রাজনগরের ভাঙ্গারহাটে মনু নদীর তীর কেটে মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়

মার্চ ৬, ২০১৯, ৩:০৮ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৫৮ বার পঠিত

রাজনগর প্রতিনিধি॥  রাজনগরের সৈয়দনগরে (ভাঙ্গারহাট) মনু নদীর তীরের মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। সৈয়দনগর গ্রামের ‘রশিদ খান’ এসব মাটি বিক্রি করছেন বলে একাধিক গোপন সূত্রে প্রকাশ। ওই একই সূত্রগুলো জানায়- এসব মাটি বিক্রির সার্বিক দেখভাল করছেন রশিদ খানের পুত্র ‘পিপলু খান’ এবং পিপলু খানকে সহায়তা করছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মরত ‘রনি’ নামের একজন অফিস সহায়ক।

সরেজমিন ৩ মার্চ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার ৬নং টেংরা ইউনিয়নস্থিত ভাঙ্গারহাট বাজারের দক্ষিণে আদিনাবাদ ও টগরপুর এবং পূর্বে সৈয়দনগর, আকুয়া, গণেশপুর ও একামধু গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, এসব গ্রামের বিভিন্ন স্পটে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাধের অভ্যন্তরের ফসলী জমি ও সংলগ্ন মনু নদীর তীরের মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। এক্সেভেটর দিয়ে কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টরযোগে এসব মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ইটভাটায়। কে বা কারা এসব ফসলী জমি ও সংলগ্ন মনু নদীর তীরের মাটি বিক্রি করছে জানতে চাইলে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক সূত্র সৈয়দনগর গ্রামের রশিদ খান ও আকুয়া গ্রামের ফজলু খানের নাম জানায়। ফসলী জমি ও সংলগ্ন মনু নদীর তীরের মাটি বিক্রি প্রসঙ্গে বক্তব্য জানার জন্য আকুয়া গ্রামের বাড়ীতে ফজলু খানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করলে তিনি জানান- ‘বর্তমানে মাটি বিক্রি করছেন রশিদ খান। তার জমির পশ্চিমের জমি আমার। গতবছর আমি সেই জমির মাটি বিক্রি করলেও নদীর তীরের মাটি বিক্রি করিনি’। রশিদ খানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য তার সৈয়দনগর গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন ৪ মার্চ দুপুরে ভাঙ্গারহাট বাজারে তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ হলে ফসলী জমি ও সংলগ্ন মনু নদীর তীরের মাটি বিক্রি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- ‘ঋনের দায়ে বিপদে পড়ে আমি ফসলী জমির মাটি করেছি। আমি না জেনে এ ভুল করেছি। এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী’। নদীর তীরের মাটি বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন- ‘আমি আমার ফসলী জমির মাটি বিক্রি করেছি। যিনি আমার ফসলী জমির মাটি ক্রয় করেছেন তিনি নদীর তীরের মাটিও কেটে নিচ্ছেন। আমি তার কাছে নদীর তীরের মাটি বিক্রি করিনি। দয়াকরে আমার গরিবানা ছুরত খরচপাতি নিয়ে আমাকে এ সমস্যা থেকে রক্ষা করুন’।

ওইদিনই রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক ‘রনি’ মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানতে চান, ‘আপনি কোন পত্রিকার সাংবাদিক ? পত্রিকার নাম বলার পর তিনি জানতে চান আপনি আজকে কোথাও গিয়েছিলেন কি ? ভাঙ্গারহাট যাবার কথা বলার পর তিনি বলেন, আপনি নাকি রশিদ খানের কাছে টাকা চেয়েছেন ? না, তিনি টাকা দিতে চেয়েছেন তা নেয়া হয়নি জানিয়ে তার নাম-পরিচয় চাইলে তিনি নিজেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক ‘রনি’ বলে নাম-পরিচয় প্রদান করেন।

রাজনগরের সৈয়দনগরে (ভাঙ্গারহাট) মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাধের অভ্যন্তরের ফসলী জমি ও সংলগ্ন মনু নদীর তীরের মাটি বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ জরুরী।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”