হাকালুকির জলমহালে পুলিশের অভিযানে ২০ মাছচোর গ্রেফতার : অবৈধ জাল ও নৌকা জব্দ

নভেম্বর ৭, ২০১৭, ৭:৫২ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৬২ বার পঠিত

আব্দুর রব॥ দেশের সর্ববৃহৎ মিটাপানির মৎস্যভান্ডার খ্যাত হাকালুকি হাওরের সরকার ঘোষিত অভাশ্রম বিল ও ইজারাকৃত জলমহালে (বিল) নির্বিচারে চলছে মাছ লুট। রাতের আধারে মাছ লুটেরা বিশাল আকারের বিভিন্ন অবৈধ জাল দিয়ে প্রতিরাতে লুট করছে লাখ লাখ টাকার মাছ। ক্ষমতাসিন দলের কিছু প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় হাওরাঞ্চলে গড়ে উঠা ২৫ সিন্ডিকেট এ তান্ডব চালায়। সোমবার গভীর রাতে বড়লেখা থানা পুলিশ হাকালুকি হাওরের বালিজুরি বিলে অভিযান চালিয়ে ২০ মাছচোরকে গ্রেফতার করেছে। এসময় জব্দ করেছে প্রায় ২ হাজার মিটার অবৈধ কাপড়ি জাল ও দুইটি নৌকা। মাছ চুরির ঘটনায় জলমহাল ইজারাদার আবুল হোসেন বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে জুড়ী উপজেলার নয়গ্রাম, বাছিরপুর, হরিরামপুর গ্রামের কামিল আহমদ, হাবিবুর রহমান, খোকন আহমদ, সবুদ আলী, আক্তার হোসেন, সুমন আহমদ, কাউছার আহমদ, ফরিদ মিয়া, কবির হোসেন, রবিন আহমদ, ইব্রাহিম মিয়া, মানিক মিয়া, মন্টু মিয়া, ইলিয়াছ আলী, শুক্কুর মিয়া, আবুল হোসেন, মঙ্গল মিয়া, মিজান আলী, সবুজ মিয়া, তাজুল ইসলাম।
এশিয়ার সর্ববৃহৎ জলাভূমি হাকালুকি হাওরটি এখন বিল ও মাছখেকো সিন্ডিকেটের কবলে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোপূর্বে সরকার হাওরের বেশ কয়েকটি বিলের ইজারা স্থগিত করে অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। কিন্তু সরকারের এ উদ্দেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে হাওরপাড়ের কতিপয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কালো থাবায়। টোকেন সিস্টেমে বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন অন্তত কোটি টাকার পোনা মাছ নিধন হয়। হাওরের পানি কমায় অসাধু মাছ লুটেরা বর্তমানে ইজারাকৃত ও অভায়াশ্রম বিলে তান্ডব চালাচ্ছে। এতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফি দিয়ে জলমহাল ইজারা নেয়া মৎস্যজীবি সমিতিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
হাকালুকি হাওরে ২৩৮টি বিল রয়েছে। বিলগুলো ইজারা দিয়ে সরকার প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। বর্ষা মৌসুমে হাকালুকির বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে নানা প্রজাতির মা মাছ যখন বংশ বিস্তারে তৎপর, তখনই শিকারিদের ফাঁদে পড়ে ডিমওয়ালা মাছ। ফলে দ্রুত মাছের বংশ বিলুপ্ত হচ্ছে। শিকারিদের কবল থেকে বেঁচে যাওয়া মা মাছ ডিম ছাড়ার পর পোনামাছ নিষিদ্ধ কাপড়ি জাল, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন অবৈধ জাল দিয়ে অসাধু জেলেরা আহরণ করছে। জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া, সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ এই ৬ উপজেলায় সম্পৃক্ত মিঠাপানির বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। উপজেলাগুলোর কতিপয় আসাধু ব্যক্তি ক্ষমতাসিনদের ছত্রছায়া ও প্রশাসনের আনুকুল্য পেয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে মাছ লুটে ঝাপিয়ে পড়ে।
জানা গেছে, হাকালুকি পারের শ্রীরামপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি হাওরের জলা, ফারজলা, বালিজুরি, ভুতের কোনা গ্রুপ জলমাহালগুলো প্রায় ৪০ লাখ টাকায় ১৪২২ বাংলা থেকে ১৪২৮ বাংলা পর্যন্ত ইজারা গ্রহণ করে। কিন্তু হাওরপারের অসাধু মাছচোরেরা রাতের আধারে অবৈধ জাল দিয়ে পোনামাছসহ সবধরনের মাছ লুট করে নিয়ে যায়।
ইজারাদারের অভিযোগে সোমবার গভীর রাতে বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) দেব দুলাল ধরের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের এক দল পুলিশ হাকালুকি হাওরের বালিজুরি বিলে অভিযান চালায়। অবৈধ কাপড়ি ও বেড়জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় পুলিশ ২০ মাছচোরকে গ্রেফতার করে। এসময় মাছ চুরির কাজে ব্যবহৃত প্রায় ২ হাজার মিটার অবৈধ কাপড়ি জাল ও দুইটি নৌকা জব্দ করে পুলিশ।
বড়লেখা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত ২০ জনকে হাওরের বিলের মাছ চুরির মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন