রহস্যে ঘেরা মাধবকুন্ডে ৩২ বছরে ৩২ পর্যটকের প্রাণহানি

আগস্ট ১৩, ২০১৩, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ এই সংবাদটি ২ বার পঠিত

মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে গত ৩২ বছরে ৩২ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যূ হয়েছে। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে এ পর্যন্ত যেসব মেধাবী ছাত্রের করুন মৃত্যূ হয়েছে কেবল জসিম শেখ ছাড়া তারা সকলেই পিতামাতার একমাত্র সন্তান। সচেতন মহল থেকে বারবার অনাকাঙ্খিত মৃত্যূ প্রতিরোধের দাবী উঠলেও তা উপেক্ষিতই রয়ে গেছে। ফলে প্রতিবছর মৃত্যূর এ তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট কু-ের পানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হয় গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর গ্রামের মুদি দোকানদার আশিক শেখের পুত্র জসিম শেখ (১৯)। সে উত্তরা ক্যামব্রিয়ান স্কুল এ- কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। প্রায় ২০ ঘণ্টা পর গতকাল ১২ আগষ্ট সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে পাথরের ভাঁজে আটকে থাকাবস্থায় লাশ উদ্ধার করে ডুবুরিদল। এ সময় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে প্রাণ পেয়ে সহপাঠিদের সহায়তায় উদ্ধার হয় অপর কলেজ ছাত্র শেখ শেখ দিদারুল আলম (১৮)। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় দেশের অন্যতম পিকনিক স্পট মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের অবস্থান। প্রায় ২শ’ ফুট উঁচু চুড়ায় উঠতে গিয়ে অনেকেই পা ফসকে নিচে পড়ে যান। আর তখনই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। আবার জলপ্রপাতের নিচে সাঁতার কাটতে ও গোসল করতে নেমে পানির নিচে তলিয়ে অনেকের মৃত্যু ঘটেছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণে প্রতি বছরই মাধবকু- জলপ্রপাত বেড়াতে যাওয়া এক বা একাধিক পর্যটকের অপ্রত্যাশিত মৃত্যু ঘটছে। যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী, পিতামাতার একমাত্র সন্তান এবং অল্পবয়সী। শোকাহত পরিবারগুলোর প্রশ্ন আর কত প্রাণ যাবে রহস্যে ঘেরা এই মাধবকু-ে। একটি মৃত্যুর ঘটনার পর নানা পরিকল্পনা নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় মাধবকু- রীতিমতো মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। কু-ের গভীরতার বিপজ্জনক দিক সম্পর্কে না জেনেই পানিতে নেমে লম্ফঝম্ফ বা সাঁতার কাটতে থাকেন আগন্তুকরা। জলরাশি গড়িয়ে পড়ার স্থান অর্থাৎ গভীর কু-ে পৌঁছে গেলে পাথরের খাঁজে আটকে গিয়ে তারা আর উঠে আসতে পারে না। এমনকি নিয়ম না মেনেই জলপ্রপাতের প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতার পাহাড়ে উঠে পড়েন অনেকেই। পাহাড়ের ওপর জল পড়ার স্থানটি খুবই পিচ্ছিল ও ভয়ংকর। আর এতে পা পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যু ঘটে থাকে। মাধবকু- এলাকায় বসবাসরত লোকজন জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা আবেগ ও উচ্ছ্বাসে কু-ের পানিতে নেমে সাঁতার কাটতে গিয়ে এবং পাহাড়ের চূড়োয় ওঠে পা পিছলে নিচে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে পথ প্রদর্শক নিয়োগ অথবা বিপদজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেস্টনি দেয়া হলে এসব দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। নতুবা মাধবকু- পর্যটকদের জন্যে মৃত্যুকূপ হয়ে থাকবে অনন্তকাল। এলাকাবাসী, বনবিভাগসহ একাধিক সূত্র জানায়, ১৯৮০ সালে জুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ধনঞ্জয় দে কু-ের পানিতে নেমে গোসল করার সময় পাথরের খাঁজে আটকে যান। তখন বাঁচার প্রাণপণ চেষ্টায় শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে পাথরে ধাক্কা দিয়ে কোনোমতে ওপরে ভেসে উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন। ২০০২ সালে সিলেট শাহজালাল ইউনিভার্সিটির দু’ছাত্র পাহাড়ের চূড়ো থেকে নীচে পড়ে প্রাণ হারায়। ২০০৪ সালের ৩ জানুয়ারি সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার গণিপুর গ্রামের স্কুলছাত্রী তাহমিনা হারুন চৌধুরী (১১), ওই বছরের ৯ জানুয়ারি সিলেটের কুয়ারপাড় এলাকার ব্রিটিশ-আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানির কর্মচারী মোহাম্মদ আলী মিনু (২০), ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী ফারজানা ইসলাম বহ্নি (২০), ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ইসলাম (২৫) এবং ৩০ জুলাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শহীদুর রহমান শাহেদ (২৩), ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে কুলাউড়া উপজেলার করেরগ্রামের আরো এক ব্যক্তি কু-ের পানিতে গোসল করতে নেমে মারা যান। ২০০৭ সালের ২৫ মে ঢাকার সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএ চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আনিসুর রহমান (২৩) সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার একদিন পর তার মৃতদেহ ভেসে ওঠে। ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় ঢাকার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ফতেহ মোঃ শাহী। পরদিন ডুবুরিরা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ২০০৯ সালের ২ আগস্ট সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ঢাকার উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র খন্দকার রাহিমুল ইসলাম রিয়াল (১৯)। ২০১১ সালের ১২ মার্চ ওপর থেকে নীচে পড়ে নিখোঁজ হয় গাজীপুর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের ডুমবাাড়িচালা গ্রামের মুক্তার পাটোয়ারীর একমাত্র পুত্র চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র পারভেজ আহমদ বাপ্পী। ঠিক একই সময় বাপ্পীর দুলাভাই ফিরোজ মিয়া (৩০) উপর থেকে কু-ের পানিতে পড়লেও অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে যান। জলপ্রপাতের ওপর থেকে নীচে পড়ে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা এটিই ছিলো প্রথম। প্রায় ১৭ ঘন্টা পর বাপ্পীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০১২ সালের ১২ মার্চ বড়লেখা সদর ইউনিয়নের উত্তর রাঙ্গাউটি গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে রুমানা বেগম (১৮) প্রেমিকের সাথে বেড়াতে গিয়ে পাহাড়ের ওপর থেকে পড়ে রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। ২০১২ সালের ৮ জুন ঢাকার মিরপুর-২ এর বাসিন্দা মেধাবী ছাত্র মুন্না (১৪), শাহরিয়ার (১৬) ও আশিক (১৮) কু-ের পানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৬ ঘন্টা পর তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে সিলেটের ডুবুুরিরা। তবে তিনজনই সাঁতার জানতো না বলে সাথে আসা আরো ৫ সহপাঠী এ তথ্য জানায়। এক একটি মৃত্যুর ঘটনার পর নানা পরিকল্পনা নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি অদ্যাবধি। ফলে প্রতি বছরই বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। মাধবকু-ের এসব বিপজ্জনক দিক সম্পর্কে পর্যটকদের সচেতন ও সাবধান করে দেয়ার জন্য কেবল সাইনবোর্ড টানানো এবং ক্ষেত্র বিশেষে মাইকিং ছাড়া আর কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি সংশি¬¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের। বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ আমিনুর রহমান জানান, বিষয়টি সংশি¬ষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মৃত্যু রোধে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল বাশার মিয়া জানান, ভবিষ্যতে যাতে মাধবকু- জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে যেনো আর কারো প্রাণহানি না ঘটে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। কু-ের বিপজ্জনক এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হলেও অদ্যাবধি কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে একেকটি মৃত্যুর জন্য তিনি বেড়াতে আসা পর্যটকদের দায়ি করেন।
মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে গত ৩২ বছরে ৩২ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যূ হয়েছে। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে এ পর্যন্ত যেসব মেধাবী ছাত্রের করুন মৃত্যূ হয়েছে কেবল জসিম শেখ ছাড়া তারা সকলেই পিতামাতার একমাত্র সন্তান। সচেতন মহল থেকে বারবার অনাকাঙ্খিত মৃত্যূ প্রতিরোধের দাবী উঠলেও তা উপেক্ষিতই রয়ে গেছে। ফলে প্রতিবছর মৃত্যূর এ তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট কু-ের পানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হয় গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর গ্রামের মুদি দোকানদার আশিক শেখের পুত্র জসিম শেখ (১৯)। সে উত্তরা ক্যামব্রিয়ান স্কুল এ- কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। প্রায় ২০ ঘণ্টা পর গতকাল ১২ আগষ্ট সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে পাথরের ভাঁজে আটকে থাকাবস্থায় লাশ উদ্ধার করে ডুবুরিদল। এ সময় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে প্রাণ পেয়ে সহপাঠিদের সহায়তায় উদ্ধার হয় অপর কলেজ ছাত্র শেখ শেখ দিদারুল আলম (১৮)। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় দেশের অন্যতম পিকনিক স্পট মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের অবস্থান। প্রায় ২শ’ ফুট উঁচু চুড়ায় উঠতে গিয়ে অনেকেই পা ফসকে নিচে পড়ে যান। আর তখনই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। আবার জলপ্রপাতের নিচে সাঁতার কাটতে ও গোসল করতে নেমে পানির নিচে তলিয়ে অনেকের মৃত্যু ঘটেছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণে প্রতি বছরই মাধবকু- জলপ্রপাত বেড়াতে যাওয়া এক বা একাধিক পর্যটকের অপ্রত্যাশিত মৃত্যু ঘটছে। যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী, পিতামাতার একমাত্র সন্তান এবং অল্পবয়সী। শোকাহত পরিবারগুলোর প্রশ্ন আর কত প্রাণ যাবে রহস্যে ঘেরা এই মাধবকু-ে। একটি মৃত্যুর ঘটনার পর নানা পরিকল্পনা নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় মাধবকু- রীতিমতো মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। কু-ের গভীরতার বিপজ্জনক দিক সম্পর্কে না জেনেই পানিতে নেমে লম্ফঝম্ফ বা সাঁতার কাটতে থাকেন আগন্তুকরা। জলরাশি গড়িয়ে পড়ার স্থান অর্থাৎ গভীর কু-ে পৌঁছে গেলে পাথরের খাঁজে আটকে গিয়ে তারা আর উঠে আসতে পারে না। এমনকি নিয়ম না মেনেই জলপ্রপাতের প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতার পাহাড়ে উঠে পড়েন অনেকেই। পাহাড়ের ওপর জল পড়ার স্থানটি খুবই পিচ্ছিল ও ভয়ংকর। আর এতে পা পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যু ঘটে থাকে। মাধবকু- এলাকায় বসবাসরত লোকজন জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা আবেগ ও উচ্ছ্বাসে কু-ের পানিতে নেমে সাঁতার কাটতে গিয়ে এবং পাহাড়ের চূড়োয় ওঠে পা পিছলে নিচে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে পথ প্রদর্শক নিয়োগ অথবা বিপদজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে কাঁটাতারের নিরাপত্তা বেস্টনি দেয়া হলে এসব দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। নতুবা মাধবকু- পর্যটকদের জন্যে মৃত্যুকূপ হয়ে থাকবে অনন্তকাল। এলাকাবাসী, বনবিভাগসহ একাধিক সূত্র জানায়, ১৯৮০ সালে জুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ধনঞ্জয় দে কু-ের পানিতে নেমে গোসল করার সময় পাথরের খাঁজে আটকে যান। তখন বাঁচার প্রাণপণ চেষ্টায় শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে পাথরে ধাক্কা দিয়ে কোনোমতে ওপরে ভেসে উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন। ২০০২ সালে সিলেট শাহজালাল ইউনিভার্সিটির দু’ছাত্র পাহাড়ের চূড়ো থেকে নীচে পড়ে প্রাণ হারায়। ২০০৪ সালের ৩ জানুয়ারি সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার গণিপুর