বাজার এবং সাতগাঁও এলাকায় সোনালী ব্যাংকের শাখা সমুহে সাফল্যের সাথে ৭ বছর চাকুরী করেন।   ১৯৮৭ সালে শিক্ষকতা পেশায় আবার ও ফিরে আসেন শিক্ষানুরাগী মোস্তাকিম ইলিয়াছ। সিন্দুরখান ইউনিয়নের দুর্গাপুর, জাম্বুরাছড়া, ষাড়েরগজ প্রাইমারী স্কুল সমুহে প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্বরত ছিলেন তিনি।

চাকুরীর ব্যাস্থতার মধ্যে ও ঠিকই তিনি পড়াশুনা চালিয়ে গেছেন । সিলেট ল কলেজ এবং চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামের ইতিহাসে মাস্টার্স কোর্স অধ্যায়ন করেন তিনি। এছাড়া সাফল্যের সাথে বি.এড ডিগ্রী সম্পন্ন করেন তিনি।  পেশাগত ক্ষেত্রে চরম উৎকর্ষতার ফলে ১৯৮৯ সালে কমলগঞ্জ উপজেলায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসাবে যোগ দেন তিনি। অত:পর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দায়িত্ব পালন কালে ২০১১ সালে অবসর গ্রহন করেন।

ছাত্র জীবন থেকেই তিনি সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। পল্লী এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবং দরিদ্র দূরীকরন মুলক কার্যক্রমে তিনি রেখেছেন অগ্রণী ভুমিকা। ১৯৭২ সালে তারই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় টিকরিয়া তথা বালিশিরা অঞ্চলে সর্বপ্রথম চালু হয় একটি যুব সংস্থা – যার নাম মুক্তধারা যুবসংঘ । এর প্রতিষ্টাকালীন সেক্রেটারী ছিলেন তিনি।

একজন দক্ষ সংঘঠক হিসাবে মোস্তাকিম ইলিয়াছের রয়েছে চরম খ্যাতি। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্টিত হয় অপর একটি সমবায় সংঘঠন – টিকরিয়া পল্লীমঙ্গল কর্মীসংঘ। তিনি ছিলেন এর প্রতিষ্ষ্ঠকালীন সেক্রেটারী । তার ৭ বছরের মেয়াদে টিকরিয়া গ্রামে দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে নানা ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টিমুলক প্রকল্প বাস্তবায়িন করা হয়। সা¤প্রতিক কালে  তিনি অসংখ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংঘঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এলাকায় শিক্ষার উন্নয়নে তিনি ছিলেন সদা তৎপর।

২০১৭ সালে অক্টোবর মাসে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে মাইগ্রেট করার আগ পর্যন্ত টিকরিয়া জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দারুল র্কিআত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের আওতাভুক্ত টিকরিয়া সেন্টারের পরিচালক ছিলেন তিনি। মরহুমের দুই পুত্র এহছানুল মাহমুদ রাহী এবং আশফাক মাহমুদ রাহাত বর্তমানে নিউইয়র্কে বসবাসরত।

মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী, গুনগ্রাহী, সহকর্মী এবং আত্বীয় স্বজন রেখে গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মোস্তাকিম ইলিয়াছের বিদেহী আত্বার মাগফেরাত কামনার্থে উনার ভাতিজা বাংলা-স্কট নিউজের সম্পাদক  মিজান রহমান কমিউনিটির সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”