প্লাস্টিক সামগ্রী ও পলিথিন ব্যবহারে আমাদের পরিবেশ মারাত্মক হুমকীর মুখে-পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী

ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০১৯, ৮:৪১ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ৯০ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ প্লাস্টিক সামগ্রী ও পলিথিন ব্যবহারে আমাদের পরিবেশ মারাত্মক হুমকীর মুখে। পরিবেশের এ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই জনগনকে অধিকহারে সচেতন হতে হবে।
বুধবার ১৩ ফেব্রুয়রি রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত এক সেমিনারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এম.পি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ÔÔSustainable Management of Plastic to Leverage Circular Economic and Achieve SDG in BangladeshÕÕ শীর্ষক উক্ত কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এম.পি এবং পরিবেশ সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক পলিথিনের কুফল থেকে দেশবাসীকে রক্ষার জন্য সরকার ইতিপূর্বে সারা দেশে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ ও বিক্রয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এর সাথে মানুষের দীর্ঘ দিনের অভ্যাস পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অর্থাৎ পলিথিন শপিং ব্যাগ বন্ধের আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বিভিন্ন উৎপাদনকারী কারখানা বন্ধ ও শপিং ব্যাগ জব্দ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগের অবাধ ব্যবহার বন্ধে ২০০৯ হতে এ পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৮ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে ও ৮৭৬.২১ টন পলিথিন জব্দ করা হয়েছে এবং ৪৭ টি অবৈধ পলিথিন কারখানা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, পরিবেশ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবেশের আবেদন সার্বজনীন। সকলের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতায় বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মকান্ডকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেবে।
পরিবেশ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এম.পি বলেন, পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে প্লাস্টিক। উদ্ভিদকুল, জলজ প্রাণি ও দ্বীপ অঞ্চলের প্রাণিরা প্লাস্টিক বর্জ্যরে জন্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ওই সকল প্রাণির বাসস্থান, খাদ্য গ্রহণের স্থান ও উদ্ভিদের খাদ্য গ্রহণের পথে বাধার সৃষ্টি করে। প্লাস্টিক বর্জ্যরে কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ পাখি মারা যায়। মানুষের থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণের জন্য প্লাস্টিকদূষণ পরোক্ষভাবে দায়ী। পণ্যের মোড়ক ও ব্যাগ হিসেবে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের শতকরা দুই ভাগের স্থান হচ্ছে মহাসাগরে। শুধুমাত্র আমেরিকাতে প্রতিবছর ৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহৃত হয়। বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার পৃথিবীকে ক্রমশ বসবাসের অনুপযোগী করে তুলছে। এ অবস্থায় আমাদের সকলকে প্লাস্টিক পণ্য এবং পলিথিন ব্যবহারে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে এবং জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”