বড়লেখা পৌরসভার সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়ম কাদামাখা পাথরে চলছে কার্পেটিং

নভেম্বর ৮, ২০১৭, ৭:১৬ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৫৬ বার পঠিত

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বড়লেখা পৌরসভার একটি রাস্তার সংস্কার কাজের কার্পেটিং ও সিলকুটে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কাদামাখা পরিত্যক্ত পাথর ব্যবহারের অভিযোগ করছেন এ রাস্তায় চলাচলকারী জনসাধারণ। সরেজমিনে পরিদর্শন করে মেরামত কাজে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের সত্যতা মিলেছে।
জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের উন্নয়ন তহবিলের আওতায় ২৮ ফেব্রুয়ারী বড়লেখা পৌরসভার উত্তর চৌমুহনী মেইন রাস্তা হতে ২ নং ওয়ার্ডের হাটবন্দের বাচ্চু মিয়ার বাড়ির নিকট পর্যন্ত ৩৩০ মিটার রাস্তা সংস্কার কাজের টেন্ডার আহবান করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ২০ দিনে কার্য সম্পাদনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সেলিম মিয়া কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় ৬ মাস পর ২৭ অক্টোবর সংস্কার কাজ শুরু করেন। এলাকার লোকজন কাজের শুরুতেই অনিয়মের আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ তুলেন।
সোমবার ও মঙ্গলবার সরেজমিনে কাদামাখা নিম্নমানের পাথরে রাস্তার মেরামত কাজ চলতে দেখা গেছে। হাটবন্দ এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন, কালাম আহমদ, সরফ উদ্দিন, আব্দুল আজিজ, হাজী ফখর উদ্দিন, মাহতাব উদ্দিন প্রমুখ অভিযোগ করেন প্রায় ১৪ বছর পর এ রাস্তাটির সংস্কার কাজ হচ্ছে।

ঠিকাদারের লোকজন মেকাডমে ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করেছে। পরিত্যক্ত কাদামাখা অত্যন্ত নিম্নমানের পাথর দিয়ে কার্পেটিং করছে। সিলকুটে ব্যবহৃত চিপপাথর হাতে নিয়ে ঘষা দিলেই পাউডার (বালু) হয়ে যাচ্ছে। এধরনের সংস্কার কাজে এলাকাবাসীর উপকারের চেয়ে অপকারই বেশী হবে। তারা রাস্তার কাজ শেষ না হতেই ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা করছেন। কাজের অনিয়মের অভিযোগ করায় পৌরমেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্র্র্পেটিংয়ের থিকনেস ও পার্শ মাপ সঠিক বলছেন। কিন্তু আমাদের অভিযোগ থিকনেস ও পার্শ মাপে নয়, সংস্কার কাজে যেসব মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে তা যে ডেম্প, পরিত্যক্ত, নিম্নমানের। বিষয়টি পৌরকর্তৃপক্ষকে বুঝানো যাচ্ছে না।
পৌরমেয়র আবুল ইমাম মোঃ কামরান চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, এলাকাবাসির অভিযোগ পেয়ে তিনি কয়েকবার কাজের সাইটে গিয়েছেন। কাজের মাপ মেজার্মেন্ট সঠিক বলে মনে হয়েছে। তবে কার্পেটিং পাথর ও সিলকুটের পাথর নিম্নমানের কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
রাস্তার সংস্কার কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সেলিম মিয়া রাস্তার কার্পেটিং ও সিলকুটের কাজে ব্যবহৃত পাথর সঠিক দাবী করে জানান, তিনি সিডিউল মোতাবেক কাজ করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন