বন বিভাগের অনিয়ম-১ : সামাজিক বনায়নের গাছ বিক্রয়ে অনিয়ম : সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত

এপ্রিল ১৬, ২০১৮, ৭:২০ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১৪৫ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকার সামাজিক বনায়নের গাছ টেন্ডার ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে। ওই সব এলাকায় নির্দ্দারিত কয়েকটি লটের গাছ বিক্রির টেন্ডার হলেও বন বিভাগোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজসে ওই এলাকার আসে পাশের সামাজিক বনায়নের গাছ নগদ টাকায় বিক্রি করে দেয়। অভিযোগ উঠেছে কার্যাদেশ প্রাপ্ত ব্যাক্তি লটের টাকা জমা না দিয়েও গাছ কেটে নিয়েছেন। বন বিভাগের অনিয়ম ও দূর্নীতির কারেণে সরকার ৩৫-৪০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সম্প্রতি সদর উপজেলার আমতৈল গ্রামের আব্দুল মজিদ নামের এক ব্যাক্তি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ে রাজস্ব আদায় না করে গাছ কেটে নেয়ায় বন বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করেন সদর উপজেলার শাহবন্দর হইতে দিঘির পাড়, ঘরোয়া ছনকাপন, চমৎকার আমবেলা হয়ে কাগাবলা সংযোগ সড়কের উসমান শাহ মাজার হইতে কাগাবলা সাড়ে ১৮ কিঃ মিঃ ও দেড় কিঃ মিঃ মিলে মোট ১০ কিঃ মিঃ রাস্তায় মোট ৫৭টি লটের মধ্যে ৫৪টি লট ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল টেন্ডার নেন মুহিবুর রহমান তরফদার। ওই গাছগুলো এক বছরের মধ্যে কেটে নেয়ার কথা থাকলেও ৩ বছর অতিবাহিত হয়েছে। ৩ বছরের মধ্যে সব গাছ গুলো কেটে না নেয়ায় উপকারভোগী ও সরকার বড় অংকের ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। অপর ৩টি লটের টাকা কার্যাদেশ অনুয়ায়ী প্রাপ্ত মোঃ ফজলুর রহমান নির্দ্দারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে গাছ কেটে নেন।
সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০০৪ অনুয়ায়ী উপকারভোগীর একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকে, ওই কমিটিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে বন বিভাগকে জানালে গাছ বিক্রির টেন্ডার করা হয়। বন বিভাগের যোগসাজশে ১৪/১১/২০১৪ এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা বিগত কমিটির বেশ কয়েকজনকে মৃত দেখিয়ে নতুন করে একটি ব্যস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটির সদস্যরা বন বিভাগের সাথে যোগাযোগীর মাধ্যমে নিয়ম বহিরভূত ভাবে গাছ বিক্রি করে।
এ ছাড়া বন বিভাগ লটের টাকা পরিশোধের জন্য ১০/০৫/১৬ তারিখে মুহিবুর রহমান তরফদারকে চুড়ান্ত নোর্টিশ প্রদান করেন। কিন্তু লটের টাকা পরিশোধ না করে পর্যায়ক্রমে গাছ কেটে বিক্রি অভ্যাহত থাকে ও রাস্তার দুই পাশের গাছ দৃশ্যমান নেই। লটের টাকা পরিশোধ না করার কারণে বিভিন্ন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মামলা হলেও রহস্যজনক কারণে উল্লেখিত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগে আরোও উল্লেখ্য করেন, বন বিভাগের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বাগান মালি মুহিতের সহযোগীতায় টেন্ডার হওয়া ওই লটের সাথে দীঘীরপার বাজার থেকে শমসেরগঞ্জ সড়ক হয়ে প্রায় ৩ কিঃ মিঃ রাস্থার উভয় পাশের বন বিভাগের মার্কা বিহিন সামাজিক বনায়ন গাছ ও আমতৈল বাজার থেকে গ্রামীন ব্যাংকের সম্মুখ হয়ে মাসকান্দি হয়ে সনকাপন বাজার পর্যন্ত বন বিভাগের অবিক্রিত ৪৫০টি আকাশমনি ও মেনজিয়ামসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২০০টি গাছ। যার আনুমানিক মূল্য ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা।
সড়কের সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নেয়ার বিষয়ে অভিযোক্ত মুহিবুর রহমান তরফদার বলেন, এটা লটের মধ্যে ছিল। লটের টাকা জমা দিয়ে গাছ কেটে নিয়েছেন বলে জানান।
ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা চস্পা লাল বৈদ্য বলেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। এ বিষয়ে তারা তদন্ত করবেন। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কেউ গাছ কেটে নিতে পারবেনা। তবে মুহিবুর রহমান তরফদার ১০টি লটের টাকা এখনও জমা দেননি। এসব লটের টাকা পর্যায় ক্রমে দিচ্ছেন। টাকা দেয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে। লটের কার্যাদেশ হওয়া গাছ কেটে নেয়ার মেয়াদ কতদিন থাকে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এটা আমার জানা নেই এ বিষয়টি মুহিবুর রহমান তরফদারকে জিজ্ঞাসা করুন।
বন বিভাগ এ ব্যাপরে কোন প্রদক্ষেপ না নেয়ায় উপকার ভোগি সামাজিক বনায়নের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার দেখা দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”