ব্যবহৃত হতে বেদনাহত হই না কখনো

ডিসেম্বর ১৬, ২০১৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১৩ বার পঠিত

মুনজের আহমদ চৌধুরী হৃদয় চালিত মানুষ আমি, মস্তিস্ক চালিত নই। বিবেকের আয়নায় মুখ রেখে, বোধের বাতায়নে হৃদয় পেতে পথ চলা মানুষের দলে আমার বাস। একজন সৎ সল্পবিত্ত আইনজীবি পিতার সন্তান হলেও প্রচলের বিধি নয়,বিবেকের দরবারে নত আমার সকল শ্রদ্ধার বোধ।

তারুন্যের শুরুর সময় শ্লোগানে মুখর রাজপথে কেটেছে সরকারী সন্ত্রাসের প্রতিবাদী সন্মুখ সমরে। সাংবাদিকতার প্রেমে গেছে এ অবধি জীবনের অর্ধেক বেলা।

সমাজ,সংসার,রাজনীতির কৌটিল্য,জটিলতা আর কুটচালের অন্দরের সব অলিগলিতেই আমার রোজকার ঘরবসতি। প্রথম দেখায়  আগন্তুকের আগমন হেতু আচঁ করবার ক্ষুদ্র সক্ষমতাটুকু অর্জন করেছি,আঘাতে-ব্যাঘাতে,প্রবঞ্চনাতে, ঠকতে গিয়ে। সৌভাগ্যের বরপুত্র ছিলাম না। যেটুকুনই আছে আর যেখানেই আছি,তার সবটুকুন নিজের শ্রমে আর ঘামের দামে কেনা। জীবনের জটিলতা,আমারই মতোন প্রাণীদের সংকীর্নতা আর সবার মতোন আমাকেও ছেড়ে যায়নি। রোজকার সকালে এই পরবাসেও বহু জন কাছে আসেন নানা বিচিত্র খবরে আর দরকারে। ফোনের ঐ প্রান্তে অপেক্ষায় থাকে কাজটি করে দেবার আর্তি। আমার সামর্থ জানি বড়ো ক্ষুদ্রতর। তারপরও ‘না’ শব্দটি মুখ দিয়ে কেন জানি আসে না। যে কারো ক্ষুদ্রতর কোন কাজে লাগতে পারলে মনে হয়,আজ দিনটা ভালো গেল। আমার অনুজ ওয়াজের, অনুযোগের সুরে সব সময়ই অভিযোগ করে,ভাইয়া মানুষজন তোমাকে ব্যাবহার করে,ইউজ করে। উত্তরটা আমার জানা,মানুষের যে কোন উপকারে,উদ্যোগে ইউজ হতে আমার আসলে মন্দ লাগে না। দুঃখ লাগে মানুষ যখন এবিউস করে আমার স্বভাবের সারল্যের। কিন্তু,সবাই স্বার্থজীবি হলে  জগতের চলে না। আর মানুষ চাইলেও বদলাতে পারে না।

মস্তিস্কের জটিল পুনঃপৌনিক অংক কষে জীবনের পথ চলি না বলেই ধাক্বা খাই, এটি বাস্তবতা। কিন্তু,যা করি,যা বলি তা হৃদয় থেকে হৃদয়চালিত হয়ে করি বলেই যতটা ধাক্কা খাই, তার চেয়েও বহুগুন দ্রুত ঘুরে দাড়াই।তবে জীবনকে যা দিয়েছি,পরম করুনাময় আমাকে তার চেয়ে সহস্রগুন বেশি দিয়েছেন, এটকুন স্বীকার না করলে পরম করুনাময়ের প্রতি প্রবঞ্চনা করা হয়।

বিশ্বাস করি,জীবনটা আসলে দেনাপাওনার হিসেবের খাতার অংকের অনেকদুর বাইরে। কে লাভ করল, কে ক্ষতি করলো তার হিসেব করলে আত্বায় শুধু যোগ হয় ক্ষুদ্রতা। যা কর্তব্য,যতটা নায্য সেটি দায়িত্ব থেকে বিনিময়ের প্রত্যাশা না করে পালন করাই জীবন। মানুষের মমতা,ভালবাসা,ত্যাগ কৃতজ্ঞ চিত্তে যে স্বীকার করে, যিনি নিরহংকারী; বিশ্বাস করি দুনিয়ার জমিনে,পরের জীবনে তিনি চীর অপরাজেয়। নিজের দোষের পাল্লায় সরলতা,টিপিক্যাল পান্ডিত্যময় যাত্রাভিনয় না করা,সহজ আচরনের সাথে আরো যে কত অযোগ্যতা আছে তা নিয়ে ব্যাথিত হয়েছি বহুবার। কিন্তু,নিজের নিজস্বতা ভেঙ্গে পাল্টের যাবার অভিনয় জিনিসটা ঠিক আমার সাথে যায় না। সে চেষ্টা দু একবার করেও দেখেছি।

আসলে,নায্যতা,কৃতজ্ঞতা আর আত্ব-সততার চেয়ে বড় সক্ষমতা আর মানবিকতা পৃথিবীতে আর থাকবার নেই। যে কোন কাজ নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে করলে সাফল্য আসবেই।

লেখকঃ প্রবাসী সাংবাদিক,সংবাদ বিশ্লেষক।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন