রাজনগরে আওয়ামীলীগ বনাম বিদ্রোহী,সরগরম ভোটের মাঠ

মার্চ ১০, ২০১৯, ১২:২৩ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৪৮ বার পঠিত

শংকর দুলাল দেব॥  মৌলভীবাজারের রাজনগরে আগামী ১৮ মার্চ ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে রাজনগরে বিএনপি কিংবা বিরোধী দলের কোন প্রার্থী না’থাকায় প্রতিদ্বন্ধীতা হবে মূলত আওয়ামীলীগ বনাম বিদ্রোহী আওয়ামীলীগ প্রার্থীর মধ্যে। এক্ষেত্রে প্রার্থীরা বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ভোটারদের নিজের পক্ষে টানতে শুরু করেছেন দৌড়ঝাপ। বিএনপি-জামায়াতের ভোটাররা যে প্রার্থীদেরকে সমর্থন দেবে, তারাই বিজয়ী হবেন- এমন ধারণা কাজ করছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মাঝে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের সমর্থন আদায়ে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলেরও আশ্রয় নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশ না’নেয়া বিরোধী নেতাদের কদরও বেড়েছে বহুগুন। বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের মন জয় করতে প্রার্থীরা ঘনিষ্টতা বাড়িয়েছেন। আশ^াস দিচ্ছেন বিজয়ী হলে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ও পরে বিএনপি জামায়াতের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা গুলোর নিষ্পত্তির। তবে বিরোধীদলের স্থানীয় নেতারা এক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্নমুখী হয়রানীর সম্ভাবনা ও নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বিষয়টি মাথায় রেখে ধীরস্থির ভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।

আগামী ১৮ মার্চের ৫ম উপজেলা নির্বাচনে রাজনগর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। তারা হলেন-বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আছকির খান (নৌকা), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মিছবাহুদ্দোজা ভেলাই (আনারস), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহজাহান খান (কাপ-পিরিছ), মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছাতির মিয়া (দোয়াত-কলম), স্বতন্ত্র প্রার্থী এড. আব্দুল মতিন চৌধুরী (মোটরসাইকেল)।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধীর রয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন- বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ (তালা), সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান আনসারী মনাই (বাল্ব), অনাদি রঞ্জন দাশ (উড়োজাহাজ), কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম ছফু (টিউবওয়েল), আলাল মিয়া (চশমা), লুৎফুর রহমান গেদু (মাইক)।

 মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন-বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ডলি বেগম (পদ্মফুল), উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তি রানী চক্রবর্ত্তী (কলস), সুমাইয়া আক্তার সুমি (বৈদ্যুতিক পাখা), হাসনা আক্তার (ফুটবল)।

 বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারী প্রতীক বরাদ্দের পরই শুরু হয়েছে নির্বাচনী জোর প্রচারণা। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে সাধারণ ভোটার ছাড়াও বিএনপি-জামায়াতের ভোট বাগিয়ে নিতে ততটাই মরিয়া হচ্ছেন প্রার্থীরা। বিরোধী দলের স্থানীয় নেতাদের কাছে দফায় দফায় ধরনা দিচ্ছেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী/সমর্থকেরা। নির্বাচন পরবর্তী হয়রানী থেকে নিস্কৃতি পেতে প্রার্থীদের আশ্বাস দিচ্ছেন অনেকে। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধীতাকারী বিভিন্ন প্রার্থীর সাথে আলাপ করলে প্রত্যেকেই জানান, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে নিশ্চিত বিজয়ী হবেন। এব্যাপারে সকলেই স্বপক্ষে বিজয়ের আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

 এ ব্যাপারে রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ হাকিম সুন্দর বক্স জানান, আগামী উপজেলা নির্বাচনে আমাদের দল অংশ নেয়নি, বিগত সংসদ নির্বাচনেও আমাদের ভোটারদের অধিকার বঞ্চিত করা হয়েছে। দলীয় হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা উপজেলা নির্বাচনে নিক্রিয় রয়েছি। আমাদের কোন প্রার্থী না থাকায় আমরা নির্বাচনী প্রচারণায়ও নেই। এব্যাপারে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি/সম্পাদকে বৈঠক করে নিক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামল বণিক জানান, আগামী ১৮ মার্চের উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে এ বিষয়ে রাজনগর থানা পুলিশ সতর্ক রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজনগরের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার জানান, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তফসিল ঘোষনার পর থেকে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযত ভাবে কার্যক্রম চলছে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠান যাতে নির্বিঘœ করা যায় এব্যাপারে সতর্ক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। সার্বিক পরিবেশও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”