কোটা পদ্ধতি : অধিকার না করুনা ?

জুলাই ৩১, ২০১৩, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ এই সংবাদটি ৬ বার পঠিত

দেশের প্রত্যেকটা মানুষ লেখাপড়া শেষে ভালো চাকরির প্রত্যাশা করে। বেকারদের কাছে সরকারি চাকরির চাহিদা সোনার হরিনের মতো। বেকার বা ছদ্ম বেকারের একটাই প্রত্যাশা- তা হলো সরকারি চাকরি। কিন্তু দেশে জনসংখ্যা বা বেকার সংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় দিনে দিনে সংকুচিত হচ্ছে চাকরির বাজার। বৃহৎ চহিদার তুলনায় স্বল্প চাকরি বাজারে বিক্রি হচ্ছে পণ্যেও মতো, অবশ্য খবরটা অনেক পুরোনো। অর্থাৎ বেশির ভাগ চাকরির পদগুলো নিলামে তোলা হচ্ছে কোন প্রার্থী বেশি অর্থ দিয়ে সেটি কিনতে পারবে। আর এর দীর্ঘমেয়াদী ফল ভোগ করতে হচ্ছে সরকরি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিধদের ঘুষ-দুর্নীতি। এ সব বিষয়ে টিআই’র রিপোর্ট বাংলাদেশকে বার বার বিশ্বের কাছে লজ্জায় ফেলে দিচ্ছে। কিন্তু গুটিকয়েক স্থানে অনেকটা স্বচ্ছভাবে চাকুরি পাওয়া নিশ্চয়তা থাকলেও সেখানে ঢুকে পড়েছে কোটা পদ্ধতি। এ পদ্ধতি ঘুনে ধরা কাঠের মতো কুরে কুরে খাচ্ছে শিক্ষিত বেকারদের হৃদয়। সাম্প্রতিক সময়ে ঘুষ-দুর্নীতির খবর ছাপিয়ে উঠে এসেছে কোটা পদ্ধতি। এ কারণে প্রাচ্যেও অক্সফোর্ট নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সর্বপ্রথম নেমে এলো রাজপথে। বিসিএস এর বাছাই পরীক্ষায় উচ্চ নম্বর পেয়েও সুযোগ না পাওয়ায় আলোচনার টেবিলে আসে বিষয়টি। কিন্তু অবাক করা তথ্য দেয় গণমাধ্যমগুলো। সেটা হলো- সরকারি চাকরির সুযোগ পায় ৫৫ ভাগ কোটায় আর ৪৫ ভাগ সাধারণ প্রার্থীরা। ফলে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-চাকরি প্রার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। অবশ্য সরকার সমার্থক ছাত্র সংগঠনটির নেতা ও পুলিশ চাকরি প্রার্থীদের সরকারের প্রতিপক্ষ ভেবে যৌথভাবে তাদের উপর চড়াও হয়। অথচ আন্দোলনকারীরা সরকারের নয়, তারা কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কোটা দিয়ে স্বল্প মানুষকে বৃহৎ সুযোগ করে দিয়ে অধিকার দেওয়া হয়েছে, না করুনা করা হচ্ছে? গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, নারী কোটা, পোষ্য কোটা, উপজাতি কোটা, জেলা কোটাসহ বিভিন্ন কোটার ফাঁদে ৫৫ ভাগ খেয়ে ফেলছে সাধারণ চাকুরি প্রার্থীদের ভাগ্য। বলা হয়, অনগ্রসর এলাকার মানুষকে প্রতিষ্ঠিত করতে কোটা ব্যবস্থা। বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দেশের গর্ব ও অহংকার। তারা না থাকলে হায়ানাদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা পেতে আরো রক্ত ঝরতো। আরো দীর্ঘকাল ধরে স্বাধীনতার স্বাদ পেতে অপেক্ষা করতে হতো। তাদের বীর দর্পের কারণে আমাদের স্বাধীন সোনালী সূর্য মাত্র ৯ মাসে অর্জিত হয়েছে। বীরের ঘরে বীর জন্ম গ্রহণ করে। ফলে তাদের সন্তানদের চাকুরিতে কোটা দিয়ে নিছক করুনা ছাড়া কিছুই করা হচ্ছে না। নারীদের কোটা দিয়ে তাদের সমঅধিকারের দাবীকে স্তব্ধ করে দুর্বল ভেবে বলা হচ্ছে, ‘তোমরা নারী, তোমরা দুর্বল, তাই তোমাদের হাত ধরে উপরে তোলা হচ্ছে”। রাজার ছেলে রাজা হবে- এটাই ছিলো রাজবংশীয়দের নীতি। কিন্তু গণপ্রজাতন্ত্রী দেশে পোষ্য কোটা সেই নীতিকে আবারো প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ প্রার্থীদের বঞ্চিত করছে। বাংলাদেশে সকল এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থা একরকম হলেও উপজাতি ও জেলা কোটা প্রমাণ করে শিক্ষা ব্যবস্থায় ভিন্নতা আছে। আর এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে মেধাশূন্য হচ্ছে জাতি। কোটা ধারীরা একবার ৫৫ ভাগ কোটায় প্রতিযোগিতা করছে আবার সাধারণ প্রার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে ৪৫ ভাগেও অংশ নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের ভাগে ৪৫ ভাগ থাকায় টাকার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হচ্ছে। সেখানে টিকছে না গরিব মেধাবী প্রার্থীরা। তাহলে মেধাবী গরীব চকুরি প্রার্থীর জন্য কি ব্যবস্থা ? না স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের চাকরি করার অধিকার নেই? বিগত কয়েকটি চাকরির পরীক্ষা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোন পরীক্ষায় কোটা পূরণ হচ্ছে না। কোটা ধারীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। ৩২তম বিসিএস হলো মহিলা ও মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীদের জন্য। ৩৩ তমতেও কোটা পূরণ হয় নি। ফলে ৩৪তমতে বাছাই পরীক্ষায় যে কোন মূল্যে তাদের নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের পাওয়া যাচ্ছে না বলে নাতী-নাতনীদের কোটায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তবুও পাওয়া যাচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, সেনালী ব্যাংকের নিয়োগে কোটা পূরণ না হওয়ায় পরবর্তীতে কোটাধারীদের জন্য নিয়োগ দিতে হয়েছে। প্রত্যেক সেক্টরে এই একই অবস্থা বিরাজ করছে। এতে অর্থ, কাজ ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে। এতো কিছুর পরও কোটা পূরণ না হওয়ায় প্রমাণ করে কোটা ধারীরা পড়াশুনা করে না অথবা চাকরির জন্য যোগ্য না। ফলে এই শ্রেণীর প্রার্থীদের চাকুরি দেওয়া আর যাই হোক করুনা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। লেখক : নাজমুল হক, স্কাউটার, ঢাকা, ই-মেইল: nazmulrover@gmail.com, মোবাইল : ০১৭২০-৫৪৮৮৪৭
দেশের প্রত্যেকটা মানুষ লেখাপড়া শেষে ভালো চাকরির প্রত্যাশা করে। বেকারদের কাছে সরকারি চাকরির চাহিদা সোনার হরিনের মতো। বেকার বা ছদ্ম বেকারের একটাই প্রত্যাশা- তা হলো সরকারি চাকরি। কিন্তু দেশে জনসংখ্যা বা বেকার সংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় দিনে দিনে সংকুচিত হচ্ছে চাকরির বাজার। বৃহৎ চহিদার তুলনায় স্বল্প চাকরি বাজারে বিক্রি হচ্ছে পণ্যেও মতো, অবশ্য খবরটা অনেক পুরোনো। অর্থাৎ বেশির ভাগ চাকরির পদগুলো নিলামে তোলা হচ্ছে কোন প্রার্থী বেশি অর্থ দিয়ে সেটি কিনতে পারবে। আর এর দীর্ঘমেয়াদী ফল ভোগ করতে হচ্ছে সরকরি কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিধদের ঘুষ-দুর্নীতি। এ সব বিষয়ে টিআই’র রিপোর্ট বাংলাদেশকে বার বার বিশ্বের কাছে লজ্জায় ফেলে দিচ্ছে। কিন্তু গুটিকয়েক স্থানে অনেকটা স্বচ্ছভাবে চাকুরি পাওয়া নিশ্চয়তা থাকলেও সেখানে ঢুকে পড়েছে কোটা পদ্ধতি। এ পদ্ধতি ঘুনে ধরা কাঠের মতো কুরে কুরে খাচ্ছে শিক্ষিত বেকারদের হৃদয়। সাম্প্রতিক সময়ে ঘুষ-দুর্নীতির খবর ছাপিয়ে উঠে এসেছে কোটা পদ্ধতি। এ কারণে প্রাচ্যেও অক্সফোর্ট নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সর্বপ্রথম নেমে এলো রাজপথে। বিসিএস এর বাছাই পরীক্ষায় উচ্চ নম্বর পেয়েও সুযোগ না পাওয়ায় আলোচনার টেবিলে আসে বিষয়টি। কিন্তু অবাক করা তথ্য দেয় গণমাধ্যমগুলো। সেটা হলো- সরকারি চাকরির সুযোগ পায় ৫৫ ভাগ কোটায় আর ৪৫ ভাগ সাধারণ প্রার্থীরা। ফলে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-চাকরি প্রার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। অবশ্য সরকার সমার্থক ছাত্র সংগঠনটির নেতা ও পুলিশ চাকরি প্রার্থীদের সরকারের