গ্রামের স্কুলছাত্রী তাহমিনা হারুন চৌধুরী (১১), ওই বছরের ৯ জানুয়ারি সিলেটের কুয়ারপাড় এলাকার ব্রিটিশ-আমেরিকা টোব্যাকো কোম্পানির কর্মচারী মোহাম্মদ আলী মিনু (২০), ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ছাত্রী ফারজানা ইসলাম বহ্নি (২০), ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ইসলাম (২৫) এবং ৩০ জুলাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শহীদুর রহমান শাহেদ (২৩), ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে কুলাউড়া উপজেলার করেরগ্রামের আরো এক ব্যক্তি কু-ের পানিতে গোসল করতে নেমে মারা যান। ২০০৭ সালের ২৫ মে ঢাকার সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএ চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আনিসুর রহমান (২৩) সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার একদিন পর তার মৃতদেহ ভেসে ওঠে। ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় ঢাকার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ফতেহ মোঃ শাহী। পরদিন ডুবুরিরা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ২০০৯ সালের ২ আগস্ট সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ঢাকার উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র খন্দকার রাহিমুল ইসলাম রিয়াল (১৯)। ২০১১ সালের ১২ মার্চ ওপর থেকে নীচে পড়ে নিখোঁজ হয় গাজীপুর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের ডুমবাাড়িচালা গ্রামের মুক্তার পাটোয়ারীর একমাত্র পুত্র চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র পারভেজ আহমদ বাপ্পী। ঠিক একই সময় বাপ্পীর দুলাভাই ফিরোজ মিয়া (৩০) উপর থেকে কু-ের পানিতে পড়লেও অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে যান। জলপ্রপাতের ওপর থেকে নীচে পড়ে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা এটিই ছিলো প্রথম। প্রায় ১৭ ঘন্টা পর বাপ্পীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০১২ সালের ১২ মার্চ বড়লেখা সদর ইউনিয়নের উত্তর রাঙ্গাউটি গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে রুমানা বেগম (১৮) প্রেমিকের সাথে বেড়াতে গিয়ে পাহাড়ের ওপর থেকে পড়ে রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। ২০১২ সালের ৮ জুন ঢাকার মিরপুর-২ এর বাসিন্দা মেধাবী ছাত্র মুন্না (১৪), শাহরিয়ার (১৬) ও আশিক (১৮) কু-ের পানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৬ ঘন্টা পর তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে সিলেটের ডুবুুরিরা। তবে তিনজনই সাঁতার জানতো না বলে সাথে আসা আরো ৫ সহপাঠী এ তথ্য জানায়। এক একটি মৃত্যুর ঘটনার পর নানা পরিকল্পনা নেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি অদ্যাবধি। ফলে প্রতি বছরই বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। মাধবকু-ের এসব বিপজ্জনক দিক সম্পর্কে পর্যটকদের সচেতন ও সাবধান করে দেয়ার জন্য কেবল সাইনবোর্ড টানানো এবং ক্ষেত্র বিশেষে মাইকিং ছাড়া আর কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি সংশি¬¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের। বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ আমিনুর রহমান জানান, বিষয়টি সংশি¬ষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মৃত্যু রোধে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল বাশার মিয়া জানান, ভবিষ্যতে যাতে মাধবকু- জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে যেনো আর কারো প্রাণহানি না ঘটে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। কু-ের বিপজ্জনক এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হলেও অদ্যাবধি কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে একেকটি মৃত্যুর জন্য তিনি বেড়াতে আসা পর্যটকদের দায়ি করেন। এম. মছব্বির আলী :

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন