সোনাই নদীর উপর বড়লেখা-বিয়ানীবাজার সংযোগ ব্রিজ উদ্বোধনের আগেই ধস পড়েছে আতুয়া-নয়াগ্রাম ব্রিজের সংযোগ সড়ক

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮, ৯:১৫ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ২,৯৪০ বার পঠিত

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে লাতু-জলঢুপ সড়কের সোনাই নদীর উপর নির্মিত আতুয়া-নয়াগ্রাম ব্রিজের সংযোগ সড়ক। অন্যদিকে নদী শাসনের কাজ না করায় ভাঙনের কবলে পড়েছে সোনাই নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো। ব্রিজের নির্মাণ কাজের শুরুতেই মেয়াদুত্তীর্ণ সিমেন্ট, নিম্নমানের বালু ও মরিচাযুক্ত রড ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। ঠিকাদার সংযোগ সড়কে পর্যাপ্ত মাটি ভরাট না করায়, পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না রাখায় ও পাকাকরণে অনিয়মের কারণেই উদ্বোধনের পূর্বেই ব্রিজের সংযোগ সড়কটি ধসে পড়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। কাজে অনিয়মের কারণে এলজিইডি ঠিকাদারের বিল থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা কর্তন করেছে।

বড়লেখা ও বিয়ানীবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী ৪ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের সরাসরি সিলেট যাতায়াতের দুর্ভোগ লাগবে লাতু-জলঢুপ সড়কে সোনাই নদীর উপর আতুয়া-নয়াগ্রাম ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৬ সালের ২১ মে জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে ব্রিজের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এছাড়া পাকাকরণের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় আতুয়া-নয়াগ্রাম ব্রিজ। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলে যান চলাচলের বিঘœ ঘটে। পরিবহন শ্রমিকদের উদ্যোগে মাটি ভরাট করা হলেও সড়কের বিয়ানীবাজার নয়াগ্রাম অংশটি অপেক্ষাকৃত ঢালু হওয়াতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতদিন ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও এব্যাপারে কর্তৃপক্ষ রয়েছে নির্বিকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়ার অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুতারকান্দি স্থলবন্দরের সাথে মৌলভীবাজার জেলা শহরের এবং বড়লেখার সাথে বিভাগীয় শহর সিলেটের দূরত্ব কমিয়ে আনতে সোনাই নদী উপর নির্মিত হয় আতুয়া-নয়াগ্রাম ব্রিজ।

সূত্র জানায়, ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০ মিটার দীর্ঘ এ সেতুটির নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় এমএলআর ট্রেডিং নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালের মধ্যে ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ঠিকাদার নির্মাণ কাজ বিলম্বিত করেন।

রোববার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির সংযোগ সড়কের নয়াগ্রাম অংশে পর্যাপ্ত মাটি ভরাট ও পাকাকরণের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। ব্রিজের আতুয়া অংশের সংযোগ সড়কটির মাটি দেবে গিয়ে কয়েকটি স্থানে সিমেন্ট ব্লক এবং ইটসলিং উঠে গেছে। বিপদজনক ঢালু এই রাস্তাটি যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন যানবাহন চলাচল করছে। অন্যদিকে ব্রিজের বড়লেখা উপজেলাধীন আতুয়া-ইসলামপুর এলাকা নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। ব্রিজের কয়েক গজের ভিতরে অনেকটা জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারের  সাড়া না পাওয়ায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাটি ভরাট করে আপাতত গর্ত ভরাট করা হলেও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটি এবং বালু ব্যবহার করায় বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

নয়াগ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী আপ্তাব আলী বলেন, সংযোগ সড়কটির কোনো অংশের কাজই সমাপ্ত না করেই ব্রিজটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত দেয়া সঠিক হয়নি। বৃষ্টি হলেই রাস্তা পিচ্ছিল আর কর্দমাক্ত হয়ে যায়। সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা উঠিয়ে উভয় অংশে আমরা মাটি ভরাট করেছি। তবে এটা কোন স্থায়ী সমাধান নয়। কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি দেখভাল করা।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অংশীদার আতাউর রহমানের মোবাইল ফোনে (০১৭০১৪৫০১৮৫) ফোন দিলে বারবাবর রিং হলেও তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বড়লেখা উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ ভূষণ পাল জানান, সংযোগ সড়কটি একেবারে নতুন। কার্পেটিং কাজ উপযুক্ত হতে একটু সময় লাগবে। উভয় পাশের সংযোগ সড়কে স্থায়ী কাজের একটা স্কিম আমরা হাতে নিয়েছি। কিছুদিনের মধ্যেই টেন্ডার হবে। আশা করছি চলতি বছরের ডিসেম্বরে ব্রিজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। ঠিকাদার কাজে অনিয়ম করায় বিল থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা কর্তন করে সরকারী কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। নদী ভাঙনের বিষয়টা দেখার দায়িত্ব বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”