জোড়া খুন :  ওদের ফেসবুকের ছবি কাদাঁচ্ছে বন্ধু ও স্বজনদের

ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭, ১১:২৬ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৫৪ বার পঠিত

মু. ইমাদ উদ দীন॥ ফেসবুক দেখে অঝোরে কাঁদছেন। বন্ধু,সহপাঠী,সহকর্মী আর স্বজন। এখন সবার দৃষ্টি ওদের ফেসবুকে। নিহতদের ছবি আর স্ট্যাটাস দেখে নিজেরা কাঁদছেন। কাঁদাচ্ছেন অন্যদেরকেও। ওদের ছবি দিয়ে ফেসবুকে দিচ্ছেন স্ট্যাটাস। লিখছেন রাজনীতি ও এই জোড়া হত্যাকান্ড নিয়ে। দাবী তুলছেন খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। ছাত্রলীগের দু’কর্মী খুন নিয়ে সরব সোশ্যাল মিডিয়া। নিহত দুই ছাত্রলীগ কর্মীর ছবি আর স্ট্যাটাসে এখন সয়লাব।

জোড়া খুনের পর এখনো হয়নি মানববন্ধন। প্রতিবাদ সভাও হয়নি একটিও। বন্ধু,সহপাঠী ও স্বজন এবিয়ষয়ে আগ্রহী হলেও অদৃশ্য কারনে তা থেমে যাচ্ছে। এই হত্যাকান্ডের নেপথ্যে রাজনীতিক দ্বন্ধ থাকায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদী হতে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন না। আর যারা আগ্রহী হচ্ছেন তাদেরকেও কৌশলে নানা অঝুহাতে দমিয়ে রাখা হচ্ছে। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে জেলা জুড়ে সর্বমহলে। অনেকেই নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করছেন। তাদেরকে স্বান্তনা ও অভয় দিচ্ছেন।

হত্যার বিচার চাইতে রাজপথে আন্দোলনে নামতে তারা প্রস্তুত বলেও জানাচ্ছেন। স্থানীয় অনেক স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক এই নির্মম ঘটনার নিন্দা জানাতে,বিচার চাইতে ও সচেতনতা বাড়াতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করতে তাদের সহযোগীতা চাইছেন। কিন্তু তারপরও সব অজানা কারনেই থেমে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে নেপথ্যে অদৃশ্য ছায়া কাজ করছে। এমনটিই বলছেন নিহত ছাত্রলীগ নেতা শাবাব ও ছাত্রলীগ কর্মী মাহির পরিবার ও স্বজন। তবে এ ঘটনার পর রাজপথে আন্দোলনে না নামতে পারলেও জেলার নানা শ্রেণী ও পেশার সচেতন নাগরীকবৃন্দ নিজেদের ক্ষোভ তুলে ধরছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

গেল বৃহস্পতিবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত স্যোশাল মিডিয়ায় অন্তত এমনটিই প্রত্যক্ষ হচ্ছে। এবিষয়ে স্থানীয় অনেকেই তাদের ফেসবুক আইডিতে নানা মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। নিজেদের আইডিতে কেউ এঘটনার অন্তরালের খবর জানতে চাচ্ছেন। আর নেপথ্যের অনেক বিষয়ও নানা ইঙ্গিতে তুলে ধরছেন। আবার অনেকেই চলমান ঘুনে ধরা রাজনীতে বিরাজমান দ্বন্ধ সংঘাত আর হীনমন্যতা বিষয়টি তুলে ধরছেন।

এ ঘটনার নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে এমন কুলষিত রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তনের কথা বলছেন। এর পাশাপাশি মূল্যবোধ মনুষ্যত্ব মানবিকতা নীতি নৈতিকথা সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়টির কথাও বলছেন। এছাড়া তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের প্রতি সংশ্লিষ্টদের আরো দ্বায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের কথাও তারা লিখছেন স্যোশাল মিডিয়ায়। নিহত মোহাম্মদ আলী শাবাব ও নাহিদ আহমদ মাহিকে নিয়ে তাদের বন্ধুরা ফেসবুকে লিখছেন নানা স্মৃতি কথা। আর ধিক্কার জানাচ্ছেন এমন ঘৃণ্য রাজনীতির। এরই সাথে তুলে ধরছেন চলমান ঘুনে ধরা রাজনীতি হিংসা পরায়নতা। রাজনীতির অন্তরালের সংঘাত আর দ্বন্ধের বিষয়টি। ওরা আর কোনদিনও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবেনা। কথাও হবেনা মুঠোফোনে। খেলাধূলা আর আড্ডায় মাতাবেনা বন্ধুদের।

গেল বৃহস্পতিবার থেকেই চিরতরে মুখ বুঝেছে। ঘাতক দল কেড়ে নিছে তাদের জীবন প্রদীপ। এখন এমন আবেগময়ী নানা কথা আর স্মৃৃতি তাড়া করছে বন্ধু ও সহপাঠীদের। নিহতদের ফেসবুক ওয়ালে হাঁসিমাখা ছবি কাঁদাচ্ছে সবাইকে। জীবন্ত এ ছবিগুলো যেন কথা বলছে। এ দৃশ্যগুলো দেখে আর্তনাদ আর আহাজারি শেষ নেই। চলছে  শোকের মাতম। আপজন হারানোর বেদনায় নির্বাক পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। পুরো জেলা জুড়ে এই জোড়া খুনের ঘটনায় লোকজন শোকে বিহবল। চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

নিহত ছাত্রলীগ নেতা শাবাব তার ফেসবুক আইডিতে সর্বশেষ ৭ ডিসেম্বর মোটর সাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে একটি ছবি পোষ্ট দেন। আর ছাত্রলীগ কর্মী মাহি তার ফেসবুকে নিজের স্কুল মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ছবি ৪ ডিসেম্বর আপলোড দেন। শাবাবের পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হলেও মাহির অভাব অনটনের পরিবার। শাবাব নিজের মুঠোফোন থেকে ফেসবুক চালালেও মাহি তার মামা গোলাম মো: ইমরান আলীর মুঠোফোন ধার করে ফেসবুক চালাতেন। শাবাবের ফেসবুক আইডিতে দেখা যায় আপলোড করা বেশির ভাগ ছবি ও স্ট্যাটাস রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিয়ে। আর মাহির ফেসবুক আইডিতে দেখা যায় আপলোড করা বেশির ভাগ ছবি ও স্ট্যাটাস অনুপ্রাণিত করার। মাহির আইডিতে সিলেট ও মৌলভীবাজারের

প্রকৃতি নিয়ে প্রোফাইল ছবি। সদ্য প্রয়াত ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের সাফল্যগাথা নিয়ে একটি অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেওয়া অনুপ্রেরণামূল হাস্যরসে ভর পুর একটি বক্তব্য। দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত কুড়িগ্রামের আবু সায়েমের বিসিএস ক্যাডার হওয়ার গল্প। শিক্ষকের মর্যাদা। শিল্পী আব্দুল জব্বারে একটি গান ও মাকে নিয়ে একটি চমৎকার গান। শাবাবের ফেসবুক আইডিতে দেখা গেছে অনেকের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া। মিরা চৌধুরী নামে একজন তার ফেসবুকে লিখেছেন দুই দিনের অতিথি…শাবাব প্রতিটি ছাত্র নেতার অন্তরে থাকবে। আল্লাহ সবাইকে জান্নাত দান করুন। আহমেদ চৌধুরী নাঈম লিখেছেন বুকের বামপাশের জায়গা দখল করে চলে যাওয়া ঠিক হলো!। এন জাহান চৌধুরী লিখেছেন হ্রদয় বিদারক,এত সুন্দর ছেলেটা অল্প বয়সে পৃথিবীর আনন্দ হারাল। জাবেদ ইমন অপু লিখেছেন আর কোন তরে দেখতাম পারতাম নায় ভাবতে কষ্ঠ লাগেরে দোস্ত। জীবন যুদ্ধ নামের আইডিতে একজন লিখেছেন। এখনো সময় আছে। যদি এই ঘৃণ্য ছাত্ররাজনীতি থেকে ওদেরকে না ফেরান। তা হলে এই পরিণতি বরণ করতে হবে।

এছাড়া অনেকেই এই জোড়া খুনিদের ফাঁসী চেয়ে ক্ষোভের সাথে বলেছেন এভাবে যেন আর কোন মায়ের বুক খালি না হয়। নোংরা রাজনীতির কারনে দলীয় ঘাতকদের হাতে  অকালে আর কোন মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন ঝরে না যায়। উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে সিনিয়র জুনিয় দ্বন্ধের জের ধরে ছাত্রলীগের একই গ্রুপের দুই কর্মী গ্রুপের প্রতিপক্ষদের হাতে খুন হন।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”