জুড়ীতে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ : পুলিশ রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে

নভেম্বর ৫, ২০১৭, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৬৫ বার পঠিত

জুড়ী প্রতিনিধি মৌলভীবাজারের জুড়ীতে পৈতৃক সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দশ বছর ধরে একঘরে (পঞ্চায়েত থেকে বহিস্কার) হয়ে থাকা ফাতির আলী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, পুলিশ রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করায় আমাকে একঘরে করার বিষয়টি আরও পাকাপোক্ত হয়েছে এবং আমার পরিবার হুমকির মূখে পড়েছে।
৫ নভেম্বর রোববার সকাল ১১টায় জুড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফাতির আলীর পক্ষে তাঁর মেয়ে শারমীনা বেগম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় ফাতির আলী ও তাঁর অপর মেয়ে জুনেদা ইয়াছমিন উপস্থিত ছিলেন।
জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের এরালীগুল গ্রামের মৃত তৈমুছ আলীর পুত্র ফাতির আলী অভিযোগ করেন, তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে ভাই-বোনদের মাঝে বিরোধ ছিল। উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর দুই ভাইয়ের শ্বশুর পক্ষের লোক স্থানীয় এরালীগুল পঞ্চায়েতের প্রভাবশালী মুরব্বী আব্দুল লতিফ, উস্তার আলী, ছমির উদ্দিন ছতি, আপ্তাব আলী, মারুফ খান, আমিন আলী গং মিথ্যা অভিযোগে প্রায় দশ বছর পূর্বে তাঁকে পঞ্চায়েত থেকে একঘরে (বহিস্কার) করেন এবং একঘরে করেছেন মর্মে পার্শ্ববর্তী সকল পঞ্চায়েতে লিখিত কাগজ প্রেরণ করেন। দীর্ঘদিন পর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আহমদ বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে পঞ্চায়েত মুরব্বীদের বাড়ীতে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার জন্য নির্দেশ দিলে তিনি ৪/৫জন মুরব্বীর বাড়ীতে গিয়ে ক্ষমা চান। পরে চেয়ারম্যান নিজে তাঁকে নিয়ে এক শুক্রবারে জু’মার সময় মসজিদে যান। সেখানে আবারও পঞ্চায়েতবাসীর কাছে ক্ষমা চাইয়ে তাঁকে পঞ্চায়েতে ঢুকিয়ে দেন। কিন্তু এর এক মাসের মাথায় পঞ্চায়েতের কতেক মুরব্বীর প্রভাবে পঞ্চায়েত মোতাওয়াল্লী আপ্তাব আলী আতাই তাঁকে বলেন, ‘তুমি আর মসজিদে এসো না। তোমাকে আবারও বহিস্কার করা হইল’ বলে তাঁকে মসজিদ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়া হয়। সেই থেকে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগে তাঁকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে এবং তাঁর মেয়েদের বিয়েতে বিভিন্ন ভাবে বিঘœ সৃষ্টি, জমির ফসল, বাঁশ কেটে নেয়াসহ সামজিক ও মানষিক ভাবে বিভিন্ন নির্যাতন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান, আটপনীর মুরব্বীদের স্বরণাপন্ন হই। তাঁদের আহ্বানে পঞ্চায়েত মুরব্বীগণ সাড়া না দিলে আটপনীর পরামর্শে আমি ষোলপনীর ধারস্থ হই। ষোলপনীর মুরব্বী হাজী আপ্তাব উদ্দিন মহালদার (প্রয়াত) ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাছিব (প্রয়াত) বিষয়টি সমাধানের জন্য বিবাদী পক্ষকে অসংখ্যবার তলব করেন এমনকি তাঁদের বাড়ীতেও যান। কিন্তু তাঁরা কোন সাড়া দেন নি। এক পর্যায়ে বিষয়টি সাংবাদিকদের দৃষ্টিগোছর হলে গত ২৮.৫.১৭ইং একটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পত্রিকার সংবাদটি দৃষ্টিগোছর হলে ৫নং আমল গ্রহনকারী আদালত, মৌলভীবাজার স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জুড়ী থানাকে নির্দেশ দেন। এ খবর পেয়ে বিবাদীগণের কয়েক আতœীয় (দেশী ও প্রবাসী) বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি সম্মত হই। কিন্তু বিবাদীরা সাড়া না দেয়ায় উদ্যোক্তারা ব্যর্থ হন। এদিকে বিষয়টি আপোষ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জালাল উদ্দিন আমাকে অনুরোধ করলে আমি তাতেও সম্মত হই। তিনি আমাকে বললেন দুইজন মুরব্বী নিয়ে থানায় যেতে। কিন্তু ঐ সময় রমজান মাস এবং আমার মুরব্বীগণ মসজিদে এতেকাফে থাকায় উনারা যেতে পারবেন না বিধায় ঈদের ১/২দিন পরে বৈঠকের তারিখ দেয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমার কথায় কর্ণপাত না করে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং আমার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করেন। যে কারনে তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিন বিষয়টির সত্যতা ও লিখিত প্রমাণাদি পেলেও বিষয়টির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং আমাকে বলেন, বিবাদীরা আপোষ মানে না। পুলিশ বিবাদীগণ কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করায় বিজ্ঞ আদালত মামলাটি (মোকদ্দমা নং pt-১৯৯/১৭) প্রতিবেদনের পক্ষে নিষ্পত্তি করেন। এতে করে পঞ্চায়েতের প্রভাবশালীরা বলে বেড়াচ্ছেন শুধু পঞ্চায়েত নয়, পুলিশ ও আদালত আমাকে একঘরের স্বীকৃতি দিয়েছে। সমাজের নির্যাতিত মানুষকে পুলিশ যেখানে সুরক্ষা দেয়ার কথা সেই রক্ষক পুলিশ প্রভাবশালী ধারা প্রভাবিত হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করে প্রভাবশালীদের ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সাথে আমার অসহায় পরিবারকে হুমকির মূখে ঠেলে দিয়েছে। আমি দেশের প্রচলিত আইন, সমাজ ও ধর্মবিরোধী কোন কাজ করিনি। শুধুমাত্র পৈতৃক সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালীরা তাঁদের ব্যক্তিত্ব জাহির করতে গিয়ে আমাকে একঘরে করেন। এ কারনে দীর্ঘ ৯/১০ বছর থেকে আমি আমার পরিবার নিয়ে সামাজিক ভাবে মানবেতর দিন যাপন করছি। এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ফিরে পেতে এবং পূর্বের মত সমাজবদ্ধ ভাবে বসবাসের লক্ষ্যে ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় জাতির বিবেক সাংবাদিকদের স্বরণাপন্ন হলাম’।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন