বড়লেখায় টিলা কাটা চলছেই মাইকিং করেই দায় সেরেছে প্রশাসন

ফেব্রুয়ারী ৯, ২০১৯, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ এই সংবাদটি ৪৯ বার পঠিত

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজারের বড়লেখার সর্বত্র পাহাড়-টিলা কাটা চলছেই। অন্যান্য বছর উপজেলা প্রশাসন অবৈধ টিলার মাটি বহনকারী পরিবহন আটকিয়ে চালকদের সতর্ক ও ১-২টি অভিযান চালিয়ে জারিমানা আদায় করলেও এবার পরিবেশ রক্ষায় চোঁখে পড়েনি প্রশাসনের কোন অভিযান। পাহাড় ও টিলা কাটা বন্ধে মাইকিং করেই যেন দায় সেরেছে প্রশাসন। অথচ গত ১৬ জানুয়ারী বড়লেখায় গণসংবর্ধনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপি টিলা কাটা ও বনাঞ্চল উজাড়ের প্রভাবে প্রতি বছর বন্যা, ভুমিকম্প, ভুমিধস, ঘূর্নিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

এদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার মুল দায়িত্বে থাকা পরিবেশ অধিদফতরও টিলা কাটা বন্ধের ব্যাপারে যেন নির্বাক। ফলে টিলা খেকোরা অনেকটা বেপরোয়াভাবেই পাহাড় টিলা ধংস করছে।

জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে পাহাড়ের বনজ ও হাওরের জলজ জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় বড়লেখার পাথারিয়া পাহাড় ও হাকালুকি হাওরকে পরিবেশের জন্য সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় প্রভাবশালীদের কালো থাবায় দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বড়লেখার পাহাড়ি সবুজ বনানী, প্রাকৃতিক টিলা ও হাকালুকি হাওরের জলজ জীব বৈচিত্র্য। প্রভাবশালীরা সরকারী-বেসরকারী টিলার মাটি বিট বালি হিসেবে চড়া দামে বিক্রি করছে। আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে অনেকেই ব্যক্তি মালিকানাধীন টিলা কেটে নির্মাণ করছে বাড়ি ও রাস্তা। সরকারী উচু টিলার মাটি বিক্রিকে আড়াল করতে দেখানো হচ্ছে খেলার মাঠ তৈরীর জন্য কাটা হচ্ছে পাহাড়-টিলা। হুমকির মুখে বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

সরেজমিনে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির করমপুর, কুমারশাইল, বড়াইল, সায়পুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির মোহাম্মদ নগর, ছোটলেখা, ঘোলষা, চন্ডিনগর, বোবারথল, তারাদরম, সদর ইউপির ডিমাই, বিওসি কেছরিগুল, জফরপুর, মূছেগুল, হিনাইনগর, দক্ষিণভাগ দ. ইউপির হাকাইতি, কাশেমনগর, জামকান্দি, পুর্বহাতলিয়া, পশ্চিম হাতলিয়া, দক্ষিণভাগ উত্তর (কাঠালতলী) ইউপির মাঠগোদাম, বিওসি কেছরিগুল, গৌড়নগর, হরিপুর, মাধবকু-সহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় অবাধে পাহাড় টিলা কাটার মহোৎসব চলতে দেখা গেছে।

উপজেলা ভূমি উন্নয়ন ও পরিবেশ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ জানান, পাহাড়-টিলা কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত ৬ ফেব্রুয়ারী পাহাড় টিলা না কাটার জন্য উপজেলার সর্বত্র মাইকিং করা হয়েছে। এরপরও সাবধান না হলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”