রাজনগরে স্বাস্থ্য সপ্তাহেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তালা

এপ্রিল ১৪, ২০১৮, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ২৫৪ বার পঠিত

হোসাইন আহমদ॥ এক যোগে সারা দেশে গত বৃহস্পতিবার থেকে স্বাস্থ্য সপ্তাহ শুরু হয়। এ উপলক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। মানুষের দৌড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। এ আলোকে মৌলভীবাজার জেলায়ও গ্রহণ করা হয়েছে নানা কর্মসূচি। কিন্তু কিছু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে সম্পূর্ণ উল্টো মেরুতে। মানছেনা সরকারের কোনো নির্দেশনা।

সরেজমিন ১১ এপ্রিল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের লামুয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গেলে দেখা যায় দরজায় তালা ঝুলছে। কিছু সময় অপেক্ষা করার পর দেখা গেল ওই কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ফয়জুল হক এসে তালা খোলছেন এবং পিছনে ছিল নৈশ্য প্রহরী মোঃ বাহার উদ্দিন। এসময় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবারে সাধারণ বিভাগে ৫জন ও শিশু বিভাগে ২ জন রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর আগের দিন মঙ্গলবার সাধারণ বিভাগে ৪জন এবং শিশু বিভাগে ৩জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এসময় উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ফয়জুল হক বলেন, চা খেতে একটু বাহিরে গিয়ে ছিলাম। আপনাদের দেখে আসলাম। এসময় তিনি হাসপাতালের অবকাঠামোগত নানা সমস্যার কথাও বলেন। হাসপাতালের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকা মুজিবুন নেছা কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “উনি রাজনগরে একটা সভায় আছেন”। এসময় স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা বলেন, এখানকার দায়িত্বর ডাক্তাররা ১০টায় আসেন এবং দুপুর ১টা হলেই চলে যান এবং সরকারি ঔষধও পাওয়া যায়না। অথচ সরকারি নিয়ম হলো সকাল ৯ থেকে দুপুর ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার হাজীগঞ্জ বাজার কমিউনিটি ক্লিনিক পরিতাক্ত থাকায় পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে সেবা চললেও সময় মতো এবং প্রতিদিন সিএইচসিপি না আসায় এলাকাবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই অভিযোগ উঠেছে উপজেলার প্রেমনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি’র বিরুদ্ধে।

এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলেন কমিউনিটি ক্লিনিক সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এ পরিকল্পনা সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করলে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠি সেবা পাবে। এর মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ভিশন বাস্তবায়ন করা অনেকটা সহজ হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”