শ্রীমঙ্গলে শুরু দেশের ২য় চা নিলাম কেন্দ্রের নিলাম কার্যক্রম : প্রথম দিনে ১২ কোটি টাকার চা বিক্রি

মে ১৪, ২০১৮, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৭৮৫ বার পঠিত

বিকুল চক্রবর্তী॥ ১৮৫৭ সালে সিলেটে চা উৎপাদন শুরুর প্রায় দেড়শত বছরপর সিলেটের চা সিলেটেই নিলাম হচ্ছে। আর এ নিলামে অংশনেয়া ব্রোকারেজ হাউজ গুলো চায়ের গুনগত মান আস্বাধন করে ৫লক্ষ ৫৭ কেজি চা নিলামে উত্তোলন করেন। যা বেলা আড়াইটার মধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে যায়। যার বিক্রিত মুল্য ১২ কোটি টাকা বলে জানান, টি প্লান্টার্স এন্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সদস্য সচিব জহর তরফদার। এ নিলামে অংশ নিয়েছিলেন দেশের ৭টি ব্রোকারেজ হাউজ ও দুইশতাধিক বিডার।
এদিকে সকাল সাড়ে ৮টায় এর কার্যক্রম শুরু হলেও বেলা ২টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বানিজ্য মন্ত্রি মো: তোফায়েল আহমদ। এ সময় তিনি দেশে চায়ের বর্তমান উৎপাদন আশি থেকে ১২৫ মিলিয়ন কেজিতে উন্নিত করতে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভুমিকা রাখার আহব্বান জানান মস্ত্রী।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল খান টাওয়ারে দেশের ২য় চা নিলাম কেন্দ্রে এ চা নিলাম কার্যক্রম শুরুর মধ্যদিয়ে পুরণ হলো সিলেটবাসীর দীর্ঘ দিনের আশা আকাঙ্খা। আর এর মধ্যদিয়ে বাস্তবায়িত হলো প্রধানমন্ত্রীর সিলেটবাসীকে দেয়া আরও একটি প্রতিশ্রুতি। আর এ চা নিলাম কার্যক্রম চালু হওয়ায় এ নিয়ে আনন্দের শেষ নেই মৌলভীবাজারতথা সিলেটবাসীর। যার জন্য প্রধানন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেন সিলেটর চা বাগান মালিকরা।


সিলেটবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী সিলেটের চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষনা দেন। এর পর নানান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত শ্রীমঙ্গলে দেশের ২য় চা নিলাম কেন্দ্রর উদ্বোধন ঘোষনা করেন। এর পর আরো কয়েক দফা সভা সমাবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পাদন করে সোমবার সকালে শুরু হয় এ নিলাম কেন্দ্র থেকে চা বিক্রি। এতে খুশি শ্রীমঙ্গলসহ বৃহত্তরত সিলেটবাসী
যার প্রতিকেজি চা গড়ে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ চায়ের কেজি প্রতি দর আসে ১১ হাজার দুইশত টাকা আর সর্ব নিন্ম দর আসে ১৮৫ টাকা।
চা শিল্পের ইতিহাসে চট্টগ্রামে বাইরে এই প্রথম মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম হলো। এই নিলামে ন্যাশনাল ব্রোকার্স, ইউনিটি, প্রডিউসহ ৭টি ব্রোকার্স হাউস এবং ইস্পাহনি, আবুল খায়ের গ্রুপসহ দেশের দেশের দুই শতাধিক বায়ার অংশগ্রহণ করে।
এ ব্যাপারে টি প্লান্টার্স এন্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আহবায়ক ড. এ কে মোমেন জানান, এর ফলে ভালো মানের চা বিক্রির পাশাপাশি এতে বছরে প্রায় দুইশত কোটি টাকা সাশ্রয় হবে । আর চট্টগ্রামে চা পাঠাতে যেমন বাঁচবে সময় তেমনি পথিমধ্য থেকে চা চুরিও রোদ হবে।
আর এ থেকে বছরে সিলেট ভ্যাট অফিসে জমা হবে এক কোটি ৭০ লক্ষ টাকা জানালেন মৌলভীবাজার ভ্যাট অফিসার, মৌলভীবাজার, আব্দুল হামিদ।
এদিকে বেলা ২টায় বানিজ্যমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীণ আওয়ামীলীগনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, টি প্লান্টার্স এন্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আহবায়ক ড. এ কে মোমেন, আতিরিক্ত সচিব (অব) আব্দুর রৌফ, অতিরিক্ত সচিব (অব) বনমালি ভৌমিক, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মিজবাহুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মনসুরুল হক, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো: তোফায়েল আহমদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোবাশশেরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এ ইয়াহিয়া, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, চা বাগান মালিক সিরাজুল ইসলা চৌধুরী ও নুরুল ইসলা চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক শ্রীমঙ্গল পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান এম এ রহিম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন ও ব্যবসায়ী কাদির খান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”