ধর্মঘটী পরিবহণ শ্রমিকদের তান্ডব বড়লেখায় অ্যাম্বুলেন্সে শিশু মৃত্যুর মামলায় গ্রেফতার ২

ডিসেম্বর ৫, ২০১৮, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৪৩ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘট চলাকালে উপজেলার চান্দগ্রাম বাজারে অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেয়ায় ৭ দিন বয়সি শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা রুজুর ৩৪ দিন পর পুলিশ ২ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলো উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহদিকোনা গ্রামের জহির আহমদের ছেলে জাকির হোসেন রাজন (২২) ও একই গ্রামের হবিব আলীর ছেলে আলিম উদ্দিন (৪০)।

বুধবার পুলিশ আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। এ হত্যা মামলার তদন্ত কর্তকর্তা থানার ওসি (তদন্ত) মো. জসিম উদ্দিন মঙ্গলবার রাতে আসামীদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করেন। ৭ দিন বয়সি শিশুহত্যা মামলার দুই আসামী গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, পুলিশ অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে। জানা গেছে, বড়লেখার সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের দুবাই প্রবাসী কুটন মিয়ার শিশু মেয়ে খাদিজা আক্তার অসুস্থ হলে গত ২৮ অক্টোবর সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক শিশুটিকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। শিশুর অভিভাবকরা অ্যাম্বুলেন্সে সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথে পুরাতন বড়লেখা বাজার, দাসেরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পরিবহন শ্রমিকরা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে রাখে। অনেক অনুনয় বিনয়ের পর তিন স্থান থেকে ছাড়া পেলেও অ্যাম্বুলেন্সটি চান্দগ্রাম বাজারে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা সেখানে দেড়ঘণ্টা আটকে রেখে চালককে মারধর করে। মায়ের কাকুতি নিয়ে তারা তামাশা করে। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্সেই শিশুটি মারা যায়।  নির্মম এ ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সারাদেশে শুরু হয় তোলপাড়, ঝড় ওঠে নিন্দার। কেন্দ্রিয় জাপা নেতা আহমেদ রিয়াজের তৎপরতায় জাতীয় সংসদেও বিষয়টি উত্থাপন করেন সুনামগঞ্জের একজন সংসদ সদস্য। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পরিবহন শ্রমিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্নস্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করতে ৩১ অক্টোবর দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। তাছাড়া শ্রমিকদের উশৃঙ্খল এইসব কর্মকান্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি পদক্ষেপ নিয়েছে, আদালত তাও জানতে চান। ঘটনার ৩ দিন পর গত ৩১ অক্টোবর ওই শিশুর চাচা আকবর আলী ১৬০ থেকে ১৭০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা করেন (মামলা নম্বর-১৮)। কিন্তু ঘটনার দীর্ঘদিন পরও রহস্যজনক কারণে পুলিশ জড়িত একজন আসামীকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। এরই মাঝে শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে জনস্বার্থে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত সোমবার (৩.১২.১৮) রুল জারি করেন হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”