জুড়ীতে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ : পুলিশ পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

নভেম্বর ১১, ২০১৭, ৩:১৭ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৭৪ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ জুড়ীর একটি বে-সরকারী ক্লিনিকে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত নবজাতকের স্বজনসহ উত্তেজিত জনতা ১০ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৩ ঘন্টা ক্লিনিকটি ঘেরার করে রাখে। এসময় কর্তব্যরত, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তারা আত্মগোপন করেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
নিহত নবজাতকের স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার পুর্বহাতলিয়া গ্রামের খলিলুর রশীদ তার গর্ভবতী স্ত্রী রাহেলা বেগমকে বাচ্চা ডেলিভারীর জন্য শুক্রবার দুপুরে জুড়ী ক্লাবরোডস্থ আব্দুল আজিজ মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা ৩টায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মেয়ে সন্তান প্রসব করান। বিকেলে সাড়ে ৫টায় বাচ্চাটি মারা গেলে এ মেডিকেল সেন্টারে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। নবজতাকের স্বজনসহ কয়েকশ উত্তেজিত জনতা মেডিকেল সেন্টারটি ঘেরাও করে রাখে। এসয় ক্লিনিকের কর্তব্যরত, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তারা আত্মগোপন করেন। খবর পেয়ে জুড়ী থানার এসআই কানু মালাকারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
  মৃত নবজাতকের বাবা মামুনুর রশীদ অভিযোগ করেন ভর্তির পর থেকে ডাক্তাররা প্রসুতি ও নবজাতকের প্রতি চরম অবহেলা করেন। ডাক্তার ও নার্স রোগিকে ওটিতে প্রায় ২ ঘন্টা ফেলে রাখে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করেননি। রোগির অবস্থা সিরিয়াস হলে ভর্তির সময় তারা জানাতে পারত। প্রয়োজনে তিনি অন্যত্র নিয়ে যেতেন। কিন্তু ডাক্তার ও নার্সের অবহেলায় তার মেয়ে সন্তানটি মারা গেছে। বাচ্চা প্রসবের পর দীর্ঘক্ষণ কোন ডাক্তার ও নার্সকে খোজে পাওয়া যায়নি। দুই ঘন্টা পর তারা মৃত সন্তান রেখে চলে যায়।
 আব্দুল আজিজ মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপক তাপস দাস জানান, রোগীর অবস্থা সিরিয়াস ছিল। ভর্তির সময় প্রসুতির স্বামীকে বিষয়টি জানানো হয়। চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরো জানান, রক্ত শূন্যতা ও পানি শূন্যতায় নবজতাক মারা গেছে। ডাক্তার ও নার্সকে না পাওয়ার ব্যাপারে বলেন, কয়েকশ’ লোক ঘেরাও করতে আসায় ভয়ে তারা কিছু সময় আত্মগোপনে ছিলেন।
জুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, উত্তেজনার খবর পেয়েই তিনি একদল পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।   
     

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন