ভোটের রাজনীতিতে সরব যুক্তরাজ্য: বিএনপির আ:লীগ ও জাপা নেতারা মনোনয়ন চান

আগস্ট ১২, ২০১৩, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ এই সংবাদটি ২ বার পঠিত

বৃহত্তর সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় অর্থনীতি,সামাজিকতা থেকে শুরু করে রাজনীতি সবখানেই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ওয়ান ইলেভেনের ক্রান্তিলগ্নে,কিংবা সিডর ঘুর্নিঝড়ে প্রবাসীদের রয়েছে গৌরব উজ্জল ইতিহাস। গত কয়েক প্রজন্ম ধরেই বৃহত্তর সিলেটে ইউনিয়ন নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সর্বত্রই প্রভাবকের ভুমিকা পালন করে আসছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা। অনেক প্রবাসী আছেন যারা যুক্তরাজ্যে কিংবা দেশেও কোন রাজনৈতিক দলের সাথে স¤পৃক্ত না থাকলেও নির্বাচনের মৌসুমে নিজ এলাকার প্রার্থীদের আব্দার পুরনে কখনোই পিছপা হন না তারা। পছন্দের প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যায়ের বড় অংশই মেটান এই প্রবাসী কমিউনিটির মানুষ। শুধু তাই নয় প্রিয় প্রার্থীকে জয়ী করতে নির্বাচনের আগে গনসংযোগের অভিপ্রায়ে দল বেধে দেশে ফেরেন লন্ডন প্রবাসীরা। অত:পর নিজেদের শ্রমে ঘামে জয়ের দেখা পান প্রিয় প্রার্থী। বৃহত্তর সিলেটে নির্বাচনের প্রশ্নে প্রিয় প্রার্থীর পক্ষে প্রবাসীদের এমন উদার্ত সহযোগীতার নজির দীর্ঘ কয়েক দশকের। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় এখন পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। প্রবাসী কমিউনিটির মানুষের দেশে-প্রবাসে রাজনীতিতে স¤পৃক্ততা আর রাজনীতি নিয়ে সচেতনতা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশের সাধারন মানুষও এখন আর রাজনীতিকদের গালভরা বুলি আর বক্তৃতা নয়,চান প্রকৃত উন্নয়ন,ভোটের আগে বিশ্লেষন করেন প্রার্থীদের । আর এসব কারনেই এখন আর প্রবাসীদের সমর্থিত প্রার্থী নন,একেবারে প্রবাসীদেরই সরাসরি প্রার্থী হিসেবে চাইছেন বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার মানুষ। কারন হিসেবে তারা বলছেন,অতীতের কয়েকটি নির্বাচনে প্রবাসীরা অংশগ্রহন করে বিজয়ী হয়েছেন এমন অভিঞ্জতা থেকে দেখা গেছে,প্রবাসী প্রার্থীরা অনেক সময় নিজেদের পকেটের অর্থ দিয়েই সাধারন মানুষের কল্যানে কাজ করতে পিছপা হন না। অনেক সময় সরকারী অর্থের অপ্রতুলতা বা বরাদ্দে বিলম্বের কারনে হয়ত সাধারন মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন একটি ছোট সংযোগ সড়ক মেরামতের জন্য। দেখা গেল ঐ এলাকার প্রবাসী এমপি বা চেয়ারম্যান নিজের পকেটের অর্থ ব্যায়ে কাজ স¤পন্ন করে দিচ্ছেন সড়কটির। কবরস্থান সংস্কার কিংবা অসচ্ছল পরিবারের বিয়ে,অসুস্থতা অথবা ঈদ পুজোতেও সুবিধা বঞ্চিত সাধারন মানুষের পাশে দাড়ান এসব আর্থিকভাবে সচ্ছলতা অর্জন করা প্রবাসীরা। আর বাংলাদেশের দুর্নীতি আক্রান্ত যাপিত ক্রান্তিলগ্নে এসব প্রবাসী রাজনীতিকরা তুলনামুলক পরিচ্ছন্ন এমন ধারনা সাধারন মানুষের। আর নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা থাকায় অন্তত এসব প্রবাসী রাজনীতিবিদরা নিমজ্জিত হবেন না আর্থিক দুর্নীতিতে,কিংবা এলাকার নগ্ন ভিলেজ কোন্দল আর হানাহানি-সংঘাতের রাজনীতিতে,এমন আশাবাদ থেকে গত কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে,প্রবাসী প্রার্থীদের ভোটাররা বরন করে নিয়েছেন পরম বিশ্বস্ততায়। নিজেদের পবিত্র আমানত ভোট‘টি নিরাপদে থাকুক,আমানতের খিয়ানত হবে না এমন কামনা থেকে ভোটাররা ঝুঁকছেন প্রবাসী প্রার্থীদের দিকে। আর দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যারা সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছেন,এমন প্রবাসী শীর্ষ নেতাদের অনেকেরই লালিত সপ্ন দেশে গিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে প্রিয় জন্মভুমির মানুষের জন্য কাজ করবার। এ দুইয়ের সন্মিলনে বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহত্তর সিলেটের ১৯ আসনের বেশ কয়েকটিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বিএনপি-আওয়ামীলীগ-জাতীয় পার্টির যুক্তরাজ্য প্রবাসী মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।আর গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের বড় তিন রাজনৈতিক দলের কয়েকগুন বেশি প্রার্থী মনোনয়ন লড়াইয়ে অবতীর্ন হয়েছেন। বর্তমান সংসদে আছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী তিন সাংসদ। তারা হলেন ,কিশোরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত ও আওয়ামীলীগের সাধারন স¤পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম,সিলেট-২ আসনে শফিকুর রহমান চৌধুরী,আর নবীগঞ্জ থেকে নির্বাচিত শেখ সুজাত মিয়া এমপি। বিশ্বনাথের উপজেলা চেয়ারম্যান এক সময়ের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুহিবুর রহমান,মৌলভীবাজারের পতনউষারের ইউপি চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী সেলিম আহমদ চৌধুরী সহ চেয়ারম্যান হয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী অনেকেই। আর বিএনপি আওয়ামীলীগ আর জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারনী একাধিক সুত্র জানিয়েছে,এবার যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের মধ্য থেকে আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জাপা এই তিন দলেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা বেড়েছে।এদের মধ্যে অনেকেই অন্তত চার প্রবাসী নেতা এবার দেশের তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে আগামী নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন এমন আভাস দিয়েছে একটি সুত্র। এর বাইরেও আসতে পারে চমক। আর বিএনপির সিনিওর ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক এগারোর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটের প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এতদিন নেপথ্যে থেকে তৎপরতা চালালেও বিএনপির রিজিওনাল প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে ফের যুক্তরাজ্য থেকেই নিজের রাজনৈতিক জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করেন তিনি।আগামী নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত দেশে না ফিরলে সেক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য থেকেই দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারেন তিনি। এক্ষেত্রে তিনি ঢাকার একটি ও বগুড়া-১ দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। একটি সুত্র জানায়,উদ্বুত কোন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে লন্ডনে অবস্থান করেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন তারেক। এ বিষয়ে নিজের আইনজীবিদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় আইনী ব্যাখ্যা স¤পর্কে অবগত হয়েছেন তারেক রহমান। আর এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা হচ্ছে,সাজাপ্রাপ্ত নন এমন বৈধ বাংলাদেশী নাগরিক নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। আর যেহেতু তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিচারাধীন কোন মামলায় এখনো সাজা হয়নি এবং তিনি বাংলাদেশী বৈধ নাগরিক সেক্ষেত্রে তিনি বিদেশে বা কারাগারে থেকেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে মত দিয়েছেন আইনজীবিরা। আর আগামী নির্বাচনে সকল আসনেই প্রার্থী তালিকা সহ বিএনপির সকল নীতিনির্ধারনী বিষয়েই লন্ডনে বসে নিবিড় পর্যালোচনা করছেন তারেক রহমান। আর এ কারনে দেশে-বিদেশে বিএনপির নেতাদের দৃষ্টি এখন লন্ডনের কিংসষ্টনে তারেক রহমানের ভাড়া করা বাড়িটির দিকে। তারেক রহমানের নেক নজরে আসতে বাংলাদেশের অনেক আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা নিয়মিত বিরতিতেই ধর্না দিচ্ছেন তারেক রহমানের সাক্ষাত পেতে নানা মাধ্যমে। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে লন্ডনে এসে দীর্ঘ অপেক্ষা করেও অনেকেই দেখা পাচ্ছেন না তারেক রহমানের। আর আওয়ামীলীগের পরিস্থিতি খুব ব্যাতিক্রম নয়। দলীয় সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এক সময় লন্ডনে তার চাচার বাসায় দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। তিনি যখন যুক্তরাজ্যে ছিলেন তখন সাংবাদিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী অনেককেই তিনি নিজ হাতে রান্না করেও খাইয়েছেন নিবিড় আন্তরিকতায়। শেখ হাসিনার একমাত্র বোন শেখ রেহানাও যুক্তরাজ্য প্রবাসী। তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত না থাকলেও যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ থেকে শুরু করে কমিউনিটির নাড়ি নক্ষত্র সবই তারঁ জানা। আর গত নির্বাচনে তার আগ্রহেই যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতা সেসময় সিলেটের একটি আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পান। এবারো শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্য সফর আর শেখ রেহানা তনয়া লন্ডনের ক্যামডেনের ক্যাউন্সিলার টিউলিপ সিদ্দিকের বিয়েকে ঘিরে দেখা গেছে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রবাসী নেতাদের নানামুখী তৎপরতা। আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের টিকেটে নির্বাচন করতে চান এমন অনেক প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতাই এখন শেখ রেহানার আশির্বাদ প্রার্থী। আর বঙ্গবন্ধু পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের আরেক আলোচিত নেত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। দেশে নয় যুক্তরাজ্যের মুলধারার রাজনীতিতেই যদিও সক্রিয় তিনি। সম্প্রতি লেবার পার্টি থেকে আগামী নির্বাচনে এমপি পদে মনোনয়নও পেয়েছেন তিনি। তার সাথেও অনেকে যোগাযোগ করছেন ব্যাক্তিগত স¤পর্কের সুত্র ধরে মনোনয়নের জন্য তদবিরের আবদারে।আর যুক্তরাজ্য জাপার দুই শীর্ষ নেতা এবার জাপার মনোনয়নে সিলেটের দুটি আসন থেকে নির্বাচন করছেন। ইতিমধ্যে তাদের মনোনয়নের দলীয় ঘোষনাও এসেছে। বিএনপি: আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতাদের মধ্যে মনোনয়ন চান অনেকেই। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা মহিদুর রহমান,যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারন স¤পাদক ব্যারিষ্টার এম এ সালামের নাম। এলাকায় তারা প্রচারনাও চালাচ্ছেন। মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান মহিদুর রহমান। ইতিমধ্যে বিএনপির রিজিওনাল প্রতিনিধি সভায় তারেক রহমানের উপস্থিতি আগামী নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে নামার ঘোষনাও দিয়েছেন তিনি। আর মৌলভীবাজার বিএনপির রাজনীতিতে নাসের রহমান বনাম খালেদা রব্বানী গ্রুপের প্রকট দ্বন্দের কারনে এই আসনে দলীয় ঐক্যের কাংখিত অনুঘটক হিসেবে আলোচিত হচ্ছে ক্লিনম্যান রাজনীতিক মহিদুর রহমানের নাম। নিজ নির্বাচনী এলাকায়ও যুক্তরাজ্য বিএনপির এই প্রবীন নেতার রয়েছে সর্বমহলে গ্রহনযোগ্যতা। এ ব্যাপারে বাংলাটাইমসের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে স¤পৃক্ত আছি। জীবনের এই পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে মৌলভীবাজার বাসীর সেবা করে যেতে চাই। আর দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে আমি পুরোপুরি আশাবাদী। সিলেট-৩ (দক্ষিন সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নের দাবিদার হিসেবে আলোচিত হচ্ছে সুবক্তা ও আলোচিত নেতা ব্যারিষ্টার এম এ সালামের নাম। যুক্তরাজ্যে বিএনপি রাজনীতির অন্যতম কান্ডারী তিনি। দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন দক্ষিন সুরমা ও সিলেট জেলা বিএনপির রাজনীতিতে। এ ব্যাপারে আলাপকালে তিনি বলেন,আমার রাজনীতির শুরু আমার গ্রাম থেকে। স্কুল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সক্রিয় ছিলাম ছাত্র রাজনীতিতে। এরপর গনরাজনীতিও শুরু করেছি আমার এলাকা থেকে। গত দুই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য দলের পার্লামেন্টারী বোর্ডে গিয়েছিলাম। অতীতের ত্যাগ বিবেচনায় এনে দল এবার মনোনয়নের ব্যাপারে আমাকে মুল্যায়ন করবে বলে আমি শতভাগ আশাবাদী। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া ও কমলগঞ্জের একাংশ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান সিলেট এমসি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ও বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অধ্যাপনারত অধ্যাপক ড. সাইফুল আলম চৌধুরী। বাংলাদেশ সরকারের বিসিএস ক্যাডারের সাবেক এই কর্মকর্তা চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা।স্কুল জীবন থেকে ছাত্রদল ও পরে বিএনপির রাজনীতিতে অতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন তিনি। মনোনয়নের ব্যাপারে তিনি বলেন,এলাকার মানুষ চান আমি প্রার্থী হই। আর দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সার্বিক বিবেচনায় দলের মনোনয়নের ব্যাপারে আমি পুরোপুরি আশাবাদী। আওয়ামীলীগঃ মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে মনোনয়ন চান যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের অন্যতম সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলার সি,আই,পি এম এ রহিম শহিদ। তিনি বিগত ৪ বছর ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী আসনে। তিনি ব্যক্তি উদ্দ্যেগে গড়ে তুলছেন স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্টান। প্রতি নিয়তই তিনি সারা এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন। চলতি রমজান মাসেও নির্বাচনী এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ইফতার মাহফিল আর ঈদ উপলক্ষে বিলবোর্ড, ব্যানার আর পোষ্টার, ঈদকার্ডের মাধ্যমে এম এ রহিমের সমন্বিত প্রচারনায় এ দুই উপজেলায় এসেছে নির্বাচনী আমেজ। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ, যুবলীগ-ছাত্রলীগ সহ সংগঠনের সকল পর্যায়েই রয়েছে তার প্রভাব। তিনিও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ঘনিষ্টজন হিসেবেই পরিচিত। দলীয় মনোনয়নের প্রশ্নে এম এ রহিম সাংবাদিকদের বলেন, সাধারন মানুষের সহযোগীতা- ভালবাসা আর নেত্রী শেখ হাসিনার ¯েœহেই রাজনীতিতে আমার এতদুর আসা। আসন্ন নির্বাচনে নেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে নির্বাচন করবো। সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নের দাবিদার তিন প্রার্থীই লন্ডন প্রবাসী। এরা হলেন বর্তমান সাংসদ ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন স¤পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী,যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন স¤পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও বিশ্বনাথের উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান। তবে আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের প্রশ্নে বেশি আলোচিত হচ্ছে বর্তমান সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরীর পাশাপাশি আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নাম। একসময় শফিক চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এই দুই নেতাই রাজনীতিতে নিবিড় আন্তরিকতার স¤পর্কে বাধাঁ থাকলেও মনোনয়নের প্রশ্নে তাদের অবস্থান ভিন্ন। শফিকুর রহমান চৌধুরী সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। আর সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন স¤পাদক আর সংসদ সদস্য হওয়ায় নিজ এলাকায় রয়েছে তার সংহত অবস্থান। তিনি দলীয় হাইকমান্ডের তথা শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ সাধারন স¤পাদক সৈয়দ আশরাফের ঘনিষ্ট নেতা হিসেবেই পরিচিত।সম্প্রতি লন্ডন সফরে এসে বিগত দিনে নিজ এলাকায় বর্ননা তুলে ধরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি বলেন,এলাকার অস¤পুর্ন উন্নয়ন কাজ স¤পন্ন করতে আমি আগামী নির্বাচনেও অতীতের মতো প্রবাসীদের সর্বাত্বক সহযোগীতা চাই। পাশাপাশি আনোয়ারুজ্জ
বৃহত্তর সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় অর্থনীতি,সামাজিকতা থেকে শুরু করে রাজনীতি সবখানেই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ওয়ান ইলেভেনের ক্রান্তিলগ্নে,কিংবা সিডর ঘুর্নিঝড়ে প্রবাসীদের রয়েছে গৌরব উজ্জল ইতিহাস। গত কয়েক প্রজন্ম ধরেই বৃহত্তর সিলেটে ইউনিয়ন নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সর্বত্রই প্রভাবকের ভুমিকা পালন করে আসছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা। অনেক প্রবাসী আছেন যারা যুক্তরাজ্যে কিংবা দেশেও কোন রাজনৈতিক দলের সাথে স¤পৃক্ত না থাকলেও নির্বাচনের মৌসুমে নিজ এলাকার প্রার্থীদের আব্দার পুরনে কখনোই পিছপা হন না তারা। পছন্দের প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যায়ের বড় অংশই মেটান এই প্রবাসী কমিউনিটির মানুষ। শুধু তাই নয় প্রিয় প্রার্থীকে জয়ী করতে নির্বাচনের আগে গনসংযোগের অভিপ্রায়ে দল বেধে দেশে ফেরেন লন্ডন প্রবাসীরা। অত:পর নিজেদের শ্রমে ঘামে জয়ের দেখা পান প্রিয় প্রার্থী। বৃহত্তর সিলেটে নির্বাচনের প্রশ্নে প্রিয় প্রার্থীর পক্ষে প্রবাসীদের এমন উদার্ত সহযোগীতার নজির দীর্ঘ কয়েক দশকের। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় এখন পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। প্রবাসী কমিউনিটির মানুষের দেশে-প্রবাসে রাজনীতিতে স¤পৃক্ততা আর রাজনীতি নিয়ে সচেতনতা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশের সাধারন মানুষও এখন আর রাজনীতিকদের গালভরা বুলি আর বক্তৃতা নয়,চান প্রকৃত উন্নয়ন,ভোটের আগে বিশ্লেষন করেন প্রার্থীদের । আর এসব কারনেই এখন আর প্রবাসীদের সমর্থিত প্রার্থী নন,একেবারে প্রবাসীদেরই সরাসরি প্রার্থী হিসেবে চাইছেন বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার মানুষ। কারন হিসেবে তারা বলছেন,অতীতের কয়েকটি নির্বাচনে প্রবাসীরা অংশগ্রহন করে বিজয়ী হয়েছেন এমন অভিঞ্জতা থেকে দেখা গেছে,প্রবাসী প্রার্থীরা অনেক সময় নিজেদের পকেটের অর্থ দিয়েই সাধারন মানুষের কল্যানে কাজ করতে পিছপা হন না। অনেক সময় সরকারী অর্থের অপ্রতুলতা বা বরাদ্দে বিলম্বের কারনে হয়ত সাধারন মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন একটি ছোট সংযোগ সড়ক মেরামতের জন্য। দেখা গেল ঐ এলাকার প্রবাসী এমপি বা চেয়ারম্যান নিজের পকেটের অর্থ ব্যায়ে কাজ স¤পন্ন করে দিচ্ছেন সড়কটির। কবরস্থান সংস্কার কিংবা অসচ্ছল পরিবারের বিয়ে,অসুস্থতা অথবা ঈদ পুজোতেও সুবিধা বঞ্চিত সাধারন মানুষের পাশে দাড়ান এসব আর্থিকভাবে সচ্ছলতা অর্জন করা প্রবাসীরা। আর বাংলাদেশের দুর্নীতি আক্রান্ত যাপিত ক্রান্তিলগ্নে এসব প্রবাসী রাজনীতিকরা তুলনামুলক পরিচ্ছন্ন এমন ধারনা সাধারন মানুষের। আর নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা থাকায় অন্তত এসব প্রবাসী রাজনীতিবিদরা নিমজ্জিত হবেন না আর্থিক দুর্নীতিতে,কিংবা এলাকার নগ্ন ভিলেজ কোন্দল আর হানাহানি-সংঘাতের রাজনীতিতে,এমন আশাবাদ থেকে গত কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে,প্রবাসী প্রার্থীদের ভোটাররা বরন করে নিয়েছেন পরম বিশ্বস্ততায়। নিজেদের পবিত্র আমানত ভোট‘টি নিরাপদে থাকুক,আমানতের খিয়ানত হবে না এমন কামনা থেকে ভোটাররা ঝুঁকছেন প্রবাসী প্রার্থীদের দিকে। আর দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যারা সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছেন,এমন প্রবাসী শীর্ষ নেতাদের অনেকেরই লালিত সপ্ন দেশে গিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে প্রিয় জন্মভুমির মানুষের জন্য কাজ করবার। এ দুইয়ের সন্মিলনে বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহত্তর সিলেটের ১৯ আসনের বেশ কয়েকটিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বিএনপি-আওয়ামীলীগ-জাতীয় পার্টির যুক্তরাজ্য প্রবাসী মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।আর গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের বড় তিন রাজনৈতিক দলের কয়েকগুন বেশি প্রার্থী মনোনয়ন লড়াইয়ে অবতীর্ন হয়েছেন। বর্তমান সংসদে আছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী তিন সাংসদ। তারা হলেন ,কিশোরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত ও আওয়ামীলীগের সাধারন স¤পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম,সিলেট-২ আসনে শফিকুর রহমান চৌধুরী,আর নবীগঞ্জ থেকে নির্বাচিত শেখ সুজাত মিয়া এমপি। বিশ্বনাথের উপজেলা চেয়ারম্যান এক সময়ের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুহিবুর রহমান,মৌলভীবাজারের পতনউষারের ইউপি চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী সেলিম আহমদ চৌধুরী সহ চেয়ারম্যান হয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী অনেকেই। আর বিএনপি আওয়ামীলীগ আর জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারনী একাধিক সুত্র জানিয়েছে,এবার যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের মধ্য থেকে আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জাপা এই তিন দলেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা বেড়েছে।এদের মধ্যে অনেকেই অন্তত চার প্রবাসী নেতা এবার দেশের তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে আগামী নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন এমন আভাস দিয়েছে একটি সুত্র। এর বাইরেও আসতে পারে চমক। আর বিএনপির সিনিওর ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক এগারোর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটের প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এতদিন নেপথ্যে থেকে তৎপরতা চালালেও বিএনপির রিজিওনাল প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে ফের যুক্তরাজ্য থেকেই নিজের রাজনৈতিক জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করেন তিনি।আগামী নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শেষ পর্যন্ত দেশে না ফিরলে সেক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য থেকেই দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারেন তিনি। এক্ষেত্রে তিনি ঢাকার একটি ও বগুড়া-১ দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। একটি সুত্র জানায়,উদ্বুত কোন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে লন্ডনে অবস্থান করেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন তারেক। এ বিষয়ে নিজের আইনজীবিদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় আইনী ব্যাখ্যা স¤পর্কে অবগত হয়েছেন তারেক রহমান। আর এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা হচ্ছে,সাজাপ্রাপ্ত নন এমন বৈধ বাংলাদেশী নাগরিক নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। আর যেহেতু তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিচারাধীন কোন মামলায় এখনো সাজা হয়নি এবং তিনি বাংলাদেশী বৈধ নাগরিক সেক্ষেত্রে তিনি বিদেশে বা কারাগারে থেকেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে মত দিয়েছেন আইনজীবিরা। আর আগামী নির্বাচনে সকল আসনেই প্রার্থী তালিকা সহ বিএনপির সকল নীতিনির্ধারনী বিষয়েই লন্ডনে বসে নিবিড় পর্যালোচনা করছেন তারেক রহমান। আর এ কারনে দেশে-বিদেশে বিএনপির নেতাদের দৃষ্টি এখন লন্ডনের কিংসষ্টনে তারেক রহমানের ভাড়া করা বাড়িটির দিকে। তারেক রহমানের নেক নজরে আসতে বাংলাদেশের অনেক আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা নিয়মিত বিরতিতেই ধর্না দিচ্ছেন তারেক রহমানের সাক্ষাত পেতে নানা মাধ্যমে। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে লন্ডনে এসে দীর্ঘ অপেক্ষা করেও অনেকেই দেখা পাচ্ছেন না তারেক রহমানের। আর আওয়ামীলীগের পরিস্থিতি খুব ব্যাতিক্রম নয়। দলীয় সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এক সময় লন্ডনে তার চাচার বাসায় দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। তিনি যখন যুক্তরাজ্যে ছিলেন তখন সাংবাদিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী অনেককেই তিনি নিজ হাতে রান্না করেও খাইয়েছেন নিবিড় আন্তরিকতায়। শেখ হাসিনার একমাত্র বোন শেখ রেহানাও যুক্তরাজ্য প্রবাসী। তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত না থাকলেও যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ থেকে শুরু করে কমিউনিটির নাড়ি নক্ষত্র সবই তারঁ জানা। আর গত নির্বাচনে তার আগ্রহেই যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতা সেসময় সিলেটের একটি আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পান। এবারো শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্য সফর আর শেখ রেহানা তনয়া লন্ডনের ক্যামডেনের ক্যাউন্সিলার টিউলিপ সিদ্দিকের বিয়েকে ঘিরে দেখা গেছে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রবাসী নেতাদের নানামুখী তৎপরতা। আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের টিকেটে নির্বাচন করতে চান এমন অনেক প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতাই এখন শেখ রেহানার আশির্বাদ প্রার্থী। আর বঙ্গবন্ধু পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের আরেক আলোচিত নেত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। দেশে নয় যুক্তরাজ্যের মুলধারার রাজনীতিতেই যদিও সক্রিয় তিনি। সম্প্রতি লেবার পার্টি থেকে আগামী নির্বাচনে এমপি পদে মনোনয়নও পেয়েছেন তিনি। তার সাথেও অনেকে যোগাযোগ করছেন ব্যাক্তিগত স¤পর্কের সুত্র ধরে মনোনয়নের জন্য তদবিরের আবদারে।আর যুক্তরাজ্য জাপার দুই শীর্ষ নেতা এবার জাপার মনোনয়নে সিলেটের দুটি আসন থেকে নির্বাচন করছেন। ইতিমধ্যে তাদের মনোনয়নের দলীয় ঘোষনাও এসেছে। বিএনপি: আসন্ন নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতাদের মধ্যে মনোনয়ন চান অনেকেই। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা মহিদুর রহমান,যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারন স¤পাদক ব্যারিষ্টার এম এ সালামের নাম। এলাকায় তারা প্রচারনাও চালাচ্ছেন। মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান মহিদুর রহমান। ইতিমধ্যে বিএনপির রিজিওনাল প্রতিনিধি সভায় তারেক রহমানের উপস্থিতি আগামী নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে নামার ঘোষনাও দিয়েছেন তিনি। আর মৌলভীবাজার বিএনপির রাজনীতিতে নাসের রহমান বনাম খালেদা রব্বানী গ্রুপের প্রকট দ্বন্দের কারনে এই আসনে দলীয় ঐক্যের কাংখিত অনুঘটক হিসেবে আলোচিত হচ্ছে ক্লিনম্যান রাজনীতিক মহিদুর রহমানের নাম। নিজ নির্বাচনী এলাকায়ও যুক্তরাজ্য বিএনপির এই প্রবীন নেতার রয়েছে সর্বমহলে গ্রহনযোগ্যতা। এ ব্যাপারে বাংলাটাইমসের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে স¤পৃক্ত আছি। জীবনের এই পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে মৌলভীবাজার বাসীর সেবা করে যেতে চাই। আর দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে আমি পুরোপুরি আশাবাদী। সিলেট-৩ (দক্ষিন সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নের দাবিদার হিসেবে আলোচিত হচ্ছে সুবক্তা ও আলোচিত নেতা ব্যারিষ্টার এম এ সালামের নাম। যুক্তরাজ্যে বিএনপি রাজনীতির অন্যতম কান্ডারী তিনি। দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন দক্ষিন সুরমা ও সিলেট জেলা বিএনপির রাজনীতিতে। এ ব্যাপারে আলাপকালে তিনি বলেন,আমার রাজনীতির শুরু আমার গ্রাম থেকে। স্কুল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সক্রিয় ছিলাম ছাত্র রাজনীতিতে। এরপর গনরাজনীতিও শুরু করেছি আমার এলাকা থেকে। গত দুই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য দলের পার্লামেন্টারী বোর্ডে গিয়েছিলাম। অতীতের ত্যাগ বিবেচনায় এনে দল এবার মনোনয়নের ব্যাপারে আমাকে মুল্যায়ন করবে বলে আমি শতভাগ আশাবাদী। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া ও কমলগঞ্জের একাংশ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান সিলেট এমসি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ও বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অধ্যাপনারত অধ্যাপক ড. সাইফুল আলম চৌধুরী। বাংলাদেশ সরকারের বিসিএস ক্যাডারের সাবেক এই কর্মকর্তা চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা।স্কুল জীবন থেকে ছাত্রদল ও পরে বিএনপির রাজনীতিতে অতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন তিনি। মনোনয়নের ব্যাপারে তিনি বলেন,এলাকার মানুষ চান আমি প্রার্থী হই। আর দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সার্বিক বিবেচনায় দলের মনোনয়নের ব্যাপারে আমি পুরোপুরি আশাবাদী। আওয়ামীলীগঃ মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে মনোনয়ন চান যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের অন্যতম সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলার সি,আই,পি এম এ রহিম শহিদ। তিনি বিগত ৪ বছর ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী আসনে। তিনি ব্যক্তি উদ্দ্যেগে গড়ে তুলছেন স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্টান। প্রতি নিয়তই তিনি সারা এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন। চলতি রমজান মাসেও নির্বাচনী এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ইফতার মাহফিল আর ঈদ উপলক্ষে বিলবোর্ড, ব্যানার আর পোষ্টার, ঈদকার্ডের মাধ্যমে এম এ রহিমের সমন্বিত প্রচারনায় এ দুই উপজেলায় এসেছে নির্বাচনী আমেজ। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ, যুবলীগ-ছাত্রলীগ সহ সংগঠনের সকল পর্যায়েই রয়েছে তার প্রভাব। তিনিও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ঘনিষ্টজন হিসেবেই পরিচিত। দলীয় মনোনয়নের প্রশ্নে এম এ রহিম সাংবাদিকদের বলেন, সাধারন মানুষের সহযোগীতা- ভালবাসা আর নেত্রী শেখ হাসিনার ¯েœহেই রাজনীতিতে আমার এতদুর আসা। আসন্ন নির্বাচনে নেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে নির্বাচন করবো। সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নের দাবিদার তিন প্রার্থীই লন্ডন প্রবাসী। এরা হলেন বর্তমান সাংসদ ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন স¤পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী,যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন স¤পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও বিশ্বনাথের উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান। তবে আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের প্রশ্নে বেশি আলোচিত হচ্ছে বর্তমান সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরীর পাশাপাশি আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর নাম। একসময় শফিক চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এই দুই নেতাই রাজনীতিতে নিবিড় আন্তরিকতার স¤পর্কে বাধাঁ থাকলেও মনোনয়নের প্রশ্নে তাদের অবস্থান ভিন্ন। শফিকুর রহমান চৌধুরী সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। আর সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন স¤পাদক আর সংসদ সদস্য হওয়ায় নিজ এলাকায় রয়েছে তার সংহত অবস্থান। তিনি দলীয় হাইকমান্ডের তথা শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ সাধারন স¤পাদক সৈয়দ আশরাফের ঘনিষ্ট নেতা হিসেবেই পরিচিত।সম্প্রতি লন্ডন সফরে এসে বিগত দিনে নিজ এলাকায় বর্ননা তুলে ধরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি বলেন,এলাকার অস¤পুর্ন উন্নয়ন কাজ স¤পন্ন করতে আমি আগামী নির্বাচনেও অতীতের মতো প্রবাসীদের সর্বাত্বক সহযোগীতা চাই। পাশাপাশি আনোয়ারুজ্জ এম শাহজাহান আহমদ॥

মন্তব্য করুন