জুড়ী ও বড়লেখায় হাসপাতাল উদ্বোধনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম নানা সংকটে জর্জরিত হাসপাতালে চালু হয়নি জরুরি ও অন্তর্বিভাগ

সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৩৪৩ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ জুড়ী উপজেলায় নব-নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের অনানুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু হয় ৭ মাস আগে ১ ফেব্রুয়ারী। অথচ, লোকবল, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ঔষুধের সংকটের কারণে এখনো জরুরি ও অন্তর্বিভাগ চালু হয়নি। এরই মাঝে মঙ্গলবার এ হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে জুড়ী আসছেন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি। ২০১৩ সালের ৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এ হাসপাতালে নেই অ্যাম্বুলেন্স ও গ্যাস সংযোগ। ফলে এলাকার লোকজন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম এমপি বড়লেখায়ও ৩১ শয্যা থেকে সম্প্রসারণকৃত ৫০ শয্যার নবনির্মিত হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। ৫০ শয্যার এ হাসপাতলেও লোকবল না থাকায় ৩১ শয্যার লোকবল দিয়েই কর্তৃপক্ষকে হাসপাতালটি চালিয়ে নিতে হবে।
জুড়ী উপজেলা হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর এলাকায় মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের এক পাশে সরকারের অধিগ্রহণকৃত ৫ একর জমিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মিত হয়। ২০১৩ সালের ৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় ২ বছর অতিবাহিত হলেও নানা জটিলতায় নিজস্ব ভবনে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়নি। অবশেষে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অস্থায়ী কার্যক্রম চলছিল। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপরীতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ৩ জন চিকিৎসা কর্মকর্তা ও ৩ জন বিশেষজ্ঞ (গাইনি, মেডিসিন ও অ্যানেসথেসিয়া) চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে ২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (গাইনি ও অ্যানেসথেসিয়া) প্রেষণে অন্য ২টি হাসপাতালে কাজ করছেন। নার্স ২ জনের ১ জন প্রেষণে মৌলভীবাজারের নার্সিং ট্রেনিং সেন্টারের প্রশিক্ষক পদে নিয়োজিত। আরেক জন দীর্ঘ দিন ধরে অননুমোদিত ছুটিতে। আয়া ১ জন আছেন। সুইপার ৪ জনের স্থলে রয়েছেন ২ জন। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী রয়েছেন ৫ জন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলায় শুধু বহির্বিভাগ চালু আছে। সেখানে শিশু ও নারীসহ ৭ থেকে ৮ জন রোগী। একজন মেডিকেল অফিসার তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। দোতলায় পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড ফাঁকা। সেখানে কোনো শয্যার ব্যবস্থা নেই। সাগরনাল এলাকার মোহাম্মদ আলী, শামীম আহমদ ও হাবিবুর রহমান জানান, সরকারি হাসপাতালের অভাবে এমনিতেই দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার লোকজন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। বিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণের পর মানুষ আশা করেছিল এখানে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে। চালুর ৭ মাস পার হলো। অথচ, জরুরি ও অন্তর্বিভাগ এখনও চালু হয়নি। ফলে সেবা মিলছে না। হঠাৎ কোনো মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে এখনো আগের মতো পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে হয়।
জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হলেও ৩১ শয্যার আদলে চলছে। এরপরও পর্যাপ্ত লোকবল, শয্যা, চিকিৎসার সরঞ্জাম ও ঔষুধ সরবরাহ নেই। নেই অ্যাম্বুলেন্স ও গ্যাস সংযোগ। মাটির চুলায় প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হচ্ছে। এ কারণে জরুরি ও অন্তর্বিভাগ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর হয়ত সব সমস্যার সমাধান হবে।
সিভিল সার্জনের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিনেন্দু ভৌমিক জানান, জুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন ও কমপ্লেক্সটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর লোকবলসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহম্মদ হোসেন জানান, ৩১ শয্যার এ হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রী মহোদয় এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। কিন্তু ৩১ শয্যার হাসপাতালেই নেই গাইনি কনসালটেন্ট, সার্জারী কলসালটেন্ট। এই লোকবল দিয়েই হাসপাতালটি চালিয়ে নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”