কোটি টাকা ব্যয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ কমলগঞ্জের চাম্পারায়-হামহাম রাস্তা উন্নয়ন কাজ দু’বছরেও শেষ হয়নি

ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০১৯, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১২৪ বার পঠিত

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত এলাকা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী চাম্পারায়-হামহাম রাস্তা উন্নয়ন কাজ দু’বছরেও শেষ হয়নি। রাস্তার পাকাকরণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বন্ধ রাখার কথা বললেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা আমলে নিচ্ছে না। পর্যটকের যাতায়াতের সুবিধার্থে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর চাম্পরায় চা বাগান থেকে-কলাবন বস্তি পর্যন্ত ১৮৫০ মিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়।
মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিন গেয়ে দেখা যায়, ঠিকাদারের লোকজন এখনও নরম পরিত্যক্ত ইটের খোয়া ব্যবহার করছেন এ রাস্তার উন্নয়ন কাজে। ঘটনাস্থল এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চা শ্রমিক জানান, এলাকাটি দুর্গম ও উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে। এ এলাকার খবর কেউ রাখতে চায় না। তবে প্রায় ১০/১২ বছর আগে এ এলাকার অদূরে কুরমা সংরক্ষিত গভীর অরণ্যে হামহাম জলপ্রপাত আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে এ রাস্তা ব্যবহার শুরু করে দেশী বিদেশী পর্যটকরা। এমনকি জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোকজনও এ রাস্তা ব্যবহার করে হামহাম জলপ্রপাত পরিদর্শণে যেতে গিয়ে এ রাস্তার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
অবশেষে সরকারী উদ্যোগে কমলগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাম্পারায় চা বাগান থেকে কলাবন বস্তি পর্যন্ত ১৮৫০ মিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করণের দরপত্র আহ্বান করে ২০১৭ সালের শেষ দিকে কাজ শুরু হয়। এর প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা। আর এ কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। উপজেলা সদর থেকে কমপক্ষে ২৫ কিলোমিটার দূরে কাজ হওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কেউ এ কাজটি ঠিকমত তদারকি করছেন না। ফলে ঠিকাদারের লোকজন সিডিউল না মেনে পরিত্যক্ত নরম ইটের খোয়া ব্যবহার করছেন রাস্তা পাকাকরণে। স্থানীয়ভাবে মৌখিকভাবে অভিযোগ শুনে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর পরিত্যক্ত নরম ইটের খোয়া পরিবর্তন করে সিডিউল অনুযায়ী ইটের খোয়া ব্যবহারে ঠিকাদারী সংস্থাকে নির্দেশনা দিলেও বুধবার ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ নির্দেশনা মানছেন না ঠিকাদার।
এ বিষয়ে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হান্নান নি¤œমানের কাজের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনাটি আমি এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করেও কোন কাজ হয়নি। গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।
ঠিকাদারী সংস্থা মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার মুহিবুর রহমান জয়নাল সাংবাদিকদের জানান, আসলে কাজটি হয়েছে তার প্রতিষ্ঠানের নামে। তবে মূলত কাজটি করছেন একজন প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার লোকজন। পরিত্যক্ত নরম ইটের খোয়া ব্যবহারের সত্যতা স্বীকার করে মুহিবুর রহমান আরও বলেন, এ বিষয়ে নাক না গলানোই ভাল।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মামুন ভূঁইয়া বলেন, পরিত্যক্ত ও নরম ইটের খোয়া পরিবর্তনের জন্য ঠিকাদারী সংস্থাকে চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, এ সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন দেশী-বিদেশী প্রচুর পর্যটক হামহাম জলপ্রপাতে যাতায়াত করে থাকেন। শুষ্ক মৌসুমে এই কাঁচা রাস্তায় যাতায়াকে কোন সমস্যা না হলেও বৃষ্টির সময় সড়কটি যানবাহন চলাচল এমনকি পায়ে হেটে চলাচলও কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে।
রাস্তাটির পাকাকরণের কাজ শুরু হলেও অনেকাংশে পরিত্যক্ত নরম ইটের খোয়া দিয়ে উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কমলগঞ্জ থেকে ঠিকাদারকে পরিত্যক্ত নরম ইটের খোয়া পরিবর্তন করে সিডিউলমত ইটের খোয়া ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হলেও সে নির্দেশনা মানছেন না ঠিকাদার।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”