শাহবাগ থেকে শাপলা চত্বর এবং হেফাজতে ইসলাম

জুলাই ১, ২০১৩, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ এই সংবাদটি ৫ বার পঠিত

গণতন্ত্রের ব্যাখ্যাতে আমরা যা বুঝি, একটি স্বাধীন দেশের জনগন সামাজিক বা রাজনৈতিক দলের ব্যানারে সরকারের কাছে যে কোন যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করতে পারে এবং নিয়মতান্ত্রিক সকল আন্দোলন সংগ্রাম তার সাধ্যানুযায়ী চালিয়ে যেতে পারে। এটা তার নাগরিক অধিকার। সংবিধান থেকে প্রাপ্ত অধিকার বলে প্রজাতন্ত্রের মালিক সেই জনগণ একটি স্বাধীন ভূ-খন্ডে তারা যদি সংখ্যালঘুও হয় তাহলে তারা তাদের ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অন্য-বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, অবকাঠামো, পানি, পতাকা, সীমান্ত, সর্বপ্রকার দুর্নীতি, সর্বপ্রকার ন্যায় বিচার নিশ্চিতের লক্ষে যে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে পারে। এটি একটি অতি সাধারন বিষয়। রাষ্ট্রের কর্ণদার যারা তারা বিবেচনা করেন আন্দোলনের বিষয়বস্তু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং বিষদ পর্যালোচনার পর রাষ্ট্র পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ পায়। কিন্তু যখন সংখ্যা ঘরিষ্টরা তাদের যৌক্তিক দাবি সম্বলিত আন্দোলন শুরু করেন তখন পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা দেখেছি ক্ষমতাসিন সরকার তাদের নিয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে যায়। যদি দাবি সমূহ সরকার পক্ষে আদৌ না মানার হয় তাহলে আন্দোলনকারীদের আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য যত অপকৌশল রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার সুনিশ্চিত করে যা গণতন্ত্রের রীতি-নীতিতে পড়ে না। ২০১০ সালের ১৯শে জানুযারীতে প্রতিষ্ঠিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নামক সংগঠনের ১৩ দফা দাবির পক্ষে আন্দোলনরত লক্ষ-লক্ষ নেতা কর্মীকে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে গত ৬ মে বিতাড়িত করা হয় এবং অসংখ্য কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে হেফাজত কর্মীদেরকে ফ্লাশ আউট করা হয়েছে এতে ৪ জন কর্মী নিহত হয়েছে অপরদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর প্রধান আমীর একবিংশ শতাব্দির শ্রেষ্ঠ ইসলামী ব্যক্তিত্ব, হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের মান্যবর মহা-পরিচালক, খলিফায়ে মাদানী শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী দামাত বারাকাতুহুম তার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন গত ৬ মে শাপলা চত্বরে গভীর রজনীতে বাতি নিভিয়ে প্রার্থনারত, তাহাজ্জুদরত, যিকিররত এমনকি সারাদিন ঢাকার প্রবেশমুখে ৬টি স্পটে মহান আল্লাহ তা’য়ালা ও প্রিয় নবী (সাঃ) এর অবমাননাকারী নাস্তিকদের বিচার চাইতে আসা গরীব-দুঃখী, মেহনতী তৌহিদী জনতা, নিরস্ত্র, শান্তিপ্রিয় হেফাজত কর্মীদের উপর হামলা করে অসংখ্যা কর্মীকে শহীদ করেছে, কয়েক হাজার গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছে। পরবর্তীতে কিছু সংখ্যক কর্মী হাসপাতালে ভর্তি হলে অবস্থা খারাপের দিকে চলে যায় অবশেষে তারাও শহীদের তালিকাতে নাম লেখান। এই ঘটনার পর আল্লামা শাহ্ আহমদ শফি শাপলা চত্বরের শহীদদের জন্য প্রাণ খুলে দো’আ করেছেন তাদের পরিবার পরিজনদের প্রতি সহানুভূতি ব্যক্ত করেছেন। শহীদদের পরিবারের জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ আকুতি মূলক মুনাজাত করেছেন। আহতদের তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠার জন্য এবং কারাগারে বন্দী সকল কারাবন্দী হেফাজত নেতাদের মুক্তির জন্য সর্বদা এশিয়া মহাদেশের এ বিখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপীঠ আল জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাট হাজারীতে হাজার হাজার আলেম-উলামা, তৌহিদী জনতা ও ছাত্রশিক্ষকদের নিয়ে প্রতিনিয়ত মহান স্রষ্টা রাজাধীরাজ আল্লাহ রাব্বুল আল-আমীনের নিকট দো’আ করছেন এবং দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজের জন্য, ক্বোরআন, হাদীস, ইসলাম-মুসলাম, আলেম-উলামা তৌহিদী জনতা ও সর্বপরি রাসূল প্রেমিকদের শান-মান (বুলন্দ) বিকাশিত হওয়ার জন্য। হযরত আহমদ শফী বর্তমান একাবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বজুর্গ (পীর) বললে মনে হয় আমার সাথে কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন না কারণ আমরা শুনেছি তিনি যখন ভারতের ইউপি প্রদেশের ঐতিহাসিক দারুল উলূম দেওবন্দের একজন অস্বাভাবিক মেধাবী ও কৃতি ছাত্র ছিলেন। তিনি ইসলামী জগতের অক্সফোর্ড খ্যাত ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দে যখন ছাত্র তখনি তদ্বিয় উস্তাদ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের জানবাজ মুজাহীদ, আজাদীর আন্দোলনের অন্যতম লড়াকু সৈনিক, ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানীর আতংক অখন্ড ভারতের স্বপ্নদ্রষ্টা যার হাতে হাত রেখে আন্দোলনে শামীল হন স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী সর্ব ভারতের এককালের আলেম ও মুসলিম কংগ্রেস সভাপতি, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, এম এ জিন্নাহ, জহরলালনেহেরু, সুভাষ চন্দ্র বসু এমনকি গান্ধীজি পর্যন্ত অক্সফোর্ড থেকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এসে শামীল হন। ইতিহাসের কালোজয়ী বীরপুরুষ আওলাদে রাসূল শাইখুল ইসলাম আল্লামা সাইয়্যেদ হুছাইন আহমদ মাদানী রাহঃ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ের স্পন্দন ও মুকুটহীন সম্রাট আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী দাঃ বাঃ। ভারতের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শাইখুল আরব ওয়াল আযম শাইখুল ইসলাম সাইয়্যেদ হুছাইন আহমদ মাদানী রাহঃ কে ভারতের প্রথম সরকার ১৯৪৮ সালে পদ্যভূষন অর্থাৎ ভারতের বে-সামরিক রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ স্বাধীনতা পদক পদ্যভূষনে ভূষিত করার জন্য তাকে চিঠি দেয়। কিন্তু মাদানী রাহঃ সেই পদ্যভূষন গ্রহণ করেননি। কারণ তিনি তার পরবর্তী জবাবে লিখিতভাবে বলেছিলেন আমি পদ্যভূষনে ভূষিত হওয়ার জন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম করিনি। আযাদির আন্দোলন করেছি মানবতার মুক্তির জন্য, মা, মাটি ও মানুষের জন্য, ভারতবাসীকে ইংরেজদের গোলামী থেকে মুক্ত করার জন্য এবং সবচেয়ে বড় কথা হল “হুব্বুল ওয়াতানে মিনাল ঈমান” বা দেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ তাই মহান আল্লাহ পাকের যেহেতু গোলাম আমরা সে হিসেবে ইংরেজদের নয় আল্লাহরই গোলামী করব। যাজা বা বদলা নেয়ার জন্য নয় আর যদি নিতে হয় তাহলে নেব আল্লাহর কাছ থেকে। এমনই ব্যক্তি ছিলেন হযরত মাদানী রাহঃ তার স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভারত সরকার ওহফরধহ ডাকটিকিটে ঐঁংংধরহ অযসবফ গধফধহর (জঅ:) ছবি সহ ডাকটিকেট অনুমোদন করে আজও পর্যন্ত তা চালু রেখেছে। যদি মাদানী (রাহঃ) জীবিত থাকতেন তাহলে এ কাজেও হয়তো বাদ থাকতেন। এই মহান খোদা ভীরু ব্যক্তি উপ মহাদেশের আজাদির আন্দোলন করতে গিয়ে বহু বার গ্রেপ্তার হয়েছেন। জীবনের সিংহভাগ সময় ইংরেজদের অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠে থেকে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। কিন্তু নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শত জুুলুম নির্যাতনের পরও এক চুল পরিমাণ সরাতে পারেনি ইংরেজরা স্বীধাকার সেই আন্দোলনের বীর সিপাহ সালার। আজকের বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ মুসলমানরা যে আল্লমা শাহ্ আহমদ শফী দাঃ রাঃ এর ডাকে সাড়া দিচ্ছে তিনি হলেন ইতিহাসের কালোজয়ী বীর পুরুষ হযরত মাদানী রাহঃ এর সুযোগ্য ছাত্র ও একনিষ্ট খলিফা হযরত মাদানী (রহঃ) যখন আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী কে খেলাফত বা ইজাযত দান করেন তখন তার বয়স ছিল সমসাময়িক সকলের চেয়েও কম। আমি মনে করি উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক সম্রাট শাইখুল আরব ওয়াল আযম যাকে বলা হয় তিনি পাত্র চিনতে ভুল করেননি যথাস্থানেই নিজের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী সু-দীর্ঘ কাল যাবত হাদীসে নববী সাঃ এর পাঠদানে মশগুল একাধারে তিনি বহুগ্রন্থ প্রণেতা তার লেখনি শক্তি অত্যান্ত খুরদার, হুজুর অনেক জটিল বিষয়ে কিতাব লিখেছেন। বর্তমানে আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী দাঃ বাঃ এর বয়স ৯৪ বৎসর এই বয়সেও সর্বদা তাসাউফের জ্ঞান বিতরণ করেছেন। এখনও প্রতিদিন সুচারুরূপে ক্লাসে সিহাসিত্তার সর্বোচ্চ কিতাব (গ্রন্থ) ছহী বুখারী শরীফের পাঠদান করেন অপরদিকে পৃথিবী বিখ্যাত দারুল হাদীসের মাদরাসা হাটহাজারীতে দাওরায়ে হাদীস (স্নাতকোত্তর) ছাত্র সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বমোট ছাত্র সংখ্যা সাড়ে আট হাজারের মত, এই বিশাল আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাপরিচালকের দায়িত্ব আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী যতœ সহকারে পালন করে থাকেন। শুধু হাটহাজারী নয় আরও কিছু কিছু ছোট মাদরাসা রয়েছে যা হুজুরই পরিচালনা করে থাকেন। বাংলাদেশের বেসরকারী কওমি মাদরাসা সংখ্যা প্রায় আশি হাজারের মত। ঐ সকল কওমি মাদরাসার মধ্যে সর্ববৃহৎ যে শিক্ষা বোর্ড রয়েছে- “বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ” বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এর মুহতারাম চেয়ারম্যান খলিফায়ে মাদানী শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী। তিনি এই বয়সেও প্রতি রাতে গভীর রজনীতে মহান প্রভুর দরবারে দেশ, জাতি, আলেম, উলামা, ইসলাম, মুসলমান প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মাদুর রাসুলূল্লাহ সাঃ এর সকল উম্মতের নাজাতের জন্য শেষ রাতে সিজদারত অবস্থায় মহান আল্লাহর দরবারে কাদতে কাদতে দূর্বল হয়ে পড়েন। অসুস্থ শরীর নিয়ে একবিংশ শতাব্দীর এই বীর সিপাহ সালার দেশ, জাতি, ইসলাম, মুসলমান ও মানবতার মুক্তির দূত আল্লাহর প্রিয় হাবীব সকল নবী-রাসূলগণের সরদার বিচার দিবসের একমাত্র সুপারিশকারী, বিশ্বের শত শত কোটি মুসলমানের প্রাণের চেয়েও প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ এর উপর বাংলাদেশের মত সম্মানী মুসলিম রাষ্ট্রে কতিপয় কুলাঙ্গার স্ব-ঘোষিত নাস্তিক কর্তৃক ব্লগে গালি-গালাজ, কুৎসা রটনা, অপবাদ দেয়া, মনগড়া মিথ্যা কথা বার্তা ও ইসলাম ধর্মের অপমান করা, ক্বোরআনের আয়াতের বিক্রিত তরজমা (অর্থ) করে গল্প লেখা। শুধু তাই শেষ নয় এ পৃথিবীর স্রষ্টা আমাদের খালিক (সৃষ্টিকারী), আমাদের মালেক (প্রতিপালক) মহান আল্লাহ পর্যন্ত নাস্তিকদের আংগুলির তর্জন উঠে যাওয়ার পর বাংলাদেশের বর্তমান শ্রেষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উপর হাটহাজারী মাদরাসাতে এক জরুরী বৈঠক করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কয়েকটি দৈনিক পত্রিকাতে নাস্তিকদের বিভিন্ন কুকর্ম সমূহের কয়েকটি সচিত্র প্যাজের বিবরনসহ দেশ-জাতি, তৌহিদী জনতা, উলামায়ে কেরাম, প্রশাসন ও সরকারের অবগতির জন্য একটি ঐতিহাসিক খোলা চিঠি দেন। যা পরদিন প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের সকলের কাছে আসলে ঠিক ঐ সপ্তাহের জুমাবারে বাংলাদেশের নব্বই ভাগ মুসলমানেরা নামাজ শেষ করে দেশের প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মসজিদ থেকে একই সাথে গগণ বিদাড়ী আওয়াজ তুলল, নারায়ে তাকবীর-আল্লাহু আকবার, আর ফাসি ফাসি ফাসি চাই-নাস্তিকদের ফাসি চাই। পরের দিন শনিবার বাংলাদেশের সকল ডানপন্থী প্রিন্ট মিডিয়াতে শুধু মুসল্লিদের টুপি আর পাঞ্জাবী পরা ব্যানারসহ মিছিলের ছবি দেখে আমার কাছে মনে হল একি আশ্চর্য্য ব্যাপার, দাড়ি নাই, মুছ নাই, কোন ইসলামী দলও করে না, শুধু মাত্র নবী প্রেম তার অন্তরে দাগ কেটেছে এবং মহান প্রভুর অস্তিত্বে বিশ্বাসী ঈমানদারেরা হয়তো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে না কিন্তু সে কখনও মহান আল্লাহ ও তার প্রিয় হাবিবের অবমাননা সহ্য করতে পারে না। তাই প্রতিবাদ জানাতে জুমার নামাজ পড়ে ঘরে না গিয়ে মিছিলে যোগ দিয়ে নিজের সর্বস্ব বিলীন করে তাকবীরের ধ্বনি তুলছে। নব্বই ভাগ মুসলমানের এই দেশে তৌহিদী জনতা ঐ দিন প্রায় চার লক্ষ মসজিদ থেকে প্রতিবাদী মিছিল বের করেছিল। যা বিশ্ববাসী দেখছিল বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে। আমার মনে হয় ঐ মিছিলের মাধ্যমে অনেকদিন পর আবার প্রকাশ পেলো তৌহিদ বাদী বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী শক্তির যা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছিল না নাস্তিক্যবাদ ও সেকুলার শক্তি। সেকুলারিজম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মানুষকে গীর্জা থেকে বা ধর্মীয় অনুশাসন থেকে মুক্ত তথা হাজার মাইল দূরে রাখার জন্য। আমার আজকের লেখার মূল বিষয় হল হেফাজত ইসলামের আন্দোলন, বর্তমানে মহাজোট সরকারের আবিস্কৃত শাহবাগ ও তাদের বিরোধীমত দমন নীতি নিয়ে। আমরা জানি, বর্তমান সরকার বিগত ১/১১ পরবর্তী ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে যেভাবেই হোক এক তৃতীয়াংশ আসনে জিতে। আর ২০০৯ সালের প্রথম দিকে মন্ত্রী সভা গঠন করে। তারপর থেকে দেশে বহু অঘটন ঘটেছে যার মধ্যে অনেক ঘটনারই এখন পর্যন্ত কোন সুষ্ট বিচার হয়নি। আবার অনেক গুলোর তদন্ত রিপোর্টও আলোর মুখ দেখেনি। মহাজোট সরকারের ২৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যে একটি অন্যতম দফা ছিল যুদ্ধাপরাধীর বিচার। যা সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক যুদ্ধা অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কয়েকজনের বিচার চলছিল এমতাবস্থায় এই বৎসরের ৫ই ফেব্র“য়ারীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম এর নেতা কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে কিছু সংখ্যক যুবক-যুবতীরা রাজধানীর জন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শাহবাগের চৌরাস্তাতে কাদের মোল্লার ফাসির দাবিতে দিন-রাত রাস্তা বন্ধ করে, পুলিশের পাহারাদারিতে সরকারের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মাইয়্যা পুওয়া আর মদ পুওয়াসহ একি ছামিয়ানার নিচে গাদা-গাদি করে কয়েক মাস অতিবাহিত করেছে। শাহবাগের ঐ আন্দোলনের মঞ্চের নাম দেয়া হল গণজাগরণ মঞ্চ। আর আয়োজক হল ব্লগার ও অনলাইন একটিভিটিস্ট ফোরাম নামের সংগঠন। তারা বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রী ও মানুষ গড়ার কারিগর টির্চারদেরকে এক পর্যায়ে বাধ্য করলো গণজাগরণ মঞ্চে আসার জন্য, তখন কিন্তু অনেক অভিভাবক বিটিভিকে পাননি নালিশ করার জন্য আর ৫ মে আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) কে গালির প্রতিবাদ করতে গিয়ে যারা নিজের জান দিল যে সংগঠন বাংলাদেশের ইতিহাসকে ছাড়িয় গেল জনপ্রিয়তার শীর্ষে সেই হেফাজতে ইসলাম ও তার কর্মীরা নাকি কোরআন পুড়িয়েছে যারা কোরআনের জন্য নিজের জীবন দিতে কোনঠাশাবোধ করে না তাদের উপর যদি তুহমত বা অপবাদ দেয়া হয় যে তারা কোরআন পুড়িয়েছে তা কি কোন সাধারণ জ্ঞানের অধিকারী বিশ্বাস করবে? আমরা মনে করি সরকার এ ব্যাপারে বক্তৃতা না বাড়িয়ে টিভি ফুটেজ দেখে জাতির কাছে সত্য উন্মোচন করবে। দায়ীদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনবে। হেফাজত কর্মীদের উপর গণহত্যার পরিসংখ্যান নির্ণয়ের লক্ষে এবং হতাহতের ন্যায় বিচার নিশ্চিতের জন্
গণতন্ত্রের ব্যাখ্যাতে আমরা যা বুঝি, একটি স্বাধীন দেশের জনগন সামাজিক বা রাজনৈতিক দলের ব্যানারে সরকারের কাছে যে কোন যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করতে পারে এবং নিয়মতান্ত্রিক সকল আন্দোলন সংগ্রাম তার সাধ্যানুযায়ী চালিয়ে যেতে পারে। এটা তার নাগরিক অধিকার। সংবিধান থেকে প্রাপ্ত অধিকার বলে প্রজাতন্ত্রের মালিক সেই জনগণ একটি স্বাধীন ভূ-খন্ডে তারা যদি সংখ্যালঘুও হয় তাহলে তারা তাদের ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অন্য-বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, অবকাঠামো, পানি, পতাকা, সীমান্ত, সর্বপ্রকার দুর্নীতি, সর্বপ্রকার ন্যায় বিচার নিশ্চিতের লক্ষে যে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে পারে। এটি একটি অতি সাধারন বিষয়। রাষ্ট্রের কর্ণদার যারা তারা বিবেচনা করেন আন্দোলনের বিষয়বস্তু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং বিষদ পর্যালোচনার পর রাষ্ট্র পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ পায়। কিন্তু যখন সংখ্যা ঘরিষ্টরা তাদের যৌক্তিক দাবি সম্বলিত আন্দোলন শুরু করেন তখন পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা দেখেছি ক্ষমতাসিন সরকার তাদের নিয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে যায়। যদি দাবি সমূহ সরকার পক্ষে আদৌ না মানার হয় তাহলে আন্দোলনকারীদের আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য যত অপকৌশল রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার সুনিশ্চিত করে যা গণতন্ত্রের রীতি-নীতিতে পড়ে না। ২০১০ সালের ১৯শে জানুযারীতে প্রতিষ্ঠিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নামক সংগঠনের ১৩ দফা দাবির পক্ষে আন্দোলনরত লক্ষ-লক্ষ নেতা কর্মীকে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে গত ৬ মে বিতাড়িত করা হয় এবং অসংখ্য কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে হেফাজত কর্মীদেরকে ফ্লাশ আউট করা হয়েছে এতে ৪ জন কর্মী নিহত হয়েছে অপরদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর প্রধান আমীর একবিংশ শতাব্দির শ্রেষ্ঠ ইসলামী ব্যক্তিত্ব, হাটহাজারী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের মান্যবর মহা-পরিচালক, খলিফায়ে মাদানী শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী দামাত বারাকাতুহুম তার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন গত ৬ মে শাপলা চত্বরে গভীর রজনীতে বাতি নিভিয়ে প্রার্থনারত, তাহাজ্জুদরত, যিকিররত এমনকি সারাদিন ঢাকার প্রবেশমুখে ৬টি স্পটে মহান আল্লাহ তা’য়ালা ও প্রিয় নবী (সাঃ) এর অবমাননাকারী নাস্তিকদের বিচার চাইতে আসা গরীব-দুঃখী, মেহনতী তৌহিদী জনতা, নিরস্ত্র, শান্তিপ্রিয় হেফাজত কর্মীদের উপর হামলা করে অসংখ্যা কর্মীকে শহীদ করেছে, কয়েক হাজার গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছে। পরবর্তীতে কিছু সংখ্যক কর্মী হাসপাতালে ভর্তি হলে অবস্থা খারাপের দিকে চলে যায় অবশেষে তারাও শহীদের তালিকাতে নাম লেখান। এই ঘটনার পর আল্লামা শাহ্ আহমদ শফি শাপলা চত্বরের শহীদদের জন্য প্রাণ খুলে দো’আ করেছেন তাদের পরিবার পরিজনদের প্রতি সহানুভূতি ব্যক্ত করেছেন। শহীদদের পরিবারের জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ আকুতি মূলক মুনাজাত করেছেন। আহতদের তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠার জন্য এবং কারাগারে বন্দী সকল কারাবন্দী হেফাজত নেতাদের মুক্তির জন্য সর্বদা এশিয়া মহাদেশের এ বিখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপীঠ আল জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাট হাজারীতে হাজার হাজার