সারা বিশ্বকে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে হবে-পরিবেশ মন্ত্রী

এপ্রিল ১৭, ২০১৯, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৮৪ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি॥ পরিবশে, বন ও জলবায়ু পবির্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপি বলেছেন, পৃথিবীর উষ্ণায়ন ঠেকাতে হলে সারা  বিশ্বকেই গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে হবে। তা না হলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিশ্বকে আরো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

১৭ এপ্রিল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে Third National Communication of Bangladesh to the United Nations Framework Convention on Climate Change-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জ্বালানী পরিবহন, শিল্প কারখানা, কৃষি, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, বন উজাড় ও অবক্ষয় এবং বর্জ্যরে মতো ক্ষেত্রগুলো থেকে গ্রীনহাউস গ্যাস বেশি পরিমাণে নিঃসরিত হচ্ছে। বিশ্বের জাতিসমূহ চাইলে এসব ক্ষেত্র থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বহু পরিমাণে কমাতে পারে। বিশে^র দেশসমূহ নিজ নিজ উদ্যোগে এই নিঃসরণ কমানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই প্রতিশ্রুতি পালনের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বাংলাদেশ পরিবহন, বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ ৫ শতাংশে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা পেলে বাংলাদেশের পক্ষে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। আমাদের সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়াই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অনেক কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পেলে আমাদের কাজ আরো তরান্বিত হবে।

অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পীকার পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, আমরা অনেক কাজ করেছি, আরো করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন কর্মকৌশল আমরা যখন করেছি তখন বিশে^ কেউ করেনি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আমাদের দেশের ৮০ শতাংশ এলাকা বন্যাপ্রবণ। পানির উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা ৮ শতাংশ পানি বৃষ্টি থেকে পাই। বাকি ৯২ শতাংশ বাহির থেকে আসে। ৫৮টি নদী ভারত থেকে এসেছে, ৩ টি মিয়ানমার থেকে। ভারতের সাথে গঙ্গা চুক্তি শেষ হবে ২০২৬ সালে। তারপর কি হবে সেটা এখন থেকে ভাবা উচিত। বৃষ্টির সময় পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা সবকিছুতে ছন্দপতন হয়েছে, হচ্ছে। আমরা অনেক বিষয়েই আত্মতুষ্টিতে ভুগি। আত্মতুষ্টিতে ভুগলে কাজে অগ্রগতি হয় না। জমি  কমছে, মানুষ বাড়ছে, কাজেই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। একটা মানুষের অক্সিজেনের জন্য গড়ে ৭/৮টি গাছ লাগে। কার্বন নিঃসরণ কমাতে গাছ লাগাতে হবে আরো বেশি করে। বন্যা প্রতিবছর আঘাত করে। ২২/২৩ শতাংশ জায়গায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বন্যায় ক্ষতি সামলানোর বিষয়টি আমরা অনেকটা রপ্ত করেছি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনেক উন্নতি লাভ করেছে। উদ্বাস্তু সমস্যা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে উদ্বাস্তু হওয়া জনগণকে দেশে পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা করতে হবে। এসবের জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগও আছে, এখন শুধু অল্প সময়ে অধিক কাজ করতে হবে।

পরিবেশ সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরীরর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুল কাদির, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. সলিমুল হক খান ও ইউএনডিপি’র ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ কিউকো ইউকুসুকু।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”