শ্রীমঙ্গলে চাচার জনপ্রিয় চটপটি আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে

নভেম্বর ২৮, ২০১৭, ২:৫০ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৫৬ বার পঠিত

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চাচার জনপ্রিয় চটপটি। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার রঙ্গীরকুল গ্রামের মোঃ আকবর আলী ব্যবসায়ের জন্য ১৯৮৪ সালে শ্রীমঙ্গলে আসেন। প্রথম থেকে শ্রীমঙ্গলে ফ্লাইং ব্যবসা করেছেন। দুই ছেলে বড় হবার পর স্কুলে ভর্তি করে দেন। ছোট খাট ব্যবসায়ের পাশাপাশি ছেলেদের লেখাপড়াও করিয়েছেন। ২০০০ সাল থেকে তিনি স্বল্প পুজি নেয়ে চটপটি ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে ভ্রাম্যমান চটপটির দোকান ছিলো। শ্রীমঙ্গলস্থ চিত্রালী সিনেমা হলের সামনে থেকে যাত্রা শুরু। প্রথম দিকে চটপটির গাড়ি করে স্কুল, কলেজ, বাসস্ট্যান্ড, রাস্তার মোড়, শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা, শহরের সোনালী মার্কেট, বিভিন্ন স্থানে মেলা ইত্যাদি স্থানে চটপটি বিক্রি করতেন। একটানা কয়েক বছর শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন স্থানে চটপটি বিক্রি করেছেন। ২০০৯ সালের মধ্যখানে শহরের গদার বাজারে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত চটপটি বিক্রয় করতেন। তখন তার ছেলেরাও বড় হয়েছে। লেখাপড়ার ফাঁকে ছেলেরা বাবার সাথে ব্যবসায় সময় দিতেন। বড় ছেলের নাম মনতাজ আলী রাজু আর ছোট ছেলের নাম রায়হান আলী সাজু।
বড় ছেলে রাজু ২০০১ সালে প্রাইমারি স্কুলের গন্ডি শেষ করার পর থেকেই বাবার চটপটির ব্যবসায় সময় দিতেন। সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত স্কুল শেষ করে বাবার সাথে ব্যবসায় সহযোগীতা করত। রাজু শ্রীমঙ্গল শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাশ করে। রাজু ম্যানেজম্যান্ট থেকে এম বি এ পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করে। ছোট ছেলে সাজু ডিপ্লোমা ইন হোটেল ম্যানেজম্যান্টে লেখাপড়া শেষ করে।

 

শ্রীমঙ্গল গদার বাজারে ২০০৬ সাল থেকে চাচার জনপ্রিয় চটপটি নামে ভ্রাম্যমান চটপটির দোকান বসিয়ে দীর্ঘ দিন ব্যবসা করার পর একটু বড় পরিসরে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে শ্রীমঙ্গল থানার বিপরীতে আলী ফুড নামে চটপটির দোকান দেন। বছর খানিক পর ব্যসায়ের সুবিধার্থে ২০১৭ সালের নভেম্বর এর ১ তারিখে শ্রীমঙ্গল শহরের পুরান বাজারে পুনরায় চটপটির দোকান দেন।
ঝাল জাতীয় খাবার চটপটি ও ফুসকা সব বয়সী মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। শ্রীমঙ্গলে চাচার এই জনপ্রিয় চটপটি এখন আরো বেশী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ চাচার চটপটি খাওয়ার জন্য আসেন। দোকানের নাম চাচার জনপ্রিয় চটপটি দেয়ায় সকলেই মো: আকবর আলীকে চাচা বলেই ডাকেন। প্রতিদিনই চাচার জনপ্রিয় চটপটির দোকানে ভিন্ন ধরনের মানুষ চটপটি খাবার জন্য আসেন। সন্ধ্যা নামতেই দোকানে ভীড় জমে। আবার দুপুরে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও চাচার চটপটি খাওয়ার জন্য আসেন।
রাজু জানায় লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবাকে ব্যবসায়ে সময় দিতেন। লেখাপড়ার বিষয়ে বলেন ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাশ করেন। তার পর ব্যবসায়ে পুরোপুরি সময় দিতেন। ব্যবসার পাশাপশি লেখাপড়ায় এমবিএ পড়া শেষ করেন। আরো জানান আগে বাবা এবং ছেলে মিলে ব্যবসায় সময় দিতেন এবং পরিচালনা করতেন। বর্তমানে তাদের দোকানে মোট দশ জন কর্মচারী রয়েছে।
চাচার জনপ্রিয় চটপটি দোকানের স্বত্ত্বাধীকারী মো: আকবর আলী বলেন, কম বিনিয়োগে বেশি লাভ হওয়ায় এ ব্যবসায় নিয়োজিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি  ক্রেতাদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে দোকানে নানা ধরনের ফুচকা বিক্রি করে থাকেন, যেমন- মিষ্টি ফুচকা, স্পাইসি ফুচকা, দই ফুচকা, চকোলেট ফুচকা ইত্যাদি। এচাড়াও পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চা,বেবী ফুড, ফ্যান ফুড, বিভিন্ন আইটেমের নাস্তা, আইস ফুড এন্ড জুস এবং মৌসুম উপযোগী সকল ফলের জুস বিক্রি করে থাকেন।
ফুচকা-চটপটির উপকরণ ফুচকা একটি অতি জনপ্রিয় সুস্বাদু দক্ষিণ এশীয় মুখরোচক খাদ্যবিশেষ। বাংলাদেশ এবং ভারতের শহরাঞ্চলে প্রায় সর্বত্রই এই খাদ্যটির প্রচলন রয়েছে। অঞ্চলভেদে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত। গোটা বাংলাদেশে এর নাম”ফুচকা; উত্তর ভারতে এটির পরিচিতি গোল-গাপ্পা হিসেবে, আবার পশ্চিম ভারতে, (যেমন মহারাষ্ট্রে), এই খাবারটির নামই পানি-পুরি। যে নামেই ডাকা হোক না কেন ফুচকা ও চটপটি তৈরির উপকরণগুলো হল- ডাবলি, বুট, ডিম, লবণ, খাওয়ার সোডা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, শসা, বিভিন্ন ধরনের মশলা, তেঁতুল, সয়াবিন তেল। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হল ফুচকা বা পাপড়ি।
 
                                                                            
 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন