৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারে স্থাপিত হচ্ছে দেশের সর্ববৃহত রাবার কাঠ পেশার টিটমেন্ট প্লান্ট ॥ ভুমিকা রাখবে জলবায়ূ পরিবর্তনে

বিকুল চক্রবর্তী॥ এবার সিলেটের জীবন চক্রহারানো রাবার গাছ গুলোকে জ্বালানী কাঠ হিসেবে ব্যবহার না করে আসবাবপত্রে ব্যবহারী কাঠে রুপান্তরিত করতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে স্থাপন করা হচ্ছে স্বাধীনতার পর দেশের সর্ববৃহত রাবার কাঠ পেশার টিটমেন্ট প্লান্ট। আর এ ফলে সরকার এ গাছ থেকে বর্তমানে প্রাপ্ত রাজস্ব থেকে ৪০ গুন বেশি রাজস্ব পাবে।
আগামীকাল ৮ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গলের ইউছুপ পুরে এ প্লান্টের উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, ও বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
সিলেট বিভাগের সরকারী ৪টি ও বে- সরকারী আরও ৭/৮টি রাবার বাগানের জীবন চক্রহারানো এই গাছ গুলো এতোদিন জ্বালানী কাঠ হিসেবে ব্যবহার হতো। কিন্তু এখন তা সৃজনিং করে অনান্য মুল্যবান কাঠের মতো দীর্ঘ মেয়াদী কাঠে পরিনত করতে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন এটি স্থাপন করেছে।
বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন চেয়ারম্যান ও বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব মো: আব্দুল কাদির এনডিসি, জানান, এ প্লান্টে প্রথম ধাপে প্রতিমাসে ১০ হাজার সিএফটি গাছ টিটমেন্ট করা হবে। আর পূর্নাঙ্গ সম্পন্ন হলে এই প্লান্ট থেকে ২০ হাজার সিএফটি কাঠ সিজনিং করা হবে। যার থেকে প্রতি মাসে আয় হবে আড়াই কোটি টাকা। এটি একদিকে যেমন দেশের বনায়ন উজার বন্ধের মাধ্যমে জলবায়ূ পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে অন্যদিকে অর্থনৈতিক ভাবে রাবার বাগান গুলোকে ও করবে লাভবান।
বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব ও পরিচালক বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বোরহান উদ্দিন ভূইয়া, জানান বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন জানায় সিলেট জোনে, সরকারী ৪টি রাবার বাগানে এই মুহুতে ৭ লক্ষ জীবন চক্র হারানো রাবার গাছ রয়েছে। যার বর্তমান বাজার মুল্য ১৯ কোটি টাকা আর টিটমেন্টের পর তার মুল্য হবে ৩শত কোটি টাকার উপরে।
রাবার প্লান্ট পেশার টিটমেন্ট শ্রীমঙ্গল প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো: তাহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রতি সিএফটি কাঠের মুল্য ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং সিজনিং এর পর তার মুল্য হবে ১২ শত টাকা থেকে ১৫ টাকা
এই গাছ গুলো সৃজনিং করার পর সাশ্রয়ী মুল্যে স্থানীয় অধিবাসী তাদের অনান্য গাছও এখান থেকে সৃজনিং করতে পারবেনবলে জানান বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের শ্রীমঙ্গলের মহা ব্যবস্থাপক ব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার মো: শাকিল আহমদ। আর এর ফলে এই এলাকার মানুষও তাদের বাড়ির কাঠ সৃজনিং করতে পারবেন এতে বনায়নের উপর চাপ কমবে বলে জানান শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো: কামাল হোসেন। আর এ যুগান্তকারী পদক্ষেপের জন্য তিনি বর্তমান সরকার প্রধান জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদও জানান।
এদিকে এর ফলে এক দিকে যেমন বিদেশ থেকে কাঠ আমদানী কমবে অন্যদিকে এতে সাশ্রয়ী হবে বৈদেশীক মুদ্রা। আর এলাকার বনায়নের উপরও এর চাপ কমবে ফলে এটি ভুমিকা রাখবে জলবায়ূ পরিবর্তন রোধে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”