নতুন কুঁড়িতে হাসছে চা বাগান; চা পাতা চয়ন শুরু

মার্চ ১৪, ২০১৯, ১০:২৮ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৩২ বার পঠিত

তোফায়েল পাপ্পু॥ দেশের চায়ের কথা স্মরন হলেই প্রথমে মৌলভীবাজারের কথা মনে পড়বে। দেশের সবচেয়ে বেশী চা বাগান রয়েছে এ জেলায়। আর জেলার শ্রীমঙ্গলে রয়েছে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে এখানকার চা বাগানজুড়ে এখন কচি সবুজ রঙের ছোঁয়া। পাতায় পাতায় সবুজ সদ্য অঙ্কুরিত। প্রতিটি টিলা-সমতল প্রান্তরে সবুজের সমারোহ। সেই সতেজ আর স্নিগ্ধ রূপ নিয়ে দু’টি পাতা একটি কুঁড়িরা এখন বাগানে বাগানে মাথা তুলে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে।

চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের প্রতিটি বাগানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের চা বাগানের রূপ এখন এমন। সম্মিলিত সবুজের অপূর্ব জেগে ওঠা!

কিছুদিন আগে এই চা গাছের মাথা ছাঁটাই (প্রুনিং) করা হয়েছিল। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রতি বছর এভাবে চা গাছগুলোর মাথা নির্দিষ্ট মাপ অনুসারে ছেঁটে ফেলা হয়। তারপর চলে অপেক্ষাপালা। চা শ্রমিক, সর্দার (দলের প্রধান), বাবু (ক্লার্ক) এবং ম্যানেজার (ব্যবস্থাপক) এরা গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকেন এদিনটির জন্য। চা বাগানে কখন কুঁড়িরা চোখ মেলে তাকাবে।

গেলো কয়েকদিন আগে বৃষ্টির দখলে পড়ে স্বস্তি ফিরে পায় চা গাছগুলো। সেই বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় উর্বর হয় প্রকৃতি। সেই উর্বরতার দিগন্তবিস্তৃত উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে হাসতে থাকে দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির দল। চা বাগানের পথ ধরে এগোলোই এখন চোখে পড়ে ঘনসবুজের ছড়াছড়ি। পাহাড়ি টিলার ধুসর মাটির বুক থেকে সেই সবুজেরা যেন আজ সদলবলে প্রস্ফুটিত।

মঙ্গলবার ও বুধবার (১২ ও ১৩ মার্চ) জেরিন চা বাগান, ইস্পাহানি চা বাগান, নুরজাহান চা বাগান, বিটিআরআই চা বাগান, মাজদিহি চা বাগান, প্রেমনগর চা বাগানসহ কয়েকটি চা বাগান ঘুরে দেখা গেলো সেই কুঁড়িদের দিগন্তবিস্তৃত। ঘনসবুজ পাতাগুলো গভীর সৌন্দর্যে রাঙা হয়ে আছে। চা বাগানে এখন সবুজ জেগে উঠেছে।  দেখে মনে হয় যেনো সবুচ প্রলেপ বিছানো হয়েছে।

চা বাগানের রতন গোয়ালা বলেন, প্রায় দু’মাস আগে কাটা হয়েছে গাছগুলো। কয়েকদিন আগের বৃষ্টি পেয়ে এখন চা গাছগুলোতে নতুন কুঁড়ি ছাড়তে শুরু করেছে। যে চা গাছের কুঁড়িগুলো অন্যগুলোর থেকে বেশি বড় হয়ে গেছে সেগুলোকে ইতোমধ্যে তোলা হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

এদিকে মৌলভীবাজারের চা শিল্পাঞ্চলে চলতি চা উৎপাদন মৌসুমের (২০১৯) প্রথম চা পাতা চয়ন (টিপিং) শুরু হয়েছে। গত ২/৩ দিন থেকে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা বাগানে পাতা চয়ন শুরু হয়। শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী জানান, তাদের চা বাগানগুলোতে ১২ মার্চ থেকে চা পাতা চয়ন শুরু হয়েছে।

ডিসেম্বরে মৌসুম শেষে চা গাছ ছাটাই অর্থাৎ গ্রুনিং এর পর নিয়মানুযায়ী ২ মাস ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকে। বৃস্টির পর নতুন কুঁড়ি গজালে শুরু হয় পাতা চয়ন এবং উৎপাদন। শাহজাহান আকন্দ এবার মৌসুমের শুরুতে ভাল বৃস্টিপাতকে ‘গোল্ডেন রেইন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ বৃষ্টি চা গাছের জন্য ভাল সুফল বয়ে আনবে। বিশেষ করে ইয়াং টি এর জন্য খুব ভাল হবে এবং রেড স্পাইডার কমে যাবে।

ইস্পাহানি’র জেরিন চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, অনেক চা বাগানে এখন পাতা চয়নের কাজ শুরু হয়েছে। পাতা চয়নকে ইংরেজিতে ঞরঢ়ঢ়রহম বলে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাগানে ৪ মার্চ (সোমবার) থেকে প্রথম পাতা চয়নের কাজ শুরু হয়। এ পাতা চয়ন চলবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। তারপর আবার চা গাছের ডাল ছাঁটাই শুরু হবে। চা গাছের ডাল ছাঁটাইকে ইংরেজিতে প্রুনিং বলে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দু’মাস চা বাগানে পাতা চয়নের কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকে।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিটিআরআই) পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আগাম বৃষ্টি হওয়াতে সুফল বয়ে এনেছে চায়ের জন্য। অনেক বাগানেই চায়ের পাতা চয়নের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”