মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের স্থিতা আদেশ অমান্য হাকালুকির গুটাউরা হাওরখাল বিল থেকে অবৈধভাবে মাছ শিকার

জানুয়ারী ৫, ২০১৯, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১১৭ বার পঠিত

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ দেশের সর্ববৃহৎ মৎস্যভান্ডার হাকালুকির গুটাউরা হাওরখাল বিলের ইজারার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের স্থিতাদেশকে অমান্য করে বড়লেখা ও ফেঞ্চুগঞ্জের প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মাধবকুন্ড মৎসজীবি সমবায় সমিতি অবৈধভাবে রাতের আধারে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করেছে। ভুক্তভোগী মহলের লিখিত অভিযোগে সরেজমিনে তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্থানীয় ভুমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন বড়লেখা ইউএনও।

জানা গেছে, হাকালুকি গুটাউরা হাওরখাল বদ্ধ জল মহালটি ১৪২২ বাংলা থেকে ১৪২৭ বাংলা সন সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বার্ষিক ৭২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা খাজনায় সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ইজারা দিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় জল মহালটি অদৃশ্য কারণে পানকৌড়ি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির অনুকূলে ইজারার আদেশ জারি করেন। নীতিমালা পরিপন্থি এ ইজারা আদেশের বিরুদ্ধে দরখাস্তকারী সমিতি হাইকোর্টে রিট পিটিশন (৮০৩৪/১৫) করেন। শুনানী শেষে হাইকোর্ট ইজারা আদেশ বাতিল ঘোষণা করেন। বড়লেখা ও ফেঞ্চুগঞ্জের প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে পানকৌড়ি মৎসজীবি সমবায় সমিতি। আপিলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকায় এ সমিতি সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে রিভিউ মামলায়ও হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে। এ অবস্থায় গত শুষ্ক মৌসুমে রাতের আধারে জলমহালের বিভিন্ন বাধ কেটে পানি নিষ্কাষন করে অন্তত দেড় কোটি টাকার মাছ লুট করে পানকৌড়ি মৎসজীবি সমিতি। এদিকে ২০০৯ সালের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গল দেখিয়ে উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সুপারিশ ছাড়াই ভূমি মন্ত্রণালয় মাধবকুন্ড মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ১৪২৪ বাংলা থেকে ১৪২৯ বাংলা পর্যন্ত ৬ বছরের জন্য উক্ত জলমহালটি ইজারা প্রদানের আদেশ জারী করে। নীতিমালা পরিপন্থি এ আদেশের বিরুদ্ধেও সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সমবায় সমিতি হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করেন (১৫৬১/২০১৮)। গত ৮ মে বিজ্ঞ আদালত ৬ মাসের স্থগিতাদেশ জারি করেন। কিন্তু মাধবকুন্ড সমিতি একদিকে এ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল (৩২২৩/১৮ইং) দায়ের করে এবং অন্যদিকে আদালতের স্থিতাদেশকে অগ্রাহ্য এবং লীজ ডিডের শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করছে।

বড়লেখা ইউএনও মো. সুহেল মাহমুদ জানান, হাকালুকির হাওরখাল বিল থেকে অবৈধভাবে মাছ শিকারের ব্যাপারে সোনার বাংলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির লিখিত অভিযোগ পেয়ে তা সরেজমিনে তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাধবকুন্ড মৎসজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি সালাম উদ্দিন জানান, তারা বিল থেকে মাছ ধরছেন না, বিল পাহারা দিচ্ছেন। সরকারী সম্পদ পাহারা দেয়া দোষের নয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”