প্রতিপক্ষ ভেবে যৌথভাবে তাদের উপর চড়াও হয়। অথচ আন্দোলনকারীরা সরকারের নয়, তারা কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কোটা দিয়ে স্বল্প মানুষকে বৃহৎ সুযোগ করে দিয়ে অধিকার দেওয়া হয়েছে, না করুনা করা হচ্ছে? গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, নারী কোটা, পোষ্য কোটা, উপজাতি কোটা, জেলা কোটাসহ বিভিন্ন কোটার ফাঁদে ৫৫ ভাগ খেয়ে ফেলছে সাধারণ চাকুরি প্রার্থীদের ভাগ্য। বলা হয়, অনগ্রসর এলাকার মানুষকে প্রতিষ্ঠিত করতে কোটা ব্যবস্থা। বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দেশের গর্ব ও অহংকার। তারা না থাকলে হায়ানাদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা পেতে আরো রক্ত ঝরতো। আরো দীর্ঘকাল ধরে স্বাধীনতার স্বাদ পেতে অপেক্ষা করতে হতো। তাদের বীর দর্পের কারণে আমাদের স্বাধীন সোনালী সূর্য মাত্র ৯ মাসে অর্জিত হয়েছে। বীরের ঘরে বীর জন্ম গ্রহণ করে। ফলে তাদের সন্তানদের চাকুরিতে কোটা দিয়ে নিছক করুনা ছাড়া কিছুই করা হচ্ছে না। নারীদের কোটা দিয়ে তাদের সমঅধিকারের দাবীকে স্তব্ধ করে দুর্বল ভেবে বলা হচ্ছে, ‘তোমরা নারী, তোমরা দুর্বল, তাই তোমাদের হাত ধরে উপরে তোলা হচ্ছে”। রাজার ছেলে রাজা হবে- এটাই ছিলো রাজবংশীয়দের নীতি। কিন্তু গণপ্রজাতন্ত্রী দেশে পোষ্য কোটা সেই নীতিকে আবারো প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ প্রার্থীদের বঞ্চিত করছে। বাংলাদেশে সকল এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থা একরকম হলেও উপজাতি ও জেলা কোটা প্রমাণ করে শিক্ষা ব্যবস্থায় ভিন্নতা আছে। আর এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে মেধাশূন্য হচ্ছে জাতি। কোটা ধারীরা একবার ৫৫ ভাগ কোটায় প্রতিযোগিতা করছে আবার সাধারণ প্রার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে ৪৫ ভাগেও অংশ নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের ভাগে ৪৫ ভাগ থাকায় টাকার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হচ্ছে। সেখানে টিকছে না গরিব মেধাবী প্রার্থীরা। তাহলে মেধাবী গরীব চকুরি প্রার্থীর জন্য কি ব্যবস্থা ? না স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের চাকরি করার অধিকার নেই? বিগত কয়েকটি চাকরির পরীক্ষা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোন পরীক্ষায় কোটা পূরণ হচ্ছে না। কোটা ধারীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। ৩২তম বিসিএস হলো মহিলা ও মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীদের জন্য। ৩৩ তমতেও কোটা পূরণ হয় নি। ফলে ৩৪তমতে বাছাই পরীক্ষায় যে কোন মূল্যে তাদের নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের পাওয়া যাচ্ছে না বলে নাতী-নাতনীদের কোটায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তবুও পাওয়া যাচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, সেনালী ব্যাংকের নিয়োগে কোটা পূরণ না হওয়ায় পরবর্তীতে কোটাধারীদের জন্য নিয়োগ দিতে হয়েছে। প্রত্যেক সেক্টরে এই একই অবস্থা বিরাজ করছে। এতে অর্থ, কাজ ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে। এতো কিছুর পরও কোটা পূরণ না হওয়ায় প্রমাণ করে কোটা ধারীরা পড়াশুনা করে না অথবা চাকরির জন্য যোগ্য না। ফলে এই শ্রেণীর প্রার্থীদের চাকুরি দেওয়া আর যাই হোক করুনা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। লেখক : নাজমুল হক, স্কাউটার, ঢাকা, ই-মেইল: nazmulrover@gmail.com, মোবাইল : ০১৭২০-৫৪৮৮৪৭ নাজমুল হক

মন্তব্য করুন