মৌলভীবাজারে বোরো ধানের বাম্পার ফলন : ২০ দিন সময় পেলে পূরো ধান মাঠ থেকে উঠানো সম্বব

এপ্রিল ১৫, ২০১৯, ২:৩৮ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৩৯ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ আকাশের ঈষাণ কোনে কালো মেঘ জমলেই এখন হাওর পাড়ের কৃষকের মনে সৃষ্টি হয় চরম উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও আতঙ্ক। এই বুঝি ভারী বর্ষণে তলিয়ে যাবে পূরো বছরের তাদের জীবন জীবীকার একমাত্র ভরসার ফসল বোরো ধান। তবে আরো ২০দিন সময় পেলে হাওর পারের কৃষকরা পূরো ধান জমি থেকে তোলতে পারবেন।
প্রতি বছরই কম বেশী দূর্যোগ লেগেই থাকে রোরো ধান চাষে। গত কয়েক বছর বন্যা, শিলাবৃষ্টি, ঝরের কারণে মাঠ থেকে অধিকাংশ কৃষক বোরো ফসল উঠাতে পারেননি। চলতি বছর এপর্যন্ত ধান সংগ্রহ চলছে তবে আকাশের কালো মেঘ জমলেই চরম উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও দু:শ্চিন্তা বেড়ে যায় চাষীদের। চলতি বোরো মৌসুমে নানা প্রতিকূলতার পরও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
জেলার সবক’টি হাওর ও নদী তীরে এখন দোল খাচ্ছে আধাপাকা ও পাকা বোরো ধান। চোখ যতদূর যায় দিগন্ত জুড়ে শুধু সোনালী ধানের মাঠ। ধানের মাঠের এমন দৃশ্যে হাওর পাড়ের কৃষকরা নব উদ্যমে স্বপ্ন বুনছেন। কিছু দিন গেলেই ধুম পড়বে ধান কাটার। তখন রাত দিন ব্যস্ত সময় পার করবেন কৃষাণ কৃষাণীরা। প্রত্যাশার বোরো ধান গোলায় তোলতে পারলেই তাদের সব কষ্ঠই স্বার্থক।
এ জেলায় রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। হাকালুকি হাওর ছাড়াও এ জেলায় রয়েছে মনু প্রকল্পের অধিন কাউয়াদিঘি হাওর, হাইলহাওর, বড়হাওর, করাইয়ার হাওর, কেওলার হাওর। সবক’টি ছোট বড় হাওরের এখন বোরো ধান কমবেশী ঘরে তোলছেন কৃষকরা। তাদের সে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণ হবে কিনা এমন দু:শ্চিন্তাও ঘুরপাক খাচ্ছেন। বন্যা শিলাবৃষ্টি আর বজ্রপাতে মাঠের ধান মাড়াই ঝাড়াই শেষে গোলায় তোলতে পারবেন কি না এ নিয়ে শঙ্কিত তারা। আকাশে বৃষ্টির আভাস দেখলেই এমন দু:শ্চিন্তায় বেড়ে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ সাহাজাহান সোমবার (১৫ এপ্রিল) মাঠ পরিদর্শন শেষে জানান, হাওরের নিচু অংশের ১৬ ভাগ ধান সংগ্রহ হয়েছে। আরো ৭দিন আওহাওয়া অনুকুলে থাকলে হাওরের নিচু অংশের ধান তোলা পূরোপুরি সম্বব হবে। হাওরের উপরি ভাগের পূরো ধান সংগ্রেহে আরো ২০ দিন সময় লাগবে। অপরদিকে মনুপ্রকল্পের ভেতর বোরো ধান উঠাতে কোন সমস্য হবেনা। গত বছর প্রকল্পের পাম্পসেট নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে।
জেলায় এবছর ৭ উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩ হাজার ১’শ ১৬ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদ অর্জিত হয়েছে ৫৩ হাজার ১’শ ৬২ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৬ হেক্টর ধান বেশি উৎপাদন হয়েছে।
হাকালুকি হাওর পাড়ের ভূকশিমইল ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল খালিক, মজনু মিয়া, লেচু মিয়া ও মানিক মিয়া সহ অনেকেই জানান আবাদকৃত জমিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরো চাষের প্রথম দিকে ব্রি-২৮, ২৯ ও গাজি ধানে ছত্রাকের আক্রমণে ধান লাল হয়ে পচে যেতে থাকে। এমন সব রোগবালাই রোধ হয়ে এখন বাম্পার ফলনের উঁকি দিচ্ছে হাওর অঞ্চলের জীবন জীবীকার একমাত্র ফসল স্বপ্নের বোরো ধান।
মনু প্রকল্পের আওতাধিন কাউয়াদিঘি হাওর এলাকার কৃষক কালাম মিয়া, জামাল আলী জানান, প্রকল্পের বেরীবাঁধের ভেতর তাদের জমি থাকায় একটু দেরিতে ধান রোপন করেন জমিতে। ধানের ফলন ভাল হয়েছে। পাম্পগুলো চালু রেখে পানি নিষ্কাসন করা হলে বোরো ফসল ঘরে তোলতে ব্যাঘাত হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”