রবিদাস ও হরিজন সম্প্রদায়ের নারীরা প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহনে এখন অনেক বেশী সচেতন হয়েছে

ডিসেম্বর ৫, ২০১৮, ৮:৩০ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৫৫ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ পরিবার পরিকল্পনা হলো জীবনের জন্য পরিকল্পনা তথা সাচ্ছ্যন্দভাবে জীবনযাপনে পরিকল্পিত পরিবার গঠন । পরিবার পরিকল্পনা অনেক সময় জন্মনিয়ন্ত্রণের সমার্থক হিসেবে চিহিৃত করা হয়, যদিও পরিবার পরিকল্পনা পরিধি আরো ব্যাপক।

স্বামী-স্ত্রী নিজেদের শলা-পরামর্শ এবং আয়-উপার্জনকে বিবেচনায় নিয়ে প্রত্যাশিত সংখ্যায় সন্তান নেয়ার যে পরিকল্পনা । যারা সন্তান নিয়ন্ত্রিত রাখতে চায় এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনে আগ্রহী তাদেরকে কোন না কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির উপর নির্ভর করতে হয় । পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির সুবিধা বা লাভ হলো মা ও শিশু মৃত্যুহার কমানো । বিভিন্ন তথ্য/উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সাধারনত: যেসকল মায়েরা ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে ১টি বা ২টি সন্তান ধারন করেছেন তাদের স্বাস্থ্যহানি ও ঝুকি কম এবং তাদেও সন্তানেরা তুলনামূলকভাবে মেধাবী ।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রবিদাস ও হরিজন সম্প্রদায়ের নারীরা পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সর্ম্পকে এলাকার অন্য সম্প্রদায়ের নারীদের চেয়ে অনেক বেশী সচেতন। তারা তাদের পরিবার ছোট রাখতে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতি গ্রহন করেছেন।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাতারকাপন এলাকার পৌর সেবক নিবাসে গিয়ে কথা হয় চঞ্চলা ভাস্ফরের সাথে তিনি  বলেন, পরিবার ছোট রাখার ব্যাপারে এলাকার পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর সহযোগিতায় তিনি স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহন করেছেন। তার দুই মেয়ে এক ছেলে। তিনি বলেন পরিবার ছোট হলে ব্যয় কম হয়।

অন্য গৃহবধু শ্রীমতী ভাস্ফর বলেন আমার এক ছেলে এক মেয়ে আছে, তাই আমি আর সন্তান নিতে চাই না। মাসে আমাদের আয় ৬০০০ টাকার মত, এ টাকা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কঠিন। এজন্য আমি স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর সহযোগিতায় দীর্ঘ মেয়াদী পদ্ধতি “ইমপ্লান্ট” নিয়েছি। তিনি আরো বলেন হরিজন সম্প্রদায়ের নারীরা পরিবার ছোট রাখতে অনেক বেশী সচেতন কারন তাদের স্বামীদের স্বল্প আয় দিয়ে সংসার চালানো অনেক বেশী কঠিন তাই তারা পরিবার ছোট রাখতে চান।

এদিকে চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ সহকারী আশা রানী দেব রেডিও পল্লীকন্ঠকে জানান, চাঁদনীঘাট ইউনিয়নে রবিদাস ও হরিজন সম্প্রদায়ের জনগন পূর্বের চেয়ে অনেক বেশী সচেতন হয়েছে । সন্তান সংখ্যা ও বয়সের দিক বিবেচনায় নিয়ে পছন্দসই দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন যা খুবই আশাব্যঞ্জক । তিনি আরো বলেন এই সচেতনতাবৃদ্ধিতে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যেগের পাশাপাশি রেডিও পল্লীকন্ঠ গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছে।

উল্লেখ্য, কমিউনিটি রেডিও পল্লীকন্ঠ ৯৮.২এফএম পরিবার পরিকল্পনা “সুরক্ষা” কার্যক্রমকে বেগবান ও শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে মহিলা, নব দম্পতি, কিশোর-কিশোরীদেরকে নিয়ে উঠান বৈঠক, রেডিও টকশো, রেডিও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান নিয়মিত প্রচার করে যাচ্ছে । উক্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে অর্থায়ন করছে ইউকেএইড-ডিএফআইডি এবং কারিগরী সহযোগীতায় আইপাস বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ এনজিও নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) ।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”