বড়লেখায় পরিবহন ধর্মঘটে শিশুর মৃত্যু মামলা রুজুর ১০ দিনেও নেই কোন গ্রেফতার

নভেম্বর ১০, ২০১৮, ১:৫৮ অপরাহ্ণ এই সংবাদটি ১৯ বার পঠিত

বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বড়লেখায় ধর্মঘটী পরিবহন শ্রমিকদের তান্ডবে অ্যাম্বুলেন্সে সাতদিন বয়সি কন্যাশিশু মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা রুজুর ১০দিন পরও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। এতে মামলার বাদি হতাশায় ভুগছেন। তবে পুলিশের দাবি, তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

 মামলা ও শিশুর পরিবার থেকে জানা গেছে, বড়লেখার সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের প্রবাসী কুটন মিয়ার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৮ অক্টোবর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক শিশুটিকে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। শিশুর অভিভাবকরা অ্যাম্বুলেন্সে সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে পুরাতন বড়লেখা বাজার, দাসেরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্সটি পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্সটি চান্দগ্রাম নামক স্থানে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা তা আটকিয়ে চালককে মারধর ও প্রায় দেড়ঘণ্টা এখানে আটকে রাখে। এ অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। দুপুর দেড়টার দিকে গাড়ি ছাড়া পেয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সারাদেশে শুরু হয় তোলপাড়। ঝড় ওঠে নিন্দার। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পরিবহন শ্রমিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করতে ৩১ অক্টোবর দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। তাছাড়া শ্রমিকদের বিশৃঙ্খল এইসব কর্মকান্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও জানতে চান আদালত। পরদিন ৩১ অক্টোবর ওই শিশুর চাচা আকবর আলী অজ্ঞাত পরিচয়ে ১৬০ থেকে ১৭০ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন।

 মামলার বাদি নিহত শিশুর চাচা আকবর আলী শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, ‘ঘটনার পর পুলিশ খুব আন্তরিকতার সাথে মামলাটি নিয়েছে। কিন্তু মামলার ১০দিন পার হলেও পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করেনি। পুলিশ একদিন বাচ্চার ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পরে আর যোগাযোগ করেনি। আমরা চাই, ঘটনার মূল আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসিম উদ্দিন জানান, ঘটনার সাথে জড়িত অনেক আসামি গাঁ ঢাকা দিয়েছে। প্রকৃত আসামিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”