জুড়ীর জিয়ার খাল ভরাটে বোরো ধানে পানিসেচ ব্যাহত 

মার্চ ৩, ২০১৮, ২:৫৭ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৯২ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ মৌলভীবাজারের জুড়ীর জিয়া খাল ভরাট হওয়ায় প্রায় ২০০ হেক্টরের বোরো ধানে পানি সেচ প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানের উৎপাদন লক্ষমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের মানিকসিংহ এলাকার জিয়া খাল বর্তমানে হযরত শাহ্খাকী (রহঃ) খাল নামে পরিচিত। এ খালটি জুড়ী নদীর শাখা নদী কন্টিনালার মুখ থেকে শুরু হয়ে আছুরি ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকার কৃষকদের প্রায় ২০০ হেক্টর জমির বোরো ক্ষেতের পানি সেঁচ প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। আশির দশকে এ খালটি জিয়ার খাল নামকরণ করে পুনঃখননের পর দীর্ঘ ২০ বছরে পলিতে ভরে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এতে উঠতি বোরো ধানে পানিসেচ ব্যাহত হচ্ছে। বাছিরপুর এলাকার কৃষক হারিছ আলী জানান, এ খালটি ভরাট হওয়ায় ধানে পানি সেচ দেয়া যায় না। একমাত্র বৃষ্ঠির ওপর চাষীদের নির্ভর করতে হয়। ক্ষরায় ধান লাল হয়ে যায়। টাকা পয়সা খরছ করে বোরো ধান রোপন করলেও পানি সেচের অভাবে উৎপাদন অনেকাংশে কমার আশংকা করছেন। শত শত কৃষকের বোরো চাষের সুবিধার কথা চিন্তা করে অবিলম্বে তিনি এ খালটি পুনঃখননের দাবী জানান। সরেজমিনে গেলে বোরো ক্ষেতে কর্মরত কৃষকরা জানান, বোরো চাষে তারা এ খালটির  উপর নির্ভরশীল থাকেন কিন্তু এ খালটি পলি মাটিতে ভরে যাওয়ায় এখন আর কোন কাজে আসছে না। সরকারীভাবে খালটি খনন করে কন্টিনালা নদীর মুখে একটি স্লইচ গেট বসিয়ে শীত মৌসুমে গেট খুলে দিলে এবং বর্ষা মৌসুমে বন্ধ করে রাখলে আগাম বন্যার হাত থেকে কৃষকের পাকা বোরো ফসল রক্ষা করা যাবে।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার জানান, জিয়া খালের পানি দিয়ে হাকালুকি হাওরপারের প্রায় ২শ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হতো। কিন্তু অনেক আগেই তা ভরাট হওয়ায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তবে এ বছর বোরো ক্ষেতে বিকল্প পন্থায় পানি সেঁচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুনঃখননের জন্য সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। শিগ্গরই খালটি খনন করা হবে বলে তিনি আশা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”