(ভিডিও সহ) শ্রীমঙ্গলে বিজিবির হামলার প্রতিবাদে শনিবার থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পূরো জেলায় পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘট: ঘটনার সাথে জড়িত বিজিবি সদস্যদের ক্লোজ

জানুয়ারী ৬, ২০১৭, ১০:০৬ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১৪ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিজিবির পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের হামলার প্রতিবাদে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ব্যবসায়ী সমিতির ডাকে ৬ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ৬ টা থেকে অর্নিদৃষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। শনিবার থেকে ৮ জানুয়রি পর্যন্ত পুরো জেলায় পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘট।
ঘটনার সাথে জড়িতদের বিজিবি সদস্যদের ক্লোজ করে সরাইল রিওজনে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবির বৈঠকে শ্রমিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের অনুরোধ।
শুক্রবার শ্রীমঙ্গল শহরের বিভন্ন সড়কে ধর্মঘটের সমর্থনে পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

শ্রীমঙ্গল শহরে ভিক্ষোব মিছিল ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়।বিকেলে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বিচার বিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যাক্তিকে প্রত্যাহার ও স্বাস্তি নিশ্চিত করা সহ ক্ষতিপূরনের দাবী করেন। সমাবেশ থেকে আগামী ৮ জানুয়রি পর্যন্ত মৌলভীবাজার পুরো জেলায় পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। তাদের এ দাবী না মানলে সিলেট বিভাগে কর্মসূচি দেয়া হবে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সঞ্জিত কুমার দেব ও শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ লুৎফুর রহমান সহ অন্যান্যরা। অপর দিকে ব্যবসায়ী সমিতি রাত ৮ টায় সভা করবে বলে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জানান।


এদিকে বিজিবি রিওজন পর্যায়ের ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিকেলে বিজিবির একটি তদন্তকারী টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন। সুষ্টু তদন্তের স্বার্থে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের ক্লোজ করে শ্রীম্গংল সদর দপ্তর থেকে সরাইল রিওজনে পাঠানো হয়েছে বলে সরাইল রিওজন কমান্ডার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অপর দিকে হামলার ঘটনায় জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজেষ্ট্রিটকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ঘটন করা হয়েছে।
বিকেলে বিটিআরআই রেষ্ট হাউসে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবি এক বৈঠকে বসে। এসময় জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ শাহজালাল, সরাইল রিওজন কমান্ডার, সংসদ সদস্য আব্দুস শহীদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন। সভায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আশ্বস্থ করেন।


ধর্মঘটের কারনে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা পর্যটক ও সাধারন মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভানুগাছ ষ্ট্যান্ড এলাকায় বিজিবি চালকের সাথে এক পরিবহন শ্রমিকের কথা কাটাকাটির জের ধরে কিছু বিজিবি সদস্য ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে বিজিবি হামলা চালিয়ে অন্তত ১০০টি গাড়ী ও প্রায় ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়।
বিজিবি ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৮ জন গুলিবৃদ্ধ সহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছে। এ সময় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক ও শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়ক ২ঘন্টা বন্ধ ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ রোডে বিজিবি গাড়ী চালকের সাথে বাক বিতন্ডা হয়। এ সময় স্থানীয় এক পরিবহন শ্রমিক ওই বিজিবি সদস্যকে লাঞ্চিত করেন। এ খবর বিজিবি সদরদপ্তরে পৌছালে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষদের মারধর করেন। পরে পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বিজিবি সদস্যদের পাল্টা হামলা করলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শেষে বিজিবি সদরদপ্তর থেকে বের হয়ে আসা বিজিবি সদস্যরা বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে ও ব্যপক ভাংচুর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতে ব্যবসায়ীরা শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা চত্তরে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
ঘটনার সময় বিজিবি সদস্যরা রাস্তাঘাট, এমনকি দোকানপাট বা বাড়িঘরে আশ্রয় নেয়া সাধারন মানুষের উপর লাঠিচার্জ করে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, র‌্যাব ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগন ঘটনাস্থলে পৌছে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রনে আনে।


মৌলভীবাজার সদর হাসপাতারের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ পলাশ রায় জানান গুলিবৃদ্ধ ৮জন হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের মধ্যে ৪ জনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। গুলিবৃদ্ধরা হলেন শ্রীমঙ্গল শহরের শাপলা আবাসিক এলাকার জিতেন্দ্র পালের ছেলে পবিত্র পাল (৩০) ও মৃত সুনাতন দাশের ছেলে সুকুমার দাশ (৫০), শ্রীমঙ্গলের নতুনবাজার এলাকার জমসেদ এর ছেলে শাহ আলম (৩০) ও শ্রীমঙ্গলের সেলিম মিয়ার ছেলে মোঃ ইকবাল মিয়াসহ (২০), শাহ আলম (৩২), মিনাক্ষী পাল (৩৫), কামাল মিয়া (৩২), সুনানন্দ দাশ (৪৭)। আহত অন্যান্যদের শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন