বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কে অন্তহীন জনদুর্ভোগ ৫ মাসেও শুরু হয়নি সংস্কার কাজ

ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০১৮, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৬৪ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম (বড়লেখা) আঞ্চলিক মহাসড়কের সংস্কার কাজ এখনও শুরু হয়নি। বছরের মার্চ মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত টানা কয়েকদফা বন্যায় এই সড়কটি ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এতে অন্তহীন দুর্ভোগ নিয়ে জনসাধারণকে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

 বন্যার পানি নেমে যাওয়ার অন্তত ৫ মাস পার হলেও সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তা নাহলে বর্ষায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ও সরেজমিনে জানা গেছে, মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম (বড়লেখা) আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। চান্দগ্রাম থেকে জুড়ী কুইয়াছড়ি ব্রিজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ কিলোমিটার। গত বছরের মার্চ মাস থেকে মৌলভীবাজারে শুরু হয় বন্যা। মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া স্থায়ী বন্যা সেপ্টেম্বর মাসে বিদায় নেয়। কয়েক দফা বন্যার পানিতে নিমজ্জিত এই সড়কের সফরপুর, হাতলিঘাট, কুয়াইয়াছড়ি, বাছিরপুর, পানিধার এলাকা বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে বন্যার পানি নেমে যায়। এরপর উকি দেয় সড়কে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তগুলো। এসব গর্তে আটকা পড়ে ছোট-বড় অসংখ্য যানবহন নষ্ট হয়েছে। প্রায় মাসখানেক পর সওজ কর্তৃপক্ষ জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কটিতে ইট-বালু ফেলেছিল। কিন্তু জোড়াতালির এ কাজে জনদুর্ভোগ কমার পরিবর্তে বাড়তেই থাকে। এ অবস্থায় প্রায় পাঁচ মাস থেকে ছোট-বড় যানবহনগুলো মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে চলছে। এতে চলাচলকারী লোকজন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কিন্তু স্থায়ীভাবে সড়কটির সংস্কার কাজ এখনও শুরু হয়নি।

সরেজমিনে ২৮ ফেব্রুয়ারী বুধবার  গর্তগুলো আগের চেয়ে বড় আকার ধারণ করেছে। নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত কিছুস্থানে সওজ কর্তৃপক্ষ ইটবালু ফেলেছে। সে সব স্থানগুলো অসমতল রয়েছে। কয়েকটি স্থানে পিচ উঠে মাটি বেরিয়ে গেছে। এসব স্থানগুলোতে বৃষ্টিতে কাদা আর রোদে ধুলোবালি উড়ে পরিবেশ বিপর্যস্ত করছে। ছোটবড় গাড়িগুলো হেলে দুলে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে।

কাঁঠালতলী সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডের সদস্য রাজু আহমদ জানান, ‘ভাই সড়ক না নরক কিতা কইতাম। পাঁচ-ছয় মাস আগে বন্যায় সড়কটা ভাঙছিল। এখন আর আগর লাখাইন নায়, ভাঙন আরো বাড়ছে। ইগুলা কিতা কেউ দেখইন নানি।’ সিএনজি চালক কাউছার আহমদ জানান, বেহাল রাস্তার কারণে দেখুইন আমার গাড়ির অবস্থা। বেশি কষ্ট হয় রোগিদের হাসপাতাল নেয়ার সময়। এই সড়কের কাজ মেঘ পড়ার পর শুরু অইত না কিতা।’

এই সড়ক দিয়ে প্রায় চলাচল করেন কলেজ শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম ও জাকারিয়া আহমদ। কথা হয় তাদের সঙ্গে। তারা বলেন, ‘টানা কয়েকমাসের বন্যায় সড়কটি একেবারে ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় আছে। সড়ক দিয়ে প্রত্যেকদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। প্রতিদিন ভাঙা সড়কে ধুলাবালি উড়ছে। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারপরও সড়কটি সংস্কারে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। এতোদিন ধরে সড়কটির কাজ না হওয়া দুঃজনক। আবারও যদি বন্যা শুরু হয়। তাহলে এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচলা একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমাদের দাবি সড়কটি যেন দ্রুত সংস্কার করা হয়।’

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ জানান, সড়কের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৪ কোটি টাকা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এটা পাশ হয়েছে। টেন্ডার হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া ও টেন্ডার মূল্যায়ন প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়। অনুমোদন হলেই আশা করা যাচ্ছে আগামী মার্চের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। এছাড়া ওই সড়কে মৌলভীবাজার থেকে চান্দগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন অংশের ৯ দশমিক ৭ কিলোমিটার রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে আরও ৫৮ কোটি টাকা উন্নয়ন কাজের মূল্যায়ন প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন হয়েছে। ঠিকাদার শীঘ্রই কাজ শুরু করবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”