জুড়ীতে ডাক্তারের অবহেলায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

ডিসেম্বর ৬, ২০১৮, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৪৭ বার পঠিত

জুড়ী প্রতিনিধি॥ জুড়ী উপজেলা সদরের সেন্ট্রাল জেনারেল প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রসুতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ৬ ডিসেম্বর দুপুরের এ ঘটনায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহত প্রসুতির স্বামীসহ স্বজনদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। নিহত প্রসুতি সুলতানা আক্তার (২১) উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের রানীমুরা গ্রামের রাজা মিয়ার স্ত্রী।

রাজা মিয়া অভিযোগ করেন, স্ত্রী সুলতানার প্রসব ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জুড়ীর সেন্ট্রাল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগীর অবস্থা ভাল, নরমাল ডেলিভারী সম্ভব বলে জানান। পরে রোগীকে ডেলিভারী রুমে নিয়ে অক্সিজেন লাগিয়ে রাখেন। এর আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের সাদা প্যাডে আমার স্বাক্ষর নেন। সেখানে কি লিখেছেন তা আমাকে দেখান নি। দুপুর ১২টায় ডাক্তার জানান আমার স্ত্রী মৃত বাচ্চা প্রসব করেছেন। তবে প্রসুতির অবস্থা ভাল। কিছুক্ষণ পর বলেন রোগীর অবস্থা ভাল নয়। আপনারা সিলেট নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন অ্যাম্বুলেন্স দিতে পারেনি। দুপুর ১টায় বলেন রোগী মারা গেছে। অথচ এ সময়ের মধ্যে আমাদেরকে রোগী দেখতেও দেয়া হয়নি। এতে প্রমাণ হয় আসলেই এ হাসপাতালে এমবিবিএস, গাইনী ও সার্জারীর কোন চিকিৎসক নেই। আইডিয়ার ওপর তারা রোগীর চিকিৎসা করে থাকেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে তার স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানকে হারাতে হয়েছে। তিনি এব্যাপারে আইনের আশ্রয় নিবেন।

সেন্ট্রাল হাসপাতালের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন শামীম চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ডিউটি ডাক্তার প্রথমেই রোগীকে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু গাড়ী সংগ্রহে তাদের দুইঘন্টা সময় চলে যায়। এরই মধ্যে প্রসব ব্যথা উঠলে মানবিক কারণে ডেলিভারী রুমে নেয়ার পর মৃত সন্তান প্রসব করেন। উচ্চ রক্তচাপ ও মারাত্মক শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। রোগীর অবস্থা আগে থেকেই জটিল থাকায় তিনি মারা যান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”