আলেম-উলামা, তৌহিদী জনতা ও ছাত্রশিক্ষকদের নিয়ে প্রতিনিয়ত মহান স্রষ্টা রাজাধীরাজ আল্লাহ রাব্বুল আল-আমীনের নিকট দো’আ করছেন এবং দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজের জন্য, ক্বোরআন, হাদীস, ইসলাম-মুসলাম, আলেম-উলামা তৌহিদী জনতা ও সর্বপরি রাসূল প্রেমিকদের শান-মান (বুলন্দ) বিকাশিত হওয়ার জন্য। হযরত আহমদ শফী বর্তমান একাবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বজুর্গ (পীর) বললে মনে হয় আমার সাথে কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন না কারণ আমরা শুনেছি তিনি যখন ভারতের ইউপি প্রদেশের ঐতিহাসিক দারুল উলূম দেওবন্দের একজন অস্বাভাবিক মেধাবী ও কৃতি ছাত্র ছিলেন। তিনি ইসলামী জগতের অক্সফোর্ড খ্যাত ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দে যখন ছাত্র তখনি তদ্বিয় উস্তাদ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের জানবাজ মুজাহীদ, আজাদীর আন্দোলনের অন্যতম লড়াকু সৈনিক, ইষ্টইন্ডিয়া কোম্পানীর আতংক অখন্ড ভারতের স্বপ্নদ্রষ্টা যার হাতে হাত রেখে আন্দোলনে শামীল হন স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী সর্ব ভারতের এককালের আলেম ও মুসলিম কংগ্রেস সভাপতি, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, এম এ জিন্নাহ, জহরলালনেহেরু, সুভাষ চন্দ্র বসু এমনকি গান্ধীজি পর্যন্ত অক্সফোর্ড থেকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এসে শামীল হন। ইতিহাসের কালোজয়ী বীরপুরুষ আওলাদে রাসূল শাইখুল ইসলাম আল্লামা সাইয়্যেদ হুছাইন আহমদ মাদানী রাহঃ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ের স্পন্দন ও মুকুটহীন সম্রাট আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী দাঃ বাঃ। ভারতের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শাইখুল আরব ওয়াল আযম শাইখুল ইসলাম সাইয়্যেদ হুছাইন আহমদ মাদানী রাহঃ কে ভারতের প্রথম সরকার ১৯৪৮ সালে পদ্যভূষন অর্থাৎ ভারতের বে-সামরিক রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ স্বাধীনতা পদক পদ্যভূষনে ভূষিত করার জন্য তাকে চিঠি দেয়। কিন্তু মাদানী রাহঃ সেই পদ্যভূষন গ্রহণ করেননি। কারণ তিনি তার পরবর্তী জবাবে লিখিতভাবে বলেছিলেন আমি পদ্যভূষনে ভূষিত হওয়ার জন্য স্বাধীনতা সংগ্রাম করিনি। আযাদির আন্দোলন করেছি মানবতার মুক্তির জন্য, মা, মাটি ও মানুষের জন্য, ভারতবাসীকে ইংরেজদের গোলামী থেকে মুক্ত করার জন্য এবং সবচেয়ে বড় কথা হল “হুব্বুল ওয়াতানে মিনাল ঈমান” বা দেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ তাই মহান আল্লাহ পাকের যেহেতু গোলাম আমরা সে হিসেবে ইংরেজদের নয় আল্লাহরই গোলামী করব। যাজা বা বদলা নেয়ার জন্য নয় আর যদি নিতে হয় তাহলে নেব আল্লাহর কাছ থেকে। এমনই ব্যক্তি ছিলেন হযরত মাদানী রাহঃ তার স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভারত সরকার ওহফরধহ ডাকটিকিটে ঐঁংংধরহ অযসবফ গধফধহর (জঅ:) ছবি সহ ডাকটিকেট অনুমোদন করে আজও পর্যন্ত তা চালু রেখেছে। যদি মাদানী (রাহঃ) জীবিত থাকতেন তাহলে এ কাজেও হয়তো বাদ থাকতেন। এই মহান খোদা ভীরু ব্যক্তি উপ মহাদেশের আজাদির আন্দোলন করতে গিয়ে বহু বার গ্রেপ্তার হয়েছেন। জীবনের সিংহভাগ সময় ইংরেজদের অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠে থেকে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। কিন্তু নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শত জুুলুম নির্যাতনের পরও এক চুল পরিমাণ সরাতে পারেনি ইংরেজরা স্বীধাকার সেই আন্দোলনের বীর সিপাহ সালার। আজকের বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ মুসলমানরা যে আল্লমা শাহ্ আহমদ শফী দাঃ রাঃ এর ডাকে সাড়া দিচ্ছে তিনি হলেন ইতিহাসের কালোজয়ী বীর পুরুষ হযরত মাদানী রাহঃ এর সুযোগ্য ছাত্র ও একনিষ্ট খলিফা হযরত মাদানী (রহঃ) যখন আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী কে খেলাফত বা ইজাযত দান করেন তখন তার বয়স ছিল সমসাময়িক সকলের চেয়েও কম। আমি মনে করি উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক সম্রাট শাইখুল আরব ওয়াল আযম যাকে বলা হয় তিনি পাত্র চিনতে ভুল করেননি যথাস্থানেই নিজের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী সু-দীর্ঘ কাল যাবত হাদীসে নববী সাঃ এর পাঠদানে মশগুল একাধারে তিনি বহুগ্রন্থ প্রণেতা তার লেখনি শক্তি অত্যান্ত খুরদার, হুজুর অনেক জটিল বিষয়ে কিতাব লিখেছেন। বর্তমানে আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী দাঃ বাঃ এর বয়স ৯৪ বৎসর এই বয়সেও সর্বদা তাসাউফের জ্ঞান বিতরণ করেছেন। এখনও প্রতিদিন সুচারুরূপে ক্লাসে সিহাসিত্তার সর্বোচ্চ কিতাব (গ্রন্থ) ছহী বুখারী শরীফের পাঠদান করেন অপরদিকে পৃথিবী বিখ্যাত দারুল হাদীসের মাদরাসা হাটহাজারীতে দাওরায়ে হাদীস (স্নাতকোত্তর) ছাত্র সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বমোট ছাত্র সংখ্যা সাড়ে আট হাজারের মত, এই বিশাল আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাপরিচালকের দায়িত্ব আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী যতœ সহকারে পালন করে থাকেন। শুধু হাটহাজারী নয় আরও কিছু কিছু ছোট মাদরাসা রয়েছে যা হুজুরই পরিচালনা করে থাকেন। বাংলাদেশের বেসরকারী কওমি মাদরাসা সংখ্যা প্রায় আশি হাজারের মত। ঐ সকল কওমি মাদরাসার মধ্যে সর্ববৃহৎ যে শিক্ষা বোর্ড রয়েছে- “বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ” বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এর মুহতারাম চেয়ারম্যান খলিফায়ে মাদানী শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী। তিনি এই বয়সেও প্রতি রাতে গভীর রজনীতে মহান প্রভুর দরবারে দেশ, জাতি, আলেম, উলামা, ইসলাম, মুসলমান প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মাদুর রাসুলূল্লাহ সাঃ এর সকল উম্মতের নাজাতের জন্য শেষ রাতে সিজদারত অবস্থায় মহান আল্লাহর দরবারে কাদতে কাদতে দূর্বল হয়ে পড়েন। অসুস্থ শরীর নিয়ে একবিংশ শতাব্দীর এই বীর সিপাহ সালার দেশ, জাতি, ইসলাম, মুসলমান ও মানবতার মুক্তির দূত আল্লাহর প্রিয় হাবীব সকল নবী-রাসূলগণের সরদার বিচার দিবসের একমাত্র সুপারিশকারী, বিশ্বের শত শত কোটি মুসলমানের প্রাণের চেয়েও প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ এর উপর বাংলাদেশের মত সম্মানী মুসলিম রাষ্ট্রে কতিপয় কুলাঙ্গার স্ব-ঘোষিত নাস্তিক কর্তৃক ব্লগে গালি-গালাজ, কুৎসা রটনা, অপবাদ দেয়া, মনগড়া মিথ্যা কথা বার্তা ও ইসলাম ধর্মের অপমান করা, ক্বোরআনের আয়াতের বিক্রিত তরজমা (অর্থ) করে গল্প লেখা। শুধু তাই শেষ নয় এ পৃথিবীর স্রষ্টা আমাদের খালিক (সৃষ্টিকারী), আমাদের মালেক (প্রতিপালক) মহান আল্লাহ পর্যন্ত নাস্তিকদের আংগুলির তর্জন উঠে যাওয়ার পর বাংলাদেশের বর্তমান শ্রেষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উপর হাটহাজারী মাদরাসাতে এক জরুরী বৈঠক করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কয়েকটি দৈনিক পত্রিকাতে নাস্তিকদের বিভিন্ন কুকর্ম সমূহের কয়েকটি সচিত্র প্যাজের বিবরনসহ দেশ-জাতি, তৌহিদী জনতা, উলামায়ে কেরাম, প্রশাসন ও সরকারের অবগতির জন্য একটি ঐতিহাসিক খোলা চিঠি দেন। যা পরদিন প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের সকলের কাছে আসলে ঠিক ঐ সপ্তাহের জুমাবারে বাংলাদেশের নব্বই ভাগ মুসলমানেরা নামাজ শেষ করে দেশের প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মসজিদ থেকে একই সাথে গগণ বিদাড়ী আওয়াজ তুলল, নারায়ে তাকবীর-আল্লাহু আকবার, আর ফাসি ফাসি ফাসি চাই-নাস্তিকদের ফাসি চাই। পরের দিন শনিবার বাংলাদেশের সকল ডানপন্থী প্রিন্ট মিডিয়াতে শুধু মুসল্লিদের