৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস

ডিসেম্বর ৭, ২০১৭, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ২৮৯ বার পঠিত

আশরাফ আলী॥ আজ ৮ ডিসেম্বর। মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস।  ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার শহর থেকে পাকহানাদারদের পরাজিত করে মৌলভীবাজারকে মুক্ত করেন মুক্তিযোদ্ধারা। তাই বরাবরের মতো দিবসটি উৎযাপন করছেন মৌলভীবাজারবাসী। দিবসটি উপলক্ষে ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার শহরের জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পকস্তবক অর্পণ, স্মৃতিচারণ এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে বিকেলে তথ্য অফিসের আয়োজনে তথ্যচিত্র ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

২ ডিসেম্বর রাতে মৌলভীবাজারের পূর্ব সীমান্তের কাছাকাছি শমসেরনগর বিমানবন্দর ও চাতলাপুর বিওপিতে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর অবস্থানের উপর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণ শুরু হয়। আক্রমণের মুখে পাক সেনারা শমশেরনগরে টিকতে না পেরে মৌলভীবাজার শহরে ফিরে আসে।

মৌলভীবাজারে ছিল পাক সেনাদের ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী মৌলভীবাজার দখলের উদ্দেশ্যে ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে কালেঙ্গা পাহাড়ে অবস্থান নেয়। সেখানে বড়টিলা নামক জায়গায় পাক বাহিনীর সঙ্গে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর ১২৭ জন সেনা নিহত হন।

৫ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেঙে পড়তে শুরু করে। ফলে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর যৌথ হামলা প্রতিরোধ করতে তারা ব্যর্থ হতে থাকে। এ অঞ্চলের পরাজিত পাকিস্থানি সৈন্যরা তখন সিলেট অভিমুখে পালাতে শুরু করে। এসময় তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অনেক সাধারণ মানুষ নিহত ও জখম হন।

সিলেটে যাওয়ার পথে তারা শেরপুরে অবস্থান নেয়। অবস্থান নিরাপদ নয় মনে করে সিলেট চলে যায়। এই ঘাতক বাহিনী পিছু হটার ফলে ৮ ডিসেম্বর পুরো মৌলভীবাজার হানাদারমুক্ত হয় এবং আকাশে উড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা।

মুক্তিযুদ্ধে মৌলভীবাজারের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ১৪৭০ জন। এর মধ্যে সংগঠক ছিলেন দুইশ’র বেশি।

৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে দশটার দিকে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান। পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মৌলভীবাজারকে পাক হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়। হাজার হাজার মানুষ মুক্ত শহরে প্রবেশ করে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, এ বছর দিবসটি জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮.৩০ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির কার্যসূচী শুরু হবে।

 

 

 

মন্তব্য করুন