টুপি আর পাঞ্জাবী পরা ব্যানারসহ মিছিলের ছবি দেখে আমার কাছে মনে হল একি আশ্চর্য্য ব্যাপার, দাড়ি নাই, মুছ নাই, কোন ইসলামী দলও করে না, শুধু মাত্র নবী প্রেম তার অন্তরে দাগ কেটেছে এবং মহান প্রভুর অস্তিত্বে বিশ্বাসী ঈমানদারেরা হয়তো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে না কিন্তু সে কখনও মহান আল্লাহ ও তার প্রিয় হাবিবের অবমাননা সহ্য করতে পারে না। তাই প্রতিবাদ জানাতে জুমার নামাজ পড়ে ঘরে না গিয়ে মিছিলে যোগ দিয়ে নিজের সর্বস্ব বিলীন করে তাকবীরের ধ্বনি তুলছে। নব্বই ভাগ মুসলমানের এই দেশে তৌহিদী জনতা ঐ দিন প্রায় চার লক্ষ মসজিদ থেকে প্রতিবাদী মিছিল বের করেছিল। যা বিশ্ববাসী দেখছিল বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে। আমার মনে হয় ঐ মিছিলের মাধ্যমে অনেকদিন পর আবার প্রকাশ পেলো তৌহিদ বাদী বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী শক্তির যা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছিল না নাস্তিক্যবাদ ও সেকুলার শক্তি। সেকুলারিজম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মানুষকে গীর্জা থেকে বা ধর্মীয় অনুশাসন থেকে মুক্ত তথা হাজার মাইল দূরে রাখার জন্য। আমার আজকের লেখার মূল বিষয় হল হেফাজত ইসলামের আন্দোলন, বর্তমানে মহাজোট সরকারের আবিস্কৃত শাহবাগ ও তাদের বিরোধীমত দমন নীতি নিয়ে। আমরা জানি, বর্তমান সরকার বিগত ১/১১ পরবর্তী ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে যেভাবেই হোক এক তৃতীয়াংশ আসনে জিতে। আর ২০০৯ সালের প্রথম দিকে মন্ত্রী সভা গঠন করে। তারপর থেকে দেশে বহু অঘটন ঘটেছে যার মধ্যে অনেক ঘটনারই এখন পর্যন্ত কোন সুষ্ট বিচার হয়নি। আবার অনেক গুলোর তদন্ত রিপোর্টও আলোর মুখ দেখেনি। মহাজোট সরকারের ২৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যে একটি অন্যতম দফা ছিল যুদ্ধাপরাধীর বিচার। যা সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক যুদ্ধা অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কয়েকজনের বিচার চলছিল এমতাবস্থায় এই বৎসরের ৫ই ফেব্র“য়ারীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম এর নেতা কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে কিছু সংখ্যক যুবক-যুবতীরা রাজধানীর জন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শাহবাগের চৌরাস্তাতে কাদের মোল্লার ফাসির দাবিতে দিন-রাত রাস্তা বন্ধ করে, পুলিশের পাহারাদারিতে সরকারের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মাইয়্যা পুওয়া আর মদ পুওয়াসহ একি ছামিয়ানার নিচে গাদা-গাদি করে কয়েক মাস অতিবাহিত করেছে। শাহবাগের ঐ আন্দোলনের মঞ্চের নাম দেয়া হল গণজাগরণ মঞ্চ। আর আয়োজক হল ব্লগার ও অনলাইন একটিভিটিস্ট ফোরাম নামের সংগঠন। তারা বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রী ও মানুষ গড়ার কারিগর টির্চারদেরকে এক পর্যায়ে বাধ্য করলো গণজাগরণ মঞ্চে আসার জন্য, তখন কিন্তু অনেক অভিভাবক বিটিভিকে পাননি নালিশ করার জন্য আর ৫ মে আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) কে গালির প্রতিবাদ করতে গিয়ে যারা নিজের জান দিল যে সংগঠন বাংলাদেশের ইতিহাসকে ছাড়িয় গেল জনপ্রিয়তার শীর্ষে সেই হেফাজতে ইসলাম ও তার কর্মীরা নাকি কোরআন পুড়িয়েছে যারা কোরআনের জন্য নিজের জীবন দিতে কোনঠাশাবোধ করে না তাদের উপর যদি তুহমত বা অপবাদ দেয়া হয় যে তারা কোরআন পুড়িয়েছে তা কি কোন সাধারণ জ্ঞানের অধিকারী বিশ্বাস করবে? আমরা মনে করি সরকার এ ব্যাপারে বক্তৃতা না বাড়িয়ে টিভি ফুটেজ দেখে জাতির কাছে সত্য উন্মোচন করবে। দায়ীদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনবে। হেফাজত কর্মীদের উপর গণহত্যার পরিসংখ্যান নির্ণয়ের লক্ষে এবং হতাহতের ন্যায় বিচার নিশ্চিতের জন্ শরীফ খালেদ সাইফুল্লাহ

মন্তব্